ভারতীয় এয়ারলাইনস থেকে আরো বেশি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ পাওয়ার আশা করছে বোয়িং। দেশটিতে উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এমন পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। প্রধান এভিয়েশন বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন নির্বাহী।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারী-পরবর্তী আকাশপথে চলাচল অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলো নিজেদের সক্ষমতা অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত হবে এবং ভারত অন্যান্য শীর্ষ প্রবৃদ্ধির বাজারকে ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বোয়িংয়ের আশা, দক্ষিণ এশিয়ার এয়ারলাইনসগুলো আগামী ২০ বছরে ২ হাজার ৩৪৫টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেবে।
বোয়িং ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট সলিল গুপ্তে বলেন, আমার ধারণা আরো কিছু ওয়াইড বডি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ আসবে। সেই সঙ্গে ভারত থেকে আরো ন্যারো বডির উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশও পাওয়া যাবে। ভারতের আকাশজুড়ে স্বল্পমূল্যের জেটের চাহিদা অনেক বেশি। এর মধ্যে ইন্ডিগো, স্পাইসজেট ও এয়ারএশিয়া ইন্ডিয়ার ন্যারো বডি উড়োজাহাজ বেশি।
তবে দেশটির ওয়াইড বডি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বোয়িং। কারণ সেখানে ভাড়ার যুদ্ধ ও উচ্চমূল্য পরিপূর্ণ সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০১২ সালে কিংফিশার এয়ারলাইনস এবং ২০১৯ সালে জেট এয়ারওয়েজ এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল।
ভারতের সবচেয়ে নতুন স্বল্পমূল্যের ক্যারিয়ান আকাসা এয়ার, টাটার এয়ার ইন্ডিয়া এবং দ্য জালান-কালরক কনসোর্টিয়ামের জেট এয়ারওয়েজ আবার বাজারে নিজের অংশীদারত্ব পুনরুদ্ধারের আশা করছে। ফলে বোয়িংও নতুন ও উপযোগী উড়োজাহাজ বাজারে নিয়ে এসেছে।
আকাসা ৭২টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ন্যারো বডি উড়োজাহাজ এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও টাটা গ্রুপের জয়েন্ট ভেঞ্চার ভিসতারা ছয়টি ৭৮৭টি ওয়াইড বডি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া ও জেট এয়ারওয়েজও নতুন ক্রয়াদেশ দিতে পারে। ভারতে বোয়িংয়ের সবচেয়ে বড় গ্রাহক স্পাইসজেট। এরই মধ্যে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি ১৫৫টি ম্যাক্স জেটের ক্রয়াদেশ দিয়েছে।
দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরে বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা শেষে গত বছর ভারতের নিয়ন্ত্রকরা ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজকে উড্ডয়নের জন্য ছাড়পত্র দিলেও লোকসানে থাকা এয়ারলাইনসগুলো বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার ক্ষেত্রে ধীরগতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি বোয়িংয়ের সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা আরো কিছু সময় অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।









