আমি-আপনি এই নগরীতে প্রতিদিনের যাতায়াতে সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্যের মুখোমুখি হচ্ছি। ভাড়া নৈরাজ্যর পাশাপাশি পিক আওয়ারে দরজা বন্ধ করে বাস চলাচলের কারণে মাঝপথের যাত্রীরা রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে পুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেও যান-বাহন পান না। একই দুরত্বে একেক বাসে একেক হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার সিটিং সার্ভিস গাড়ির গায়ে লিখে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার দিগুণ-তিনগুণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচগুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

আবার এসব সিটিং বাসে বাঁদুড়-ঝোলা করেও যাত্রী বহন করা হচ্ছে। একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, তথা এইসব সিটিং গাড়িতে দাঁড়িয়ে যাত্রী বহনের কারণে যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সাথে প্রায়শ বশচা, হাতাহাতি-মারামারির ঘটনাও ঘটছে। কিছুদিন যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেও প্রশাসন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিআরটিএ বা পুলিশ; কারো কোনো সহযোগিতা না পেয়ে এক সময় এই নৈরাজ্যর কাছে যাত্রীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

ঢাকা মহানগরীর যাত্রী সাধারণের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির ৫ সদস্যের একটি টিম বিগত ২০১৭ সালে আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর মাসব্যাপী নগরীতে চলাচলরত ১ হাজার ৩০টি বাস-মিনিবাসের যাত্রীসেবা, গাড়ির অবস্থা, ভাড়া, পারিপার্শ্বিক অবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি চালক, হেলপার, যাত্রী, মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিআরটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার কর্তৃক বাস ও মিনিবাসে ভাড়া নির্ধারণ করা আছে।

ঢাকা মহানগরীতে বাস ভাড়া (ব-সিরিজ) প্রতি কিলোমিটার ১.৭০ টাকা ও মিনিবাস ভাড়া (জ-সিরিজ) প্রতি কি.মি. ১.৬০ টাকা নির্ধারণ করা আছে। সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ কি.মি. পর্যন্ত বড় বাসে ৭ টাকা, মিনিবাসে ৫ টাকা হলেও নগরীতে চলাচলরত ৯৬ শতাংশ বাস-মিনিবাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত। তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়া বা সর্বনিম্ন ভাড়া কিছুই মানে না। নামমাত্র কিছু বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না। বিভিন্ন বাস কোম্পানি কর্তৃক তাদের পরিবহনের জন্য কোম্পানি প্রণীত ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার চার্ট অনুসরণ করে ভাড়া আদায় করা হয়। অথবা, বাসে ওঠার সময় হেলপারের মুখে উচ্চারিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে আরো দেখা গেছে, সরকার বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণে ২১টি বিষয় বিবেচনায় আনে। এসব বিষয়ের মধ্যে গাড়ির মূল্যসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অনান্য আনুসাঙ্গিক উপকরণের মূল্য ও মুনাফা ধরা হয় মালিকদের মর্জি মতো। কেননা, বিগত সময়গুলোতে বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মালিক-শ্রমিক-সরকার মিলেমিশে। এখানে যাত্রী প্রতিনিধি রাখা হয়নি, যাত্রীদের মতামত বা বার্গেইনিংয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক ক্রেতা ভোক্তা অধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। 

ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস লক্কর-ঝক্কড়। যেগুলো গড় ক্রয় মূল্য ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা। এগুলোকে নতুন বাস হিসেবে ৩৬ লাখ টাকা ক্রয় মূল্য, সোয়া ১১ লাখ টাকা ব্যাংকের সুদসহ ৪৭ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিটি বাসের ক্রয় মূল্য ধরে ভাড়া নিধার্রণ করা হয়েছে। এসব গাড়িতে যাত্রী যাতায়াতের গড় বোঝাই ধরা হয়েছে ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিটি বাস-মিনিবাস সিটিং হিসেবে যাতায়াত করবে। প্রতিটি ৫০ আসনের বাসে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে বাকি ১০ সিট খালি রেখে চলাচল করবে এটাই ভাড়া নির্ধারণের মূল কাঠামো।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক মিলেমিশে তাদের মর্জি মতো ভাড়া নির্ধারণ করলো; যাত্রী প্রতিনিধি বা যাত্রীদের মতামত দেয়ার সুযোগ দিলো না। এতে করে ৭ লাখ টাকা বাসের দাম ৪৭ লাখ টাকা ধরলো। যেখানে বাঁদুর-ঝোলা করে যাত্রী নেয়া হয় সেখানে ৮০ শতাংশ গড় বোঝাই ধরা হলো। দৈনিক ১২০০-১৫০০ টাকা সিএনজি জ্বালানি খরচের জায়গায় ২৯০০ টাকার সিএনজি খরচ, মাসে ৫ লিটার ইঞ্জিন ওয়েলের জায়গায় ৩০ লিটার খরচ, ৬০০ টাকার সাধারণ ইন্সুরেন্সের জায়গায় ৬০ হাজার টাকার কম্প্রিহেন্সিভ ইন্সুরেন্স ধরে ভাড়া নির্ধারণ করলো। 

প্রতিটি বাসে এখন ১ জন করে চালক-হেলপার। দুজনের মিলে বাস অপারেট  করলেও ভাড়া নির্ধারণে একজন চালক, তিনজন সুপারভাইজার, তিনজন হেলপারের দৈনিক বেতন যাত্রীর কাছ থেকে আদায় করলেন। এভাবে নানা খাতে অত্যাধিক খরচ ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ধরে যাত্রী ভাড়া একচেটিয়াভাবে বাড়ানোর পরও তা মানছেন না। 

অন্যদিকে, এসব গাড়িতে বাহারি রঙের সুন্দর সুন্দর সিটিং সার্ভিস, গেইটলক সার্ভিস স্টিকার লাগানো থাকলেও প্রকৃতপক্ষে বাহনগুলো চলতে চলতে বয়সের ভারে ন্যুজ। বহুবছর আগে এই গাড়িগুলোর ইকনোমিক লাইফ শেষ হয়েছে। যানগুলোর হাঁড়-মাংস কিছুই নেই। ভেতরের অবস্থা আরো খারাপ। কোনো কোনো বাসে ৫/৭টি পর্যন্ত আসন ভেঙে গেছে। ফ্যান নেই, দরজা-জানালার কাঁচ ভাঙা। পা-দানি নষ্ট, দুই সিট এমনভাবে তৈরি যাতে দুজন যাত্রীও বসা যায় না। সিটের কুশন নেই। কোনো কোনো বাসে যাত্রীদের মেরুদণ্ড সোজা করে বসতে হয়। প্রতিটি বাসে অতিরিক্ত আসন সংযোজন করা। চালকের পাশে ইঞ্জিনের উপর নারী ও শিশুর জন্য ১০টি আসন বসানো। কোনো বাসের হ্যান্ডেল ভাঙা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। অপরিচ্ছন্ন নোংরা আসনে যাত্রীরা বসতেই কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। সিট বা পাশের প্লেট খুলে যাত্রীর শরীরে বিঁধছে। সিট থেকে উঠতে গেলে কাপড় ছিঁড়ে যাচ্ছে। ৫২ থেকে ৬০ আসনের বড় বাসে দুটি দরজা রাখা বাধ্যতামূলক হলেও ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত বাসগুলো এক দরজায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঝুকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করছে। এসব বাসের দরজা সামনের অংশে থাকায় বয়স্ক, অসুস্থ, নারী-শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ অবর্ণনীয় দূর্ভোগে পড়ছে। পেছনের আসনে বসা একজন যাত্রী জরুরিভাবে নামতে চাইলেও পারেন না। বছরের পর বছর চলতে থাকা এসব অনিয়ম দূর করতে কেউ এগিয়ে আসছে না। প্রকৃতপক্ষে সিটিং সার্ভিসের কথা বলা হলেও এইসব গাড়িতে সাচ্ছন্দে যাতায়াতের কোনো পরিবেশ নেই বলেই মধ্যবিত্তরা প্রাইভেট কারের দিকে ঝুঁকছে।

যেখানে সেখানে ইচ্ছামতো দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়; নামানোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। আবার দুয়েকটি সিট খালি থাকলে প্রতিটি স্টপেজে বাস দাঁড় করিয়ে পাঁচ-দশ মিনিট ধরে ডাকাডাকি চলে। পিক আওয়ারে এসব গাড়িতে সিটিংয়ের ভাড়া নিয়েও বাঁদুর-ঝোলা করে যাত্রী নেয় বলে এইসব গাড়িতে হয়রানি ও অনিয়ম অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি। 

আজ থেকে চার বছর আগে গণমাধ্যম সরব হলে সরকার করে সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিও বেশ কয়েকটি সভা আয়োজন করে একাধিক সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যাগুলোও সমাধান হয়নি। নগরবাসীও সমস্যাগুলোকে ক্যানসারের ক্ষত হিসেবে বয়ে বেড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বিগত ২ দশক ধরে যাত্রী সাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। দেশের সরকার নিবন্ধিত একমাত্র সংগঠন এটি। দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠন সরকারের বাসভাড়া নির্ধারণ কমিটি, সিএনজি চালিত অটোরিক্সার ভাড়া নির্ধারণ কমিটি, আঞ্চলিক পরিবহন কমিটিসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী কমিটিসমূহে নিয়মিত প্রতিনিধিত্ব করে আসলেও বিগত কয়েক বছর যাবৎ মালিক-শ্রমিকদের এক চেটিয়া প্রভাব দেখা যায়। সেক্টরটিতে যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য ও পরিবহনে বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা দিনদিন বাড়ছে। ফলে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি ব্যহত হচ্ছে। আমরা মনে করি, সরকার যদি এইসব নৈরাজ্য বন্ধে আন্তরিক হয়, তাহলে মালিক শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রী সাধারণের কথা, তাদের সুখ-দুঃখ, অভাব অভিযোগ লাঘব হবে। যাত্রী প্রতিনিধিকে বার্গেইনিংয়ের সুযোগ করে দিতে হবে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্টির স্বার্থে নই, আমরা দেশের যাত্রী সাধারণের স্বার্থে সব সময় সোচ্চার ছিলাম আগামী দিনেও যাত্রী অধিকার রক্ষায় যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনায় অঙ্গিকারাবদ্ধ।

সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির কয়েকটি প্রস্তাবনা দিচ্ছে-  এক. সরকার নির্ধারিত ভাড়ায়; নির্ধারিত স্টপেজ অনুযায়ী সিটিং সার্ভিস বাস চালাতে হবে। ভাড়ার অঙ্ক ও দুরত্ব উল্লেখ করে টিকিট দিয়ে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করতে হবে। সুস্পষ্ট ভাড়ার তালিকা বাসে ও বাস কাউন্টারে প্রর্দশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। দুই. সিটিং সার্ভিসে মালিকদের মর্জিমতো ভাড়া আদায় ও স্টপেজ নির্ধারণ করা যাবে না। মাঝপথে যেকোনো স্টপেজে নামলে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। কয়টি স্টপেজ থাকবে যা সরকার-মালিক-শ্রমিক-যাত্রী প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। তিন. মালিকরা চালকদের কাছে দৈনিক চুক্তিতে বাস ইজারা দেয়া যাবে না। চার. প্রতিটি সিটিং সার্ভিসের বাসের আসন থাকবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, বাহ্যিক দিক থেকে দেখতে দৃষ্টি নন্দন। দরজা-জানালা কাঁচ ঠিক থাকবে। এইসব বাসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফ্যানের ব্যবস্থা থাকবে। জানালার পর্দা ও সিট কভারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সময়ে সময়ে এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। পাঁচ.  প্রতিটি সিটিং সার্ভিস বাসে নিবন্ধনে অনুমোদিত আসনের অতিরিক্ত আসন থাকতে পারবে না। আসন আরামদায়ক হতে হবে। ছয়. প্রতিটি সিটিং সার্ভিস বাসে নারী-শিশু-বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও অসুস্থ যাত্রীদের ওঠা-নামায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষণ করতে হবে। সাত. ঢাকা শহরের চলাচলরত মোট বাসের ২৫ শতাংশ সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলাচল করতে পারে। এইসব বাস হবে মানসম্মত। সিটিং সার্ভিসের অনুমোদন নেই এমনবাস সিটিং হিসেবে চালালে আটক করার বিধান করতে হবে। আইন অমান্যকারী পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আট. সিটিং সার্ভিসের বাসের আলাদা রঙ থাকতে হবে। নয়. সিটিং সার্ভিসের বাসে নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে রাস্তার মাঝ পথ থেকে যাত্রী নিতে পারবে না। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া নিষিদ্ধ করতে হবে। দশ. সিটিং সার্ভিসের বাস রুট পারমিটের শর্তানুযায়ী চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এগারো. যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে সরকার-মালিক-শ্রমিক-যাত্রী প্রতিনিধির সমন্নয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবায়ন হলো নির্দিষ্ট সময় পরপর গণশুনানির আয়োজন করতে হবে। বার. সিটিং সার্ভিসের বাস মিনিবাসের জন্য রুট ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি রুটে একই কোম্পানির আওতায় এক টিকিটে যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে। লোকাল বাসে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বাদুঁড়-ঝোলা করে যাত্রী বহন করা যাবে না। এইজন্য বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। এটিই হোক এবারের যাত্রী অধিকার দিবসের অঙ্গীকার।

লেখক : মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী, মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।