গৌরবোজ্জ্বল
স্বাধীনতা
অর্জনের
পর
বাংলাদেশের
আর্থিক
খাতের
নবযাত্রা
স্বাভাবিক
কারণে
সুখকর
ছিল
না।
ব্যাপকভাবে
মূলধন
ও
জনগণের
গচ্ছিত
আমানতের
পশ্চিম
পাকিস্তানে
পাচারসহ
যুদ্ধকালীন
পাকিস্তানি
ব্যাংক
ও
বীমার
মালিকদের
দেশত্যাগের
ফলে
সদ্য
জন্ম
নেয়া
বাংলাদেশের
আর্থিক
খাতের
অবস্থা
ছিল
অনেকটা
মুমূর্ষু।
১০
জানুয়ারি,
১৯৭২
সালে
বঙ্গবন্ধু
স্বদেশ
প্রত্যাবর্তনের
পর
কালক্ষেপণ
না
করে
আর্থিক
খাতকে
সংগঠিত
করার
নির্দেশনা
প্রদান
করেন।
আ
ন
ম
হামিদুল্লাহকে
গভর্নর
করে
‘স্টেট
ব্যাংক
অব
পাকিস্তান’-এর
তখনকার
ঢাকা
অফিসকে
‘বাংলাদেশ
ব্যাংক’
নামকরণের
মাধ্যমে
দেশের
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের
নেতৃত্বে
ব্যাংকিং
খাতের
যাত্রা
হয়।
বঙ্গবন্ধুর আজীবন
লালিত
স্বপ্ন
ছিল
শোষণমুক্ত,
কল্যাণধর্মী
ও
অন্তর্ভুক্তিমূলক
একটি
উন্নত
বাংলাদেশ
গঠন
করা।
বঙ্গবন্ধুর
স্বপ্নের
পেছনে
হয়তো
জন্
রউলসের
‘এ
থিয়োরি
অব
জাস্টিস’
কাজ
করেছে—যার
মূল
কথা
ছিল
মানুষের
সমান
অধিকার
একটি
সমাজে
ন্যায়বিচারের
প্রথম
আবশ্যকীয়
শর্ত।
এমতাবস্থায়
সব
মানুষ
ও
প্রতিষ্ঠানকে
আর্থিক
সেবার
আওতায়
আনার
যুক্তিতে
এবং
বিশেষ
করে
যুদ্ধ-পরবর্তী
উদ্ভূত
পরিস্থিতি
সামাল
দিতে
সরকার
ব্যাংকগুলোকে
জাতীয়করণের
সিদ্ধান্ত
নেয়।
তখনকার
সব
তফসিলভুক্ত
ব্যাংককে
জাতীয়করণ
করে
ছয়টি
রাষ্ট্রায়ত্ত
বাণিজ্যিক
ব্যাংক—সোনালী,
জনতা,
অগ্রণী,
রূপালী,
পূবালী
ও
উত্তরা
ব্যাংক
সৃষ্টি
করা
হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত
ব্যাংকগুলোর
সঙ্গে
তিনটি
বিদেশী
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
এবং
দুটি
রাষ্ট্রায়ত্ত
বিশেষায়িত
ব্যাংক
নিয়ে
বাংলাদেশের
ব্যাংকিং
খাত
কাজ
শুরু
করে।
এর
ফলে
গ্রাম
ও
শহর
নির্বিশেষে
ব্যাংকিং
খাতের
দ্রুত
প্রসারণ
সম্ভব
হয়।
তবে
দেশের
সেক্টর
করপোরেশনগুলোর
ধারাবাহিক
লোকসানের
বোঝা
টানতে
গিয়ে
ব্যাংকগুলোর
স্বাভাবিক
প্রবৃদ্ধি
তখন
বাধাগ্রস্ত
হয়।
’৭৫-পরবর্তী
রাজনৈতিক
পটপরিবর্তন
দুর্নীতিকে
অনেকটা
প্রাতিষ্ঠানিক
রূপ
দেয়।
ব্যাংকিং-সংক্রান্ত
আইন,
নিয়মনীতি
ও
সংস্কৃতি
অনেকটা
কাগজকেন্দ্রিক
হয়ে
পড়ে।
মোট
কথা,
আশির
দশকের
মাঝামাঝি
পর্যন্ত
আমাদের
ব্যাংক
খাত
ছিল
সরকার,
সরকারি
প্রতিষ্ঠান
ও
হাতে
গোনা
কিছু
ব্যক্তি
প্রতিষ্ঠানের
অর্থায়নের
হাতিয়ার।
কিন্তু
এ
অর্থায়নের
ক্ষেত্রে
বাণিজ্যিক
বিবেচনা
অনেক
সময়
স্থান
পেত
না।
অধিকন্তু
ব্যাংকের
অভ্যন্তরীণ
নিয়ন্ত্রণ,
ঋণের
গুণগত
মান
পরীক্ষা,
সঠিকভাবে
তারল্য
নির্ধারণ
ও
হিসাববিজ্ঞানের
নীতিমালা
অনুসরণ
করে
ব্যাংকের
লাভের
প্রকৃত
হিসাব
গণনা
একেবারে
উপেক্ষিত
ছিল।
এ অবস্থা
থেকে
বের
হয়ে
আসার
প্রয়োজনে
এবং
অর্থনৈতিক
উন্নয়নে
অধিকতর
কার্যকর
ভূমিকা
রাখার
প্রয়াসে
আশির
দশকে
ব্যাংক
খাতের
সংস্কার
ও
উদারীকরণের
কাজ
শুরু
হয়।
এর
অংশ
হিসেবে
১৯৮৩-৮৪
সালে
বেসরকারি
খাতে
ব্যাংক
ও
বীমা
কোম্পানিকে
সরকার
অনুমোদন
দেয়।
উত্তরা
ব্যাংক
ও
পূবালী
ব্যাংক
প্রাইভেট
খাতে
হস্তান্তর
করা
হয়
এবং
বেশ
কয়েকটি
প্রাইভেট
ব্যাংককে
আর্থিক
কার্যক্রম
পরিচালনা
করার
জন্য
লাইসেন্স
দেয়া
হয়।
বাজারভিত্তিক
সুদের
হারের
সূচনাও
হয়
এ
সময়ে।
নির্দিষ্ট
ও
নির্দেশিত
সুদের
হারের
পরিবর্তে
ব্যাংকগুলো
নির্দিষ্ট
সীমার
মধ্যে
থেকে
নিজেরা
সুদের
হার
স্থির
করতে
পারত।
তবে
কৃষি
খাত
ও
রফতানি
খাতের
সুদের
হার
এ
পরিবর্তনের
আওতাবহির্ভূত
ছিল।
এ প্রেক্ষাপটে
১৯৮৪
সালে
একটি
জাতীয়
পর্যায়ে
মানি,
ব্যাংকিং
ও
ক্রেডিট
কমিশন
গঠিত
হয়
এবং
ওই
কমিটি
১৯৮৬
সালে
আর্থিক
খাতের
সমস্যাগুলো
চিহ্নিত
করে
প্রয়োজনীয়
সংস্কারের
সুপারিশ
করে।
পরে
নব্বইয়ের
দশকে
গৃহীত
‘আর্থিক
খাত
সংস্কার
কর্মসূচি’
বাংলাদেশে
আধুনিক
ব্যাংকিং
ব্যবস্থা
সৃষ্টির
গোড়াপত্তন
করে।
এর
ধারাবাহিকতায়
সরকার
‘ব্যাংক
সংস্কার
কমিটি’
গঠন
করে
এবং
১৯৯১
সালে
ওই
কমিটি
সরকারকে
সংস্কারের
প্রয়োজনীয়
সুপারিশ
করে।
পরে
একই
সময়ে
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
শক্তিশালীকরণ
প্রকল্প
ও
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
পুনর্গঠন
প্রকল্প
হাতে
নেয়া
হয়।
বর্তমানে
বাংলাদেশে
ব্যাংকিং
খাতের
দৃশ্যমান
আইনগত
ভিত্তি,
অটোমেশন
ও
মানবসম্পদের
উন্নয়নসহ
সার্বিক
উন্নতি
ওই
উদ্যোগগুলোর
ফল
বলে
বিবেচিত
হয়।
ব্যাংক খাতের
উন্নয়নের
সঙ্গে
অর্থনৈতিক
উন্নয়নের
পরিপূরক
সম্পর্ক
সর্বজনবিদিত
ও
প্রমাণিত।
সঞ্চয়
ও
বিনিয়োগের
মধ্যে
সংশ্লেষ
ঘটিয়ে
এ
খাত
অর্থনীতির
উৎপাদনশীলতা
নিশ্চিত
করে।
তবে
বিশেষজ্ঞদের
মতে
অর্থনৈতিক
উন্নয়নে
আর্থিক
খাতের
অবদানের
মাত্রা
নির্ভর
করে
এ
খাতের
সম্প্রসারণতা,
দক্ষতা,
বিশ্বাসযোগ্যতা,
আর্থিক
সেবার
বহুমুখীকরণ
ও
অন্তর্ভুক্তিমূলক
সেবা
দেয়ার
যোগ্যতার
ওপর।
সে
বিবেচনায়
স্বাধীনতা-উত্তর
কালে
বাংলাদেশের
আর্থিক
খাতের
অগ্রযাত্রা
বহুক্ষেত্রে
প্রশংসার
দাবিদার।
স্বাধীনতা-উত্তর
বাংলাদেশের
অর্থনীতির
অভূতপূর্ব
উন্নতির
সঙ্গে
সঙ্গে
ব্যাংক
খাতের
বিভিন্ন
ঊর্ধ্বমুখী
সূচক
এ
খাতকে
অর্থনৈতিক
উন্নয়নের
প্রকৃত
অনুঘটকে
পরিণত
করেছে।
এ
উন্নতি
সংখ্যাগত
ও
গুণগত
দুদিকে
প্রতিফলিত
হয়েছে।
১৯৭২-৭৩
সালে
তফসিলি
ব্যাংকগুলোর
মোট
শাখা
সংখ্যা
ছিল
মাত্র
১
হাজার
২৯৫,
যা
প্রায়
৮
দশমিক
১৭
গুণ
বেড়ে
২০২০
সালের
জুনে
১০ হাজার
৫৮৮টিতে
দাঁড়িয়েছে।
ওই
সময়ে
মোট
আমানত
মাত্র
৭
দশমিক
শূন্য
২
বিলিয়ন
টাকা
থেকে
১২
হাজার
৬৪১
দশমিক
৭
বিলিয়ন
টাকায়
পৌঁছেছে,
যা
সাধারণ
লোকের
ব্যাংকে
রক্ষিত
সঞ্চয়ের
পরিমাণ
নির্দেশ
করে।
অধিকন্তু
এ
পরিমাণ
ব্যাংকিং
সেবা
গ্রহণকারীর
সংখ্যা
ও
মূলধন
গঠন
করার
সক্ষমতার
চিহ্নও
বহন
করে।
ঋণের
প্রবৃদ্ধিও
চোখে
পড়ার
মতো।
১৯৭২-৭৩
সালে
মোট
ঋণ
ছিল
মাত্র
৫
দশমিক
৫৪
বিলিয়ন
টাকা,
যা
২০২০
সালের
জুনে
১০
হাজার
৪৮৬
দশমিক
৯
বিলিয়ন
টাকায়
উন্নীত
হয়েছে।
ব্যাংক খাতের
এ
প্রসারণে
বেসরকারি
ব্যাংকের
অংশগ্রহণও
বিশেষভাবে
লক্ষণীয়।
ব্যাংকের
শাখা,
লোকবল,
আমানত
ও
ঋণসহ
প্রত্যেক
ক্ষেত্রে
বেসরকারি
খাতের
প্রাধান্য
প্রতীয়মান।
২০০১
সালে
যেখানে
ব্যাংকের
মোট
সম্পদ
ও
আমানতের
মধ্যে
বেসরকারি
বাণিজ্যিক
ব্যাংকের
অংশগ্রহণ
ছিল
৩৫
শতাংশ
ও
৩৭
শতাংশ,
তা
বেড়ে
২০১৯
সালে
যথাক্রমে
৬৭
দশমিক
৮
শতাংশ
ও
৬৮
দশমিক
১
শতাংশে
উপনীত
হয়েছে।
বেসরকারি
ব্যাংকের
শাখা
২০০১
সালে
১
হাজার
৩৩১টি
ছিল,
যা
২০১৯
সালে
৫
হাজার
৭৫৭টিতে
উপনীত
হয়েছে।
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি
ও
অটোমেশনের
ক্ষেত্রে
বাংলাদেশের
ব্যাংকিং
খাত
ব্যাপক
অগ্রগতি
লাভ
করেছে।
সরকারি-বেসরকারি
নির্বিশেষে
ব্যাংকগুলোর
সব
শাখা
বর্তমানে
অটোমেশনসহ
নেটওয়ার্কের
আওতায়
চলে
এসেছে।
ব্যাংকগুলো
বর্তমানে
উন্নতমানের
সফটওয়্যারের
মাধ্যমে
দ্রুতগতিতে
সেবা
দিচ্ছে।
গ্রাহকরা
দেশের
যেকোনো
অঞ্চলে
ব্যাংকের
যেকোনো
শাখা
থেকে
ব্যাংকিং
সেবা
গ্রহণ
করতে
পারছে।
এটিএম
ও
মোবাইলভিত্তিক
আর্থিক
সেবা
গ্রহণের
বার্ষিক
বৃদ্ধির
হার
২০১০-১৯
সালের
মধ্যে
যথাক্রমে
১৮.৬%
এবং
৮৪.৪%
দাঁড়িয়েছে।
২০১৮
সালের
তথ্য
অনুযায়ী
প্রতি
১
হাজার
প্রাপ্তবয়স্ক
বাংলাদেশীদের
মোবাইলভিত্তিক
আর্থিক
লেনদেনের
সংখ্যা
ছিল
১৯
হাজার
৪৮১টি,
যা
ভারতে
একই
সময়ে
মাত্র
৩
হাজার
৬৭টি
এবং
থাইল্যান্ডে
১৭
হাজার
৫০৫টি।
এ
পরিসংখ্যান
বাংলাদেশে
মোবাইল
আর্থিক
সেবার
ব্যাপক
গ্রহণযোগ্যতার
পরিচয়
বহন
করে।
ধারাবাহিকভাবে আইন,
নীতিমালা
ও
প্রাতিষ্ঠানিক
সংস্কারের
মাধ্যমে
বাংলাদেশের
ব্যাংকিং
সেক্টর
বিশ্বায়নের
এ
যুগে
অভ্যন্তরীণ
ও
আন্তর্জাতিক
বিভিন্ন
ঝুঁকিগুলোও
সফলতার
সঙ্গে
মোকাবেলা
করছে।
অনেকগুলো
আইন
যেমন
জারি
করা
হয়েছে
এবং
সময়ে
সময়ে
এগুলোর
সংশোধন
ও
পরিবর্তন
করে
যুগোপযোগীও
করা
হয়েছে।
তার
মধ্যে
ব্যাংক
কোম্পানি
আইন,
আর্থিক
প্রতিষ্ঠান
আইন,
অর্থঋণ
আদালত
আইন,
সন্ত্রাসবিরোধী
আইন
ও
মানি
লন্ডারিং
প্রতিরোধ
আইন
অন্যতম।
তাছাড়া
ঋণের
গুণগতমানের
ওপর
ভিত্তি
করে
ঋণের
শ্রেণীভেদ,
বাসেল
নীতি
অনুসারে
ঋণঝুঁকির
নিরিখে
ব্যাংকের
মূলধনের
পরিমাণ
নির্ধারণ,
ক্রেডিট
ইনফরমেশন
ব্যুরো
সৃষ্টি,
বাংলাদেশ
ব্যাংকের
অন
এবং
অফ
সাইট
সুপারভিশনে
ব্যাপক
পরিবর্তন,
চলতি
হিসাব
বিনিময়ের
অনুমোদন
ও
যুগোপযোগী
নতুন
আর্থিক
সেবার
প্রচলন
আমাদের
আর্থিক
খাতকে
একটি
শক্ত
ভিতের
ওপর
স্থিত
করেছে।
নন-ব্যাংকিং
আর্থিক
প্রতিষ্ঠানগুলো
ও
আমাদের
আর্থিক
খাতের
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
অংশ
হিসেবে
কাছ
করছে।
প্রচলিত
আর্থিক
সেবা
প্রদানের
সঙ্গে
সঙ্গে
নতুন
সেবা—যেমন
ইজারা,
ফ্যাক্টরিং,
প্রচেষ্টা
মূলধন,
মার্চেন্ট
ব্যাংকিং
সেবা
দিয়ে
এ
প্রতিষ্ঠানগুলো
সুনাম
অর্জন
করেছে।
১৯৮১
সালে
আইপিডিসি
স্থাপনের
মাধ্যমে
এ
খাতের
যাত্রা
হয়।
২০২০
সালের
জুনের
হিসাব
অনুযায়ী
বাংলাদেশে
বর্তমানে
৩৫টি
আর্থিক
প্রতিষ্ঠান
৯৬০
দশমিক
৩
বিলিয়ন
টাকার
সম্পদ
নিয়ে
অর্থনৈতিক
ক্ষেত্রে
অবদান
রাখছে।
অর্থনীতিতে দীর্ঘকালীন
এবং
বড়
আকারের
মূলধন
সরবরাহের
জন্য
পুঁজি
বাজারের
কোনো
বিকল্প
নেই।
বিভিন্ন
সময়ে
উত্থান
ও
পতনের
মধ্যে
বর্তমানে
এ
বাজার
নিয়ে
আশাবাদ
সৃষ্টি
হয়েছে।
ঢাকা
ও
চট্টগ্রাম
স্টক
এক্সচেঞ্জে
নতুন
বিনিয়োগকারীরা
অংশগ্রহণ
করছে।
একক
বিনিয়োগকারী
ছাড়াও
প্রাতিষ্ঠানিক
ও
বিদেশী
বিনিয়োগকারীদের
অংশগ্রহণ
চোখে
পড়ার
মতো।
জেড
গ্রুপের
শেয়ারগুলোকে
আবার
সচল
করার
প্রক্রিয়া
চলছে।
২০২০
আর্থিক
বছরে
পাঁচটি
নতুন
কোম্পানি
৩
বিলিয়ন
বাংলাদেশী
টাকা
প্রাথমিক
বাজার
থেকে
সংগ্রহ
করেছে।
তবে
নতুন
কোম্পানির
তালিকাভুক্তির
হার
আরো
বাড়ানো
প্রয়োজন।
বর্তমানে
৩
হাজার
৪০০টি
পাবলিক
লিমিটেড
কোম্পানি
রয়েছে,
যার
মধ্যে
শেয়ার
মার্কেটে
তালিকাভুক্তির
পরিমাণ
মাত্র
আনুমানিক
১০
শতাংশ।
অধিকন্তু
দেশের
সরকারি
ও
বেসরকারি
বড়
প্রকল্পগুলোর
অর্থায়নের
জন্য
বন্ড
মার্কেটে
এর
উন্নয়ন
অতিআবশ্যকীয়
হয়ে
পড়েছে।
আর্থিক খাতের
এ
অগ্রগতি
সুখকর
হলেও
আত্মতুষ্টির
অবকাশ
নেই।
অর্থনৈতিক
উন্নয়নের
সঙ্গে
সঙ্গে
বাংলাদেশের
অর্থনীতির
কাঠামোগত
পরিবর্তন
লক্ষণীয়।
স্বাধীনতা-পরবর্তী
সময়ে
বাংলাদেশের
অর্থনীতি
কৃষি
ও
ছোটখাটো
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক
ছিল।
বর্তমানে
বৃহৎ
বিনিয়োগসহ
বড়
বড়
সংগঠন
অর্থনীতির
আবশ্যকীয়
অংশ
হিসেবে
পরিণত
হয়েছে।
অধিকন্তু
অনেক
বিদেশী
প্রতিষ্ঠান
দেশের
বিভিন্ন
অঞ্চলে
উৎপাদন
প্রক্রিয়ায়
অংশগ্রহণ
করছে।
অতএব
সব
ধরনের
প্রতিষ্ঠানের
আর্থিক
চাহিদা
ও
সেবা
দেয়ার
জন্য
ব্যাংকগুলোকে
আইন,
নিয়মনীতি,
সংস্কার
ও
বিশ্বাসের
সর্বোচ্চ
নজির
সৃষ্টি
করতে
হবে।
এক্ষেত্রে
নিম্নোক্ত
চ্যালেঞ্জগুলো
আমাদের
মোকাবেলা
করা
প্রয়োজন।
ক.
সঞ্চয়ের
উৎপাদনশীল
ও
বহুমাত্রিক
বিনিয়োগ
নিশ্চিত
করে
অর্থনৈতিক
উন্নয়ন
সাধনের
প্রয়োজনে
ব্যাংকের
খেলাপি
ঋণের
লাগাম
টানা
অতি
জরুরি।
এক্ষেত্রে
সামাজিক
সচেতনতা
ও
আন্দোলন
গড়ে
তোলা
প্রয়োজন।
সমাজে
প্রচলিত
অন্যায়ের
সংজ্ঞা
ও
তালিকায়
ইচ্ছাকৃতভাবে
খেলাপি
ঋণ
সৃষ্টিকারীদের
ওপরের
দিকে
রাখতে
হবে।
আশার
কথা
হচ্ছে,
সামাজিক
সচেতনতা
সেদিকে
এগোচ্ছে।
মানুষ
বর্তমানে
ইচ্ছাকৃত
খেলাপি
ঋণ
সৃষ্টিকারীকে
ঘৃণার
চোখে
দেখছে।
অধিকন্তু
বাংলাদেশ
ব্যাংক
ও
সরকার
এ
সমস্যা
সমাধানে
পাবলিক
অ্যাসেট
ম্যানেজমেন্ট
কোম্পানির
কথাও
বিবেচনা
করছে।
উল্লেখ্য,
নব্বইয়ের
দশকে
এশিয়ান
আর্থিক
সংকটের
পর
খেলাপি
ঋণ
কমিয়ে
আনার
ক্ষেত্রে
এ
উদ্যোগ
ওই
অঞ্চলে
বিশেষ
ভূমিকা
রাখে।
এক্ষেত্রে
কোরিয়া
অ্যাসেট
ম্যানেজমেন্ট
করপোরেশনের
(KAMCO) কার্যকারিতা
বিশ্বব্যাপী
প্রশংসা
লাভ
করেছে,
যা
থেকে
আমরা
শিক্ষা
গ্রহণ
করতে
পারি।
খ.
বাংলাদেশ
ক্রেডিট
মার্কেটের
একটি
বড়
অংশ
এখনো
অনানুষ্ঠানিক
ও
বাজারবহির্ভূত
সূত্র
দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত,
যা
অন্তর্ভুক্তিমূলক
অর্থায়ন
ব্যবস্থার
পরিপন্থী।
ব্যাংকভিত্তিক
আনুষ্ঠানিক
আর্থিক
ব্যবস্থায়
অংশগ্রহণের
মাধ্যমে
তুলনামূলকভাবে
ব্যক্তি
তার
দারিদ্র্য
দূরীকরণ
করতে
পারে
অনেকটা
স্বাভাবিকভাবে।
বাংলাদেশের
প্রত্যেক
পরিবারের
কমপক্ষে
একজন
সদস্যকে
ব্যাংকিং
পরিষেবার
আওতায়
নিয়ে
আসা
প্রয়োজন।
ব্যক্তি
প্রথমে
আমানত
রাখা
ও
অর্থ
স্থানান্তরের
মাধ্যমে
ব্যাংকিং
পরিষেবা
গ্রহণ
করবে
এবং
পরে
ধীরে
ধীরে
ঋণ
গ্রহণের
মাধ্যমে
নিজের
ভাগ্য
পরিবর্তন
করতে
পারবে।
গ.
ব্যাংকের
শহরমুখিতার
কারণে
শহর
ও
তার
আশপাশের
এলাকায়
ব্যবসা
ও
শিল্পের
প্রসার
ঘটেছে।
এ
প্রসারণ
নিঃসন্দেহে
আমাদের
অর্থনেতিক
উন্নয়নকে
ভিন্নমাত্রায়
নিয়ে
গেছে।
উন্নয়নের
এ
ধারাকে
এখন
আমাদের
গ্রাম
ও
মফস্বলমুখী
করা
প্রয়োজন।
এজন্য
অবকাঠামো
উন্নয়নসহ
গ্রামীণ
অর্থনীতিতে
প্রয়োজনীয়
অর্থায়ন
জরুরি।
ব্যাংকঋণের
প্রায়
৯০
শতাংশ
এখনো
শহরকেন্দ্রিক।
ব্যবসা
ও
শিল্পের
বিকেন্দ্রীকরণের
স্বার্থে
বিশেষ
করে
স্থানীয়ভাবে
কর্মসংস্থান
সৃষ্টির
প্রয়োজনে
ব্যাংকঋণের
একটি
যুক্তিসংগত
অংশ
গ্রামে
দেয়া
দরকার।
শাখা
ব্যাংকিংয়ের
প্রসারের
সঙ্গে
সঙ্গে
এজেন্ট
ব্যাংকিং,
বুথ
ব্যাংকিংসহ
প্রযুক্তিনির্ভর
ব্যাংকিং
গ্রামে
ঋণ
প্রদানে
বিশেষ
ভূমিকা
রাখতে
পারে।
ঘ.
ব্যাংকগুলোর
করপোরেট
গভর্ন্যান্স
নিশ্চিত
করা
প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক
গবেষণায়
পাওয়া
যায়
যে
ব্যাংকের
করপোরেট
গভর্ন্যান্স
যত
উন্নত,
সে
ব্যাংকের
ঝুঁকি
ব্যবস্থাপনা
তত
সহজতর।
ব্যাংকিং
ব্যবসা
মূলত
বিশ্বাসের
ওপর
নির্ভরশীল।
বিশ্বাস
সৃষ্টির
জন্য
নৈতিকতাকে
ব্যাংকে
প্রাতিষ্ঠানিক
রূপ
দেয়া
প্রয়োজন।
প্রয়াত
শ্রদ্ধাভাজন
আইবিএর
অর্থনীতির
অধ্যাপক
মোজাফ্্ফর
আহমদের
মতে,
নৈতিকতা
হলো
সে
তেলজ
ও
আঠালো
পদার্থ,
যা
সমাজ
ও
ব্যবসাকে
সম্পর্কিত
ও
সঞ্চালনের
সুব্যবস্থার
সৃষ্টি
করে।
পরিচালনা
পর্ষদ
এবং
ব্যবস্থাপনায়
যারা
আছেন,
তাদের
সততা,
স্বচ্ছতা,
ন্যায়পরায়ণতা
ও
দায়বদ্ধতা
এক্ষেত্রে
অতি
গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচালক
ও
ব্যবস্থাপকরা
যদি
তাদের
কাজে
নীতিবোধের
পরিচয়
রাখেন,
তার
প্রভাব
কর্মকর্তা
ও
কর্মচারীদের
ওপর
পড়ে।
ব্যাংকের
স্থিতিশীলতার
জন্য
সব
ধরনের
বেআইনি,
অনুপযুক্ত
ও
অতিরিক্ত
ঝুঁকিপূর্ণ
কর্মকাণ্ড
পরিহার
করা
উচিত।
ঙ.
পৃথিবী
এ
সময়ে
কৃত্রিম
বুৃদ্ধিমত্তার
যুগে
প্রবেশ
করছে।
ব্যাংকগুলোকে
প্রতিনিয়ত
সঠিক
প্রকল্পে
ঋণ
দেয়া,
নিয়মনীতি
মেনে
চলা,
প্রতারণা
শনাক্ত
করা
এবং
সময়মতো
নির্ভুল
ও
গুণগত
মানসম্পন্ন
সেবা
দিতে
হয়।
কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার
সহায়তায়
ব্যাংকগুলো
এসব
জটিল
সমস্যাকে
অতি
সহজে
দ্রুততম
সময়ে
সমাধান
করতে
পারে।
এ
ডিজিটাল
বিপ্লবে
ব্যাংকগুলোকে
অংশগ্রহণ
করার
প্রস্তুতি
নিতে
হবে,
যাতে
ভুলবিহীন
গুণগত
সেবা
স্বল্প
সময়ে
গ্রাহকের
হাতে
পৌঁছানো
যায়।
ড. প্রশান্ত কুমার
ব্যানার্জ্জী: অধ্যাপক
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট










