জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো আজকের শিশুরা। দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তারা একদিন বড় হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। জন্ম দেবে এক গৌরবময় ও ঐতিহ্যপূর্ণ অধ্যায়। তাই শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ। যেখানে শিশু নিজেকে নিজের মতো করে তৈরি করার সুযোগ পায়। তাই সুশিক্ষার মাধ্যমে শিশুর জন্য আদর্শ পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে একজন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। তবে অনেকের জন্য আদর্শ কিংবা শিশুবান্ধব পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই। অনেক শিশু মনোবিজ্ঞানীর মতে, শিশুবান্ধব পরিবেশ বলতে শিশুর চলাফেরা ও কাজকর্মের প্রতিটি স্থানকে শিশুদের উপযোগী হওয়াকে বোঝায়। যেমন—শিশুর স্বাস্থ্যসম্মত বাসগৃহ যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও সবকিছু সুসজ্জিত থাকা। স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি, দূষণমুক্ত নির্মল বায়ুর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত বাসগৃহ নিশ্চিত করার জন্য। অন্যদিকে অবকাঠামো বলতে বোঝায় একটি দেশ, শহর বা অন্য এলাকার অর্থনীতিকে কার্যকর রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও সুবিধা প্রদানকারী অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবস্থা। সাধারণত রাস্তা, সেতু, সুড়ঙ্গ, পানি সরবারহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিড, টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ডের প্রযুক্তিগত কাঠামোকে বোঝায় এবং সামাজিক বসবাসের অবস্থাকে সক্ষম, বজায় বা উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা প্রদানকারী কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও শিশুবান্ধব পরিবেশ বলতে স্বাস্থ্যসম্মত অবকাঠামোর পাশাপাশি ভয়ভীতিহীন, আনন্দায়ক ও আকর্ষণীয় শিখন পরিবেশ খুবই প্রয়োজন। প্রখ্যাত ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাঁক রুশো বলেছেন, ‘শিক্ষা হলো শিশুর স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ’। শিশুর সামর্থ্য ও শক্তিগুলোর স্বাভাবিক এবং সুষম বিকাশই হলো শিক্ষার লক্ষ্য। আর শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন আনন্দময় পরিবেশ। শিশুর জন্য আনন্দময় পরিবেশ বলতে বোঝায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে শিশুর প্রতিটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয় ও শিশু স্ব-উদ্যোগে এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে শিখতে পারে।
বর্তমান যুগে অর্থনৈতিক অবকাঠামো পরিবর্তনের ফলে শহরের পিতামাতাদের অধিকাংশই কর্মজীবী বা চাকরি করতে হচ্ছে এর ফলস্বরূপ তারা সন্তানদের বেড়ে ওঠায় সময় দিতে পারছে না। ফলে তারা সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। যদিও অধিকাংশ পিতামাতাই শিক্ষিত কিন্তু শিশুর মেধা ও মনন বিকাশে যে শিশুবান্ধব পরিবেশের প্রয়োজন আছে তা সম্পর্কে তারা অবগত নন। অন্যদিকে গ্রামের শিশুরা তুলনামূলক শহরের শিশুদের তুলনায় সম্পূর্ণ অন্যরকম শৈশব পার করে থাকে। তারা গ্রামীণ পরিবেশে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির মস্তবড় আঙিনায় বা বাড়ির আশপাশের বিশাল মাঠে খেলাধুলা করে, গাছে চড়ে, নদীতে ও পুকুরে মাছ ধরে এবং সাঁতার কেটে দুরন্ত শৈশব পার করে থাকে, যা তাদের সুষ্ঠু মন-মানসিকতা বিকাশে ও সুন্দর শৈশব গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা শহরের চোখ ধাঁধানো অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা পায় না ঠিকই কিন্তু সেখানে শিশুবান্ধব পরিবেশের অভাব নেই বললেই চলে। তাই তারা শহরের শিশুদের চেয়ে মানসিকভাবে সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধির অধিকারী হয়ে থাকে। শিশুজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো শৈশবকাল। শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য এ সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় পারিবারিক পরিবেশ যেন নিরাপদ ও শিশুবান্ধব হয়, তার প্রতি যেমন অভিভাবকদের যত্নশীল থাকা প্রয়োজন। একইভাবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিশুবান্ধব রাখার প্রতি শিক্ষকদের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর সব গুণাবলি, বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার যাবতীয় ব্যবস্থা পরিবারে ও বিদ্যালয়ে সুনিশ্চিত থাকা প্রয়োজন। বিদ্যালয় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। শিশুর সামাজিক বিকাশে বিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। বিদ্যালয়ের কেন্দ্রবিন্দু হলো শিক্ষার্থী।
পরিবার থেকে শিশু বাইরের পৃথিবীতে পদার্পণ করে মূলত বিদ্যালয়ে আগমনের মাধ্যমে। যদিও বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কিছুটা পরিচয় তাদের আগেই ঘটে থাকে। কিন্তু অজানা জগেক জানতে-বুঝতে বিদ্যালয়ে আগমন হলো পরিবারের বাইরে শিশুর প্রথম পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের কেন্দ্রবিন্দু হলেও তাদের গড়তে শিক্ষকদের ভূমিকাই আসল। পরিবারের সদস্যদের বাইরে শিশুর প্রধান ভরসাস্থল শিক্ষক। তাই শিশুবান্ধব বিদ্যালয়ের পরিবেশ তৈরি শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। শহরের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শিশুর জন্য উন্মুক্ত খোলামেলা পাঠদানের ব্যবস্থা করা আবশ্যক। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে—
ক) বিদ্যালয়ে আগমনের পর প্রথম কার্যক্রম হলো দৈনিক সমাবেশ। দৈনিক সমাবেশের মাধ্যমে শিশুর নৈতিক শিক্ষা লাভের পাশাপাশি ঐক্য, দলীয় মনোভাব, মিলেমিশে কাজ করা ও শরীর চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়। দৈনিক সমাবেশের আয়োজন যতটা সুশৃঙ্খল ও শিশুবান্ধব হবে, শিশুরা ততই মনোযোগী এবং তাদের বিভিন্ন গুণাবলির বিকাশ ঘটবে। খ) বিদ্যালয়ে শিশু বিচরণের অধিকাংশ সময় কাটে শ্রেণী কক্ষে। কাজেই শ্রেণী কক্ষের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের মেধা, বয়স, রুচি ও সামর্থ্য শ্রেণী শিক্ষকের জানা আবশ্যক। শিশুরা যাতে ভয় না পায় সেজন্য পাঠ উপস্থাপনের শুরুতেই তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ভীতিহীন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ছড়া, গান, গল্প, কবিতা, ছবি ইত্যাদির যেকোনো একটি দিয়ে পাঠদান শুরু করা, যাতে শিশুদের সঙ্গে সহজেই মিশে যাওয়া যায়। গ) বিষয়বস্তু উপস্থাপনের সময় বাস্তব উদাহরণ, পাঠসংশ্লিষ্ট উপকরণ ব্যবহার করা যাতে পাঠদান সহজ ও আকর্ষণীয় হয়। ঘ) শিখন পদ্ধতির প্রতিটি ধাপে শিশুদের প্রতি আন্তরিক মনোভাব ও বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। ঙ) বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিশু উপযোগী পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ও সৃজনশীল মনোভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত বাগান পরিচর্যা, শ্রেণী কক্ষে ছবি আঁকা, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ইত্যাদি বিষয় শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চ) বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলে।
শিশুর পড়ালেখা ও প্রতিভা বিকাশে এবং শিশুবান্ধব পরিবেশ গঠনে সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক পরিবেশ দ্বারা শিশু ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। সুস্থ-সুন্দর সামাজিক পরিবেশ শিশুর মেধা ও মননশীলতা বিকাশে অত্যাবশ্যকীয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। তাই সমাজ হতে হবে শিশুবান্ধব ও শিশুশিক্ষা উপযোগী। সমাজে সমবয়সী ও বড়দের কাছ থেকে শিশুর অনেক কিছু শেখার আছে। শিশুর বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজেরই দায়িত্ব। সামাজিক সচেতনতাই শিশুর জন্য সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। এজন্য নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে শিশু উপযোগী পরিবেশ গঠন করা যেতে পারে । যেমন— ১. সমাজকে শিশুর চিত্তবিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, ক্লাব, পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিতে হবে। ২. সমাজকে সব শিশুর জন্য নিশ্চিত করতে হবে তার মৌলিক চাহিদাগুলো। ৩. বিদ্যালয় থেকে কোনো শিশু যেন ঝরে না পড়ে সেদিকে সমাজের লোকজনের সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। ৪. প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা, স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, ভালো আচরণ ও আনন্দমূলক শিক্ষাসহ সব বিষয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। ৫. দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুবান্ধব পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সেমিনার ও উৎসাহমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অতিসম্প্রতি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সাফ সিএসএসপি প্রকল্প শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিশুবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
স্কুলভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলগুলোতে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলে শিক্ষার্থী ভর্তি, উপস্থিতি, লেখাপড়া শেষ করার হার এবং প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের দিক দিয়ে উন্নতি হয়। ইউনিসেফের কার্যক্রমে নারী ও মেয়েদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি তাদের ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতার স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়। মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে পয়ঃনিষ্কাশনের পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও নারী এবং মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা, লেখাপড়া শেষ করার হার, বিশেষ করে কিশোরীদের শিক্ষা সমাপনীর হার এবং বিয়ের বয়স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল আনে।
ব্র্যাকের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলে মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকায় ক্লাসে তাদের উপস্থিতি ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ে এবং ঋতুস্রাবের সময় সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ থাকলে উপস্থিতি বাড়ে ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।
সাফের কর্ম-এলাকায় সর্বস্তরে শিক্ষার পদ্ধতির অবকাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশুবান্ধব নীতিমালার চর্চা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরিবার ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে চর্চার বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। এছাড়া শিগগির সরকারি উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাজসেবা থেকে শিশুকল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানা যায়।
আন্তর্জাতিকভাবে শিশুর সার্বিক কল্যাণ, লালন-পালন, বিকাশ ও অংশগ্রহণসংক্রান্ত অধিকারগুলোকে পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন করা হয়েছে জাতিসংঘের শিশু অধিকারবিষয়ক সনদের ৫৪টি অনুচ্ছেদের বিভিন্ন ধারাগুলোয়। অনুচ্ছেদ ২৭-এর ২নং ধারায় বলা আছে, পিতা-মাতা বা শিশুর দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে তাদের সামর্থ্য ও সংগতি অনুযায়ী শিশুর উন্নয়নের জন্য উপযোগী জীবনযাপনের মান নিশ্চিত করা।
শিশু সনদে বর্ণিত ধারাগুলো সব শিশুর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। শিশুর শিক্ষা, লালন-পালন, পরিচর্যা, সুরক্ষা ও বেড়ে ওঠার ভিত বৈষম্যহীন এবং সমতার ভিত্তিতে রচনা করতে হবে। শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। স্বপ্ন না দেখালে তারা যোগ্য মানুষ হতে পারবে না। শিশুর বেড়ে ওঠায় অনুকূল পরিবেশ তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পারিবারিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ববোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, সহানুভূতি, শিষ্টাচার, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শ নানা বিষয়ের অনুধাবন শিশুকাল থেকেই বিকাশ লাভ করে। কাজেই শিশুর নৈতিক, মানবিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক, নান্দনিক প্রভৃতি গুণাবলির বিকাশ শিশুকাল থেকেই গঠিত হয়, যা পরবর্তী জীবনে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব শেষে বলতে পারি, জাতীয় শিশু দিবসে এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘শিশু গড়বে নতুন দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ ও এ বছরের স্লোগান ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায়, থাকবে শিশু সুরক্ষায়’ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সোচ্চার হতে হবে শিশুদের অধিকার রক্ষায়। সুন্দর শিশুবান্ধব পরিবেশের গুরুত্ব শিশুদের সাবলীল জীবন গঠনে সহায়ক ও অনস্বীকার্য। দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশু এবং শিশু অধিকার রক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থা শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বিশ্বায়নের এ যুগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এখন শুধু সময়ের দাবি নয়, বরং শিশুদের অন্যতম অধিকার। কাজেই ঢাকা শহরকে শিশুবান্ধবদের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে শিশুদের বাসোপযোগী শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ায় আমাদের মনে এ বিশ্বাস নিয়েই কাজ করি, ‘আজ যে শিশু পৃথিবীর আলোয় এসেছে আমরা তার তরে একটি সাজানো বাগান চাই’ আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের শিশুদের সুন্দর ও উজ্জ্বল আগামী উপহার দিতে পারে।
সাম-ই-জাহান: প্রাবন্ধিক










