অ্যান্টিবায়োটিক
এক
ধরনের
জীবন
রক্ষাকারী
ওষুধ,
যার
সত্যিকার
অর্থে
বাণিজ্যিক
ব্যবহার
শুরু
হয়েছে
১৯৪০
সালে।
পেনিসিলিন
ও
রাসায়নিক
সংশ্লেষিত
সেফালোসপোরিনের
মাধ্যমে
পেনিসিলিন
আবিষ্কৃত
হয়েছে।
১৯২৮
সালে
লন্ডনের
সেন্ট
মেরি
হসপিটালের
ব্যাকটেরিয়ায়
বিজ্ঞানবিষয়ক
অধ্যাপক
আলেকজান্ডার
ফ্লেমিংয়ের
ঐতিহাসিক
আকস্মিক
আবিষ্কার
থেকে।
তবে
এর
আগেও
১৯০০
সালের
শেষের
দিকে
রাসায়নিক
পদার্থ
দ্বারা
ব্যাকটেরিয়াকে
ধ্বংস
করার
বিষয়টি
পর্যবেক্ষণে
আনেন
জার্মান
চিকিৎসক
পল
আরলিচ।
১৯০৯
সালে
তিনিই
প্রথম
সিফিলিস
চিকিৎসার
জন্য
আর্সফেনামিন
নামক
এক
কেমিক্যালের
সফল
ব্যবহার
করেন।
ফলে
অনেকে
এটাকেই
প্রথম
আধুনিক
অ্যান্টিবায়োটিক
হিসেবে
চিহ্নিত
করেন।
তবে
পল
নিজেই
এটাকে
অ্যান্টিবায়োটিক
না
বলে
কেমোথেরাফি (রাসায়নিক
বস্তু
দিয়ে
চিকিৎসা)
বলতেন।
কথিত
আছে,
তারও
আগে
প্রাচীন
মিসর,
গ্রিস
ও
চীনে
জীবাণু
দ্বারা
সংক্রমিত
রোগের
প্রচলিত
চিকিৎসা
পদ্ধতি
ব্যবহূত
হতো।
অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের
আরো
কিছু
মাইলফলক
রয়েছে।
সেগুলো
হলো
১৯৩২
সালে
সালদা
ড্রাগসের
আবিষ্কার।
১৯৫২
সালে
এরিথ্রোমাইসিন
আবিষ্কার
(Macrolides বলা
হয়),
পরবর্তী
সময়ে
এর
সমগোত্রীয়
অ্যান্টিবায়োটিক
(Clarithromycin, ১৯৭০
দশকে),
(Azithromycin, ১৯৮০
দশকে)
আবিষ্কার
সংক্রামক
রোগের
চিকিৎসায়
ব্যাপক
সাফল্য
এনে
দেয়।
১৯৬২ সালে
Quinolone
এবং
১৯৮০
সালেফ্লুরোকুইলোন
আবিষ্কার
এক্ষেত্রে
আরো
সাফল্য
যোগ
করে।
২০০০
সালে
লিনজোলিড অ্যান্টিবায়োটিক
আবিষ্কার
গ্রাম
পজিটিভ
প্রতিরোধী
ব্যাকটেরিয়া
বিরুদ্ধে
কার্যকরভাবে
ব্যবহূত
হওয়া
শুরু
করে।
উল্লেখ্য, পেনিসিলিনজাতীয়
(বেটা-ল্যাকটাম
চক্রসংবলিত)
কার্বাপেনামের
বিভিন্ন
ধরন
(Imipenem, 1985, Meropenem1996, Ertapenem, 2001 এবং Doripenem,
2007) অত্যন্ত শক্তিশালী
এবং
এসব
ধরন অ্যান্টিবায়োটিক
হিসেবে
ওষুধ
প্রতিরোধী
জটিল
সংক্রমণে
ব্যবহূত
হচ্ছে
শেষ
চিকিৎসা
হিসেবে।
চিকিৎসা ব্যবস্থায়
অতীব
গুরুত্বপূর্ণ
অ্যান্টিবায়োটিকের
অনিয়ন্ত্রিত
ব্যবহার
ভবিষ্যতে
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহারকে
ঝুঁকির
মধ্যে
ফেলবে
এবং
একটা
বৃহৎ
গোষ্ঠী
ব্যাকটেরিয়া
অণুজীববিরোধী
প্রতিরোধ্যতা
(অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স)
অর্জন
করবে।
সবার
অবগতির
জন্য
বলা
যেতে
পারে,
যখন
থেকে
আমরা
অ্যান্টিবায়োটিক
আবিষ্কার
বা
ব্যবহার
শুরু
করলাম
ঠিক
তখন
থেকেই
অ্যান্টিবায়োটিক
রেজিস্ট্যান্সের
ব্যাপারটাইও
চিহ্নিত
হলো।
একটি
উদাহরণ
দিলেই
তা
পরিষ্কার
হয়ে
যাবে।
১৯৪০
সালে
বাণিজ্যিকভাবে
পেনিসিলিন
ব্যবহার
শুরু
হলো
এবং
১৯৪০
সালেই
পেনিসিলিন
প্রতিরোধী
জীবাণু
স্টেফাইলোকক্কাস
চিহ্নিত
হলো।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্স
নতুন
নয়।
তবে
বিভিন্ন
কারণে
এর
ব্যাপ্তি
ও
প্রসার
ব্যাপকভাবে
বৃদ্ধি
পাচ্ছে।
বর্তমানেও আমারা
দেখছি
অনেক
কার্যকরী
অ্যান্টিবায়োটিককে
সংক্রমণ
চিকিৎসায়
অকার্যকররূপে
পাওয়া
যাচ্ছে।
তাই
আমাদের
সবার
আগে
জানা
দরকার
এ
অণুজীববিরোধী
প্রতিরোধিতা
বা
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্স এবং
সম্ভাব্য
কারণ
ও
এর
ভয়াবহতা।
এখানে
বলে
রাখা
ভালো,
যেসব
ক্ষুদ্র
জীবাণু
প্রধানত
ব্যাকটেরিয়া
অণুজীববিরোধী
প্রতিরোধিতা গড়ে
তোলে,
সেগুলোকে
আমরা
সুপারবাগ
বলি।
এএমআর যদি
সীমিত
বা
বন্ধ
করা
না
যায়
এবং
নতুন
প্রজন্মের
কোনো
অ্যান্টিবায়োটিক
বাজারে
না
আসে
তবে
বিশ্ব
একটা
ভয়াবহ
ভবিষ্যতের
দিকে
ধাবিত
হবে।
একটা
পরিসংখ্যান
থেকে
পাওয়া
যায়,
প্রতি
বছর
বিশ্বব্যাপী
সাত
লাখ
মানুষের
মৃত্যু
হয়
শুধু
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্সের
কারণে,
যেখানে
বিশ্বের
সব
দেশই
কম
বা
বেশি
ক্ষতিগ্রস্তের
শিকার।
এএমআর
যদি
সঠিকভাবে
চিহ্নিত
এবং
প্রতিহত
না
করা
যায়
তবে
২০৫০
সাল
নাগাদ
প্রতি
বছর
এক
কোটি
মানুষ
মারা
যাবে
শুধু
কার্যকর
অ্যান্টিবায়োটিকের
অভাবে।
বিশ্বব্যাপী
এটা
যেমন
মৃত্যুহার
আশঙ্কাজনক
হারে
বাড়াবে
তেমনি
অর্থনৈতিকভাবে
বিশাল
চাপের
সৃষ্টি
করবে।
ডব্লিউএইচও ধারণা
করছে,
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্স
বৃদ্ধির
ফলে
২০৫০
সালে
বৈশ্বিক
স্বাস্থ্যসেবা
খাতে
অতিরিক্ত
ব্যয়
বাড়বে
১
দশমিক
২
ট্রিলিয়ন
আমেরিকান
ডলার।
জিনগত পরিবর্তনের
ফলে
কিছু
জীবাণু
অ্যান্টিবায়োটিকের
ধ্বংস
করা
ক্ষমতাকে
(অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স)
অভিযোজন করে
নেয়।
এটা
অনেকভাবে
হতে
পারে,
যা
এ
পর্যায়ে
বিস্তারিত
আলোচনায়
যাচ্ছি
না।
তবে
এটা
না
বললেই
নয়
যে
যদিও
প্রাকৃতিকভাবে
অ্যান্টিবায়োটিক
রেজিস্ট্যান্স
তৈরি
হচ্ছে,
কিন্তু
অনিয়ন্ত্রিত
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার
(মানুষ ও
প্রাণীতে)
রেজিস্ট্যান্স
প্রক্রিয়াকে
বিপজ্জনকভাবে
ত্বরান্বিত
করছে।
ফলে
বর্তমানে
কিছু
সংক্রমণের
চিকিৎসা
খুবই
কঠিন
হয়ে
যাচ্ছে
যেমন—নিউমোনিয়া,
যক্ষ্মা,
গনোরিয়া,
টাইফয়েড
ইত্যাদি।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্স
প্রাকৃতিক
কারণ
ছাড়াও
আমরা
অনেকগুলো
কারণকে
চিহ্নিত
করি।
যেগুলো
রেজিস্ট্যান্স
সংকটের
জন্য
দায়ী।
যেমন—
১.
অ্যান্টিবায়োটিকের
অতিরিক্ত
(মাত্রা ও
সময়)
ব্যবহার;
অপ্রয়োজনীয়
ব্যবহার
(ভাইরাল সংক্রমণে
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার);
২.
সঠিক
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
(ডায়াগনসিস) না
করে
ব্যবহার;
৩.
ভাইরাস
সংক্রমণে
সেকেন্ডারি
ইনফেকশন
বন্ধ
করার
জন্য
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার
(যার কোনো
প্রমাণ
পাওয়া
যায়
না);
৪.
অ্যান্টিবায়োটিকের
কোর্স
সম্পূর্ণ
না
করা।
উপসর্গ
কমে
গেলে
অ্যান্টিবায়োটিক
বন্ধ
করে
দেয়া।
৫.
রেজিস্টার্ড
চিকিৎসকের
ব্যবস্থাপত্র
(প্রেসক্রিপশন) ছাড়া
ফার্মেসি
থেকে
অ্যান্টিবায়োটিক
বিক্রয়।
আমাদের
জানা
দরকার,
পৃথিবীর
কোনো
উন্নত
দেশেই
চিকিৎসকের
ব্যবস্থাপত্র
ছাড়া
অ্যান্টিবায়োটিক
ক্রয়
করা
যায়
না।
৬.
চিকিৎসককে
চাপ
প্রয়োগ
করে
বা
অন্যভাবে
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবস্থাপত্রে
অন্তর্ভুক্ত
করা।
৭.
প্রাণীর
ক্ষেত্রে
অতিরিক্ত
ও
অতিমাত্রায়
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার।
এমনকি
মত্স্য
চাষেও
(বিশেষ করে
হ্যাচারিতে)
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহার
হয়।
আজকে
আমরা
‘ওয়ান
হেলথ’ ধারণাকে
সর্বত্র
ব্যবহার
করছি।
যেখানে
মানুষ
প্রাণী
(মত্স্যসহ), গাছপালা
ও
পরিবেশকে
সমন্বিত
করে
অনুকূল
স্বাস্থ্য নিশ্চিত
করার
কথা
বলছি।
৮.
সাধারণ
মানুষের
মধ্যে
একটা
ধারণা
বিদ্যমান
যে
কোনো
রোগ
হলে
অ্যান্টিবায়োটিক
খেতে
হবে।
সেই
ধারণা
থেকে
ফার্মেসি
থেকে
অ্যান্টিবায়োটিক
কিনে
খায়।
৯.
অনেক
সময়
অপ্রয়োজনীয়
একাধিক
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার
করা
হয়।
তবে
কিছু
কিছু
রোগের
চিকিৎসার
নীতিমালায়
একাধিক
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহার
সর্বস্বীকৃত,
যেমন—যক্ষ্মা।
১০.
চিকিৎসক
কর্তৃক
সংক্রমণের
শুরুতে
সঠিক
রোগ
নির্ণয়
ব্যতীত
সর্বশেষ
প্রজন্মের
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার।
যদি
প্রথম
প্রজন্মের
ওষুধ
কার্যকরী
হয়
সেক্ষেত্রে
সেটা
দিয়েই
চিকিৎসা
শুরু
করা
উচিত
এবং
চিকিৎসা
নীতিমালা
যতদিন
ওষুধ
সেবনের
পরামর্শ
দেয়
ততদিনই
সেবন
করা।
কোনোভাবেই
কম
বা
বেশিদিন
ব্যবহার
করা
উচিত
নয়।
বাংলাদেশ সরকার
অ্যান্টিবায়োটিক
রেজিস্ট্যান্সের
ব্যাপারটি
খুবই
গুরুত্বসহকারে
নিয়ে
এ
থেকে
উত্তরণের
জন্য
বিভিন্ন
পদক্ষেপ
নিয়ে
যাচ্ছে।
যার
মধ্যে
অন্যতম
২০১৬
সালে
ওষুধ
বিক্রির
নীতিমালায়
‘মডেল
ফার্মেসি’
ও
‘মডেল
ফার্মেসি
শপ’-এর
প্রবর্তন।
যেখানে
সুনির্দিষ্টভাবে
চিকিৎসকের
ব্যবস্থাপত্র
ছাড়া
অ্যান্টিবায়োটিক
বিক্রি
সম্পূর্ণভাবে
নিষিদ্ধ।
ওই
নীতিমালায়
ফার্মেসিগুলোতে
ফার্মেসি
কাউন্সিল
অব
বাংলাদেশের
লাইসেন্সপ্রাপ্ত
ফার্মাসিস্ট
(গ্রেড এ,
বি
ও
সি)
ব্যতীত
ওষুধ
ক্রয়-বিক্রয়
নিষিদ্ধ
করা
হয়েছে।
আমরা
মনে
করি,
উপরোক্ত
নীতিমালা
কঠোরভাবে
বাস্তবায়ন
হলে
অনেকাংশে
অ্যান্টিবায়োটিকের
রেজিস্ট্যান্স
বন্ধ
করা
যাবে।
কিন্তু
আমরা
দেখতে
পাই,
যে
উদ্দেশ্যে
মডেল
ফার্মেসি
প্রতিষ্ঠা
করা
হয়েছিল
বাস্তবে
সেগুলো
সেভাবে
কাজ
করছে
না।
এক্ষেত্রে
নজরদারির
অভাব
পরিলক্ষিত
হচ্ছে
এবং
মডেল
ফার্মেসি
থেকেও
ব্যবস্থাপত্র
ছাড়া
অ্যান্টিবায়োটিক
বিক্রি
হচ্ছে।
এক্ষেত্রে
কঠোর
নজরদারি
এবং
আইনি
ব্যবস্থা
নেয়া,
প্রয়োজনে
ড্রাগ
লাইসেন্স
বাতিলের
মতো
কঠোর
পদক্ষেপ
নিতে
হবে।
সেক্ষেত্রে
ডিজিডিএ
কর্তৃক
বিশ্ব
স্বাস্থ্য
সংস্থার GLASS
(The global antimicrobial Resistance surveillance system)-এর
আদলে
surveillance
system/cell গঠন
করা
দরকার।
উল্লেখ্য,
বর্তমানে
DGDA
Adverse drug reception monitoring cell (১৯৯৬
সালে
বিশ্ব
স্বাস্থ্য
সংস্থার
সহযোগিতায়
প্রতিষ্ঠিত)
ওষুধের
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নিয়ে
কাজ
করছে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স
মোকাবেলা
এবং
সীমিত
করার
ক্ষেত্রে
বিশ্ব
স্বাস্থ্য
সংস্থা
কর্তৃক
যে
গ্লোবাল
অ্যাকশন
প্ল্যান
২০১৫
করা
হয়েছে,
সেটাকে
যদি
আমরা
আমাদের
দেশে
সফলভাবে
প্রয়োগ
করতে
পারি
তবেই
আমরা
নিরাপদ
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার
নিশ্চিত
করতে
পারব।
বিশ্ব
স্বাস্থ্য
সংস্থা,
গ্লোবাল
অ্যাকশন
প্ল্যান,
পাঁচটি
অভীষ্ট
নির্ধারিত
হয়েছে।
ক.
কার্যকর
যোগাযোগ,
শিক্ষা
ও
ট্রেনিংয়ের
মাধ্যমে
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল
রেজিস্ট্যান্স-সংক্রান্ত
সচেতনতা
বৃদ্ধি
করা
এবং
এর
সম্বন্ধে
সঠিক
তথ্য
জানা।
খ.
নজরদারি
ও
গবেষণা
শক্তিশালী
করা;
গ.
সংক্রমণের
হারকে
হ্রাস
করা;
ঘ.
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার
যুক্তিসংগত
করা;
ঙ.
অ্যান্টিবায়োটিক
রেজিস্ট্যান্স
প্রতিরোধ
টেকসই
বিনিয়োগ
নিশ্চিত
করা।
আমাদের জন্যও
উপরোক্ত
পরিকল্পনা
সঠিক
ও
বাস্তবসম্মতভাবে
তৈরি
করা
এবং
কঠোরভাবে
প্রয়োগ
করা
খুবই
জরুরি।
আমরা
আজকে
এসডিজি
অর্জনে
সাফল্য
দেখাচ্ছে।
এ
সাফল্য
ধরে
রাখতে
হলে
অর্থাৎ
এসডিজির
১৭টি
গোলের
মধ্যে
৩
নং
গোল
Good
Health and well-being, যা
অর্জন
কঠিন
হয়ে
যেতে
পারে
যদি
আমরা
AMR
নিয়ন্ত্রণ
বা
সীমিত
করতে
না
পারি।
বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহারের
কোনো
স্ট্যান্ডার্ড
নীতিমালা
এখন
পর্যন্ত
প্রণয়ন
করা
হয়নি।
বিশ্ব
স্বাস্থ্য
সংস্থা
২০১১
সালে
“Hospital antibiotic policy
and standard treatment guideline” প্রণয়ন
করে।
আমরা
মনে
করি,
এর
আলোকে
বাংলাদেশের
আর্থসামাজিক
ও
অন্যান্য
প্রেক্ষাপট
বিবেচনায়
স্বাস্থ্য
ও
পরিবারকল্যাণ
মন্ত্রণালয়ের
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহারের
একটি
বাস্তবসম্মত
নীতিমালা
প্রণয়ন
করা
অতিজরুরি।
এক্ষেত্রে আমাদের
প্রধান
সীমাবদ্ধতা
হলো
নীতিমালা
প্রণয়নের
পর
সেটার
সঠিক
বাস্তবায়ন,
কঠোরভাবে
প্রয়োগ
ও
নজরদারি
নিশ্চিত
করা।
মাইক্রোবিয়ালা রেজিস্ট্যান্স
নিয়ন্ত্রণ
বা
বন্ধে
বিভিন্ন
অংশীদার
ও
চিকিৎসা
সেবা
প্রদানকারীদের নিম্নলিখিত
পদক্ষেপ
গ্রহণে
সুফল
বয়ে
আনতে
পারে।
ব্যক্তি পর্যায়ে,
১.
শুধু
চিকিৎসকের
ব্যবস্থাপত্র
অনুসারে
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহার
করা।
২.
যদি
চিকিৎসক
বলেন,
অ্যান্টিবায়োটিক
দরকার
নেই
তবে
কখনো
অ্যান্টিবায়োটিকের
জন্য
দাবি
না
করা।
৩.
অ্যান্টিবায়োটিক
সেবনের
ক্ষেত্রে
সর্বদা
চিকিৎসক
বা
স্বাস্থ্যকর্মীর
পরামর্শ
মেনে
চলা।
৪.
সংক্রমণ
প্রতিরোধে
কার্যকর
ব্যবস্থা
গ্রহণ
করা
যেমন—নিয়মিত
হাত
ধোয়া,
স্বাস্থ্যসম্মত
খাদ্য
প্রস্তুত
ও
গ্রহণ
করা,
অসুস্থ
ব্যক্তির
সঙ্গে
ঘনিষ্ঠতা
পরিহার
করা,
নিরাপদ
যৌন
মিলন
ও
রোগ
প্রতিরোধী
টিকা
নেয়া।
৫.
নীতিনির্ধারক
পর্যায়ে,
৬.
শক্তিশালী
জাতীয়
কর্মপরিকল্পনা
প্রণয়ন
ও
বাস্তবায়ন;
৭.
নজরদারি
বৃদ্ধি
করা;
৮.
সংক্রমণ
বন্ধ
এবং
নিয়ন্ত্রণে
পলিসি,
প্রোগ্রাম
ও
বাস্তবায়ন
শক্তিশালীকরণ।
৯.
রোগীদের
সচেতনতা
বৃদ্ধির
জন্য
যথেষ্ট
প্রচারণা
ও
পরামর্শ
নিশ্চিত
করা।
১০.
স্বাস্থ্য
পেশাজীবী
পর্যায়ে,
১১.
শুধু
প্রয়োজনে
(দরকার হলে
সঠিক
রোগ
নির্ণয়ের
মাধ্যমে)
অ্যান্টিবায়োটিক
দেয়া;
১২.
অ্যান্টিবায়োটিক
রেজিস্ট্যান্সজনিত
সংক্রমণ
সম্বন্ধে
নজরদারি
দলকে
রিপোর্ট
করা;
১৩.
অ্যান্টিবায়োটিক
সঠিকভাবে
নেয়া,
অ্যান্টিবায়োটিকের
রেজিস্ট্যান্স
ও
অ্যান্টিবায়োটিকের
অপব্যবহার
সম্বন্ধে
রোগীর
সাথে
আলোচনা
করা।
১৪.
সংক্রমণ
প্রতিরোধ
কীভাবে
করা
যায়
সে
সম্বন্ধে
রোগীদের
অবহিত
করা।
১৫.
ওষুধ
শিল্প
বা
স্বাস্থ্যসেবা
শিল্প
পর্যায়ে,
১৬.
চিকিৎসকে
ব্যবস্থাপত্রে
অ্যান্টিবায়োটিক
বা
অপ্রয়োজনীয়
ওষুধ
লেখার
ক্ষেত্রে
কোনো
চাপ
বা
কোনো
রকম
অনৈতিক
প্রভাব
খাটানো।
১৭.
গবেষণা
ও
নতুন
অ্যান্টিবায়োটিক
তৈরির
জন্য
যথেষ্ট
অর্থ
বিনিয়োগ
করা।
নতুন
নতুন
আবিষ্কৃত
অ্যান্টিবায়োটিকই
প্রতিরোধী
অণুজীবের
বিরুদ্ধে
কার্যকরভাবে
ব্যবহূত
হতে
পারে।
কেননা
একসময়
আমাদের
হাতে
থাকা
অ্যান্টিবায়োটিকের
কার্যকারিতা
সম্পূর্ণভাবে
বা
আংশিকভাবে
নিষ্ক্রয়
হয়ে
যেতে
পারে।
১৮.
কৃষিক্ষেত্রে
করণীয়,
১৯.
শুধু
পশু
চিকিৎসকের
পরামর্শমতে
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহার
করা।
২০.
সুস্থ
প্রাণীর
ক্ষেত্রে
(পোলট্রিসহ) মোটাতাজাকরণ
বা
রোগ
প্রতিরোধের
জন্য
অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যবহার
না
করা।
২১.
প্রাণীকে
(পোলট্রিসহ) টিকা
দেয়া,
যাতে
সংক্রমণ
না
হয়
এবং
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার
করতে
না
হয়।
২২.
প্রাণিখাদ্য
(পোলট্রিসহ) প্রস্তুতের
ক্ষেত্রে
অনৈতিকভাবে
বিভিন্ন
ওষুধ
(অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন)
ব্যবহার
না
করা।
২৩.
পশুপালনের
ক্ষেত্রে
সঠিক
স্বাস্থবিধি
মানা,
যাতে
সংক্রমণ
প্রতিরোধ
করা
যায়।
২৪.
মত্স্য
চাষের
ক্ষেত্রে
অ্যান্টিবায়োটিকের
ব্যবহার
সম্পূর্ণরূপে
বন্ধ
করা
(যেমন— হ্যাচারি,
চিংড়ি
চাষ
ইত্যাদি)।
২৫.
কোনোভাবে
মডেল
ফার্মেসির
নীতিমালার
বাইরে
প্রেসক্রিপশন
ছাড়া
অ্যান্টিবায়োটিক
বিক্রি
না
করা,
বাংলাদেশ
কেমিস্ট
অ্যান্ড
ড্রাগিস্ট
সমিতিকে
সম্পৃক্ত
করে
এ
ব্যাপারে
জিরো
টলারেন্স
নীতি
গ্রহণ
করা।
২৬.
মানসম্পন্ন
অ্যান্টিবায়োটিকের
বিক্রয়
নিশ্চিত
করা;
২৭.
অ্যান্টিবায়োটিকের
সঠিক
সংরক্ষণ
ও
মেয়াদউর্ত্তীণ
ওষুধ
বিক্রি
না
করা।
২৮.
অবশ্যই
ফার্মেসি
কাউন্সিল
অব
বাংলাদেশ
থেকে
সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত
ফার্মাসিস্ট
দ্বারা
ফার্মেসি
চালানো।
সর্বোপরি ‘ওয়ান
হেলথ’
ধারণাকে
সঠিকভাবে
বাস্তবায়ন
করলেই
অ্যান্টিবায়োটিকের
রেজিস্ট্যান্স
প্রতিরোধ
ও
নিয়ন্ত্রণ
করা
সহজ
হবে।
গ্লোবাল
হেলথ
ডে-২০১১-এর
থিম
দিয়েই
শেষ
করতে
চাই,
যেখানে
বলা
হয়েছে,
“অহঃরনরড়ঃরপ
জবংরংঃধহপব:
ঘড়
ধপঃরড়হ
ঃড়ফধু,
হড়
পঁত্ব
ঃড়সড়ত্ত্ড়.ি”
সরকার,
চিকিৎসক,
চিকিৎসাকর্মী,
রোগী
ও
সাধারণ
জনগণ,
সবাইকে
এই
থিমের
গূঢ়
অর্থ
উপলব্ধি
করে
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল
রেজিস্ট্যান্সকে
নিয়ন্ত্রণ
ও
প্রতিরোধে
কার্যকর
ভূমিকা
রাখা
আবশ্যক।
অধিকন্তু
নতুন
ধরনের
অ্যান্টিবায়োটিক
আবিষ্কারের
জন্য
বড়
ধরনের
বিনিয়োগ
করা।
অন্যথায়
আমাদের
চোখের
সামনে
কার্যকর
অ্যান্টিবায়োটিকের
অভাবে
আমাদেরই
আপনজনকে
হারাতে
হবে।
ড. এটিএম জাফরুল আযম: অধ্যাপক
ফার্মাসিউটিক্যালস কেমিস্ট্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়










