কভিড
মহামারী, বেড়ে
চলা বৈশ্বিক
দারিদ্র্য ও
অসমতা, ধারাবাহিক
সংঘাত, জলবায়ু
পরিবর্তন ও
জীববৈচিত্র্য সংকট
বিশ্বব্যাপী নানা
রকম অভিঘাত
ও চাপ
সৃষ্টি করছে।
ফলে ক্ষুধা,
খাদ্য ও
পুষ্টিনিরাপত্তায় বিপুল
নেতিবাচক প্রভাব
পড়ছে। এ
জরুরি সমস্যা
আরো দক্ষতার
সঙ্গে মোকাবেলা
করা জরুরি।
আর এজন্য
সরকারগুলোর উচিত
জাতিসংঘের নেতৃত্বে
একটি নতুন,
বহুপক্ষীয় ফুড
সিস্টেমস স্ট্যাবিলিটি
বোর্ড (এফএসএসবি)
প্রতিষ্ঠার কথা
বিবেচনা করা,
যাতে বৈশ্বিক
খাদ্য ব্যবস্থা
আরো টেকসই
করা যায়।
আজকে ৭২০-৮১০
মিলিয়ন মানুষ
(বিশ্ব জনসংখ্যার
প্রায় ১০
শতাংশ) প্রতি
রাতে ঘুমাতে
যায় পেটে
ক্ষুধা নিয়ে।
আবার বিশ্বজুড়ে
অন্তত ২
দশমিক ৪
বিলিয়ন লোক
স্বাস্থ্যসম্মত ও
পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের
নাগাল পায়
না। বড়
ধরনের আন্তর্জাতিক
পদক্ষেপের অনুপস্থিতিতে
এসব প্রবণতা
মনে হয়
সামনেও বজায়
থাকবে, আরো
বাড়বে। ইন্টারগভর্নমেন্টাল
প্যানেল অন
ক্লাইমেট চেঞ্জের
সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদনে
দেখা যায়,
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের
বিরূপ প্রভাব
পড়াটা বিশ্বের
কোনো অঞ্চলেই
আর বাকি
নেই। সামনের
দশকগুলোয় খাদ্য
ব্যবস্থার ওপরও
এর তাত্পর্যজনক
প্রভাব থাকবে
বৈকি।
খাদ্য ব্যবস্থা
বৈশ্বিক অর্থনীতির
নিরাপত্তার পাশাপাশি
অনেক দেশের
জাতীয় নিরাপত্তাকেও
হুমকিতে ফেলে।
বিভিন্ন কালপর্বে
এমনটা হয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতায়
দেখা যায়,
ক্ষুধা ও
খাদ্যে অভিগম্যতার
ঘাটতি দেশে
দেশে ঐতিহাসিকভাবে
অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা
(সিভিক আনরেস্ট)
উসকে দেয়।
প্রাণপ্রকৃতি বিনাশ
ও জলবায়ু
পরিবর্তনের প্রধান
চালকও দ্রুত
বদলে যাওয়া
খাদ্য ব্যবস্থা;
যেহেতু কৃষি
ও ভূমি
ব্যবহারের পরিবর্তন
বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ
গ্যাস নিঃসরণের
এক-তৃতীয়াংশের
জন্য দায়ী।
একই সঙ্গে
বন, প্যারাবন
ও সাগরের
মতো প্রতিবেশ
ব্যবস্থাগুলো এরই
মধ্যে হুমকি
সৃষ্টিকারী জলবায়ু
পরিবর্তনের প্রভাব
প্রশমন ও
অভিযোজনে মানুষের
প্রচেষ্টার কেন্দ্রীয়
অনুষঙ্গ হয়ে
উঠেছে।
বৈশ্বিক খাদ্য
ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি
স্থায়িত্বশীলতা নিশ্চিতের
জন্য একটা
তাত্পর্যপূর্ণ বহুপক্ষীয়
সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা
প্রয়োজন। এটা
কমিটি অন
ওয়ার্ল্ড ফুড
সিকিউরিটি, ফুড
অ্যান্ড এগ্রিকালচার
অর্গানাইজেশন, ওয়ার্ল্ড
ফুড প্রোগ্রাম
এবং ওয়ার্ল্ড
ব্যাংকের মতো
বিরাজমান কাঠামো
ও প্রতিষ্ঠানের
আদলে নির্মাণ
হতে পারে।
সামনে চারটি
আন্তর্জাতিক বৈঠক
অনুষ্ঠিত হতে
যাচ্ছে। সেগুলো
সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয়
জাতিসংঘ খাদ্য
ব্যবস্থাবিষয়ক শীর্ষ
সম্মেলন, অক্টোবরের
জি২০ সম্মেলন,
নভেম্বরে অনুষ্ঠিত
জলবায়ু সম্মেলন
(কপ২৬) এবং
জাপানি সরকারের
আয়োজনে ডিসেম্বরে
অনুষ্ঠেয় নিউট্রিশন
ফর গ্রোথ
সামিট। দুঃখজনকভাবে
উল্লিখিত বৈঠকগুলোয়
ক্ষুধা ও
খাদ্যনিরাপত্তা সংকট
ও পরিবর্তনশীল
জলবায়ুর সঙ্গে
এর সংযোগের
বিষয়টি খুব
একটা গুরুত্বের
সঙ্গে আলোচ্য
সূচিতে রাখা
হয়নি। এখনো
সময় শেষ
হয়ে যায়নি।
চাইলেই সেটি
অন্তর্ভুক্ত করা
যাবে। আমরা
মনে করি,
এসব সম্মেলনের
প্রতিটিই ক্ষুধা,
দারিদ্র্য ও
খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ইস্যু
মোকাবেলায় জাতীয়
সরকার ও
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে
একটি এফএসএসবি
সৃষ্টির পথ
তৈরি করতে
একযোগে কাজ
করার সুযোগ
দিতে পারে।
এটি খাদ্য
সুশাসন বাড়াতে
ইন্দোনেশিয়া সরকারের
(যারা ২০২২
সালে জি২০
সম্মেলনের সভাপতিত্ব
করবে) ভাষায়,
‘শূন্য
নিঃসরণে যাত্রার
একটি ন্যায্য
ও সামর্থ্যযোগ্য
উত্তরণ’ নিশ্চিতের
বৃহত্তর বৈশ্বিক
প্রচেষ্টার অংশ
হতে পারে।
অধিকন্তু, এ
ধরনের সংস্থার
একটি উৎসাহজনক
নজিরও বিদ্যমান।
২০০৮ সালের
বৈশ্বিক আর্থিক
সংকটের পুনরাবৃত্তি
ঠেকানোর উদ্দেশ্যে
২০০৯ সালের
এপ্রিলে জি২০ভুক্ত
দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা
যে ফাইন্যান্সিয়াল
স্ট্যাবিলিটি বোর্ড
(এফএসবি) প্রতিষ্ঠা
করেছিল, তা
বৈশ্বিক সামষ্টিক
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায়
ইতিবাচকভাবে ভূমিকা
রেখেছে। এখন
প্রতিষ্ঠানটি একটা
প্রভাবশালী, স্বাধীন
ও সমাদৃত-প্রশংসনীয়
সংস্থা হিসেবে
বিবেচিত। এর
পর্যবেক্ষণ ও
অনুসন্ধানগুলো জি২০
দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীসহ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা
তহবিল, বিশ্বব্যাংক
ও আঞ্চলিক
উন্নয়ন ব্যাংকের
প্রধানদের সিদ্ধান্ত
গ্রহণ সরাসরিভাবে
প্রভাবিত করে।
একই ধরনের
একটি এফএসএসবি
যদি প্রতিষ্ঠা
করা যায়,
তাহলে ওই
সংস্থার ওপর
মূল্য স্থিতিশীলতাসহ
বৈশ্বিক খাদ্য
ও স্বাস্থ্য
ব্যবস্থার উন্নয়ন,
বাণিজ্য, কৌশলগত
রিজার্ভ এবং
উৎপাদনের ওপর
জলবায়ু পরিবর্তনের
প্রভাবের মতো
ইস্যুগুলো সমাধানের
দায়িত্ব ন্যস্ত
করা যাবে।
আলোচ্য সংস্থা
পুরোপুরিভাবে জাতীয়
সার্বভৌমত্বকে সম্মান
করবে। তারা
আইনগতভাবে বাধাপ্রাপ্ত
হতে পারে
এমন সুপারিশগুলো
দেবে না;
বরং তারা
সরকারগুলোকে এমন
এক খাদ্য
ব্যবস্থা বির্নিমাণের
কৌশল গ্রহণে
পরামর্শ দেবে,
যা ভবিষ্যৎ
অভিঘাত মোকাবেলা
এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ
খাদ্যের বৃহত্তর
বৈশ্বিক প্রবেশাধিকার
নিশ্চিতে আমাদের
আরো ভালোভাবে
প্রস্তুত করে
তুলবে।
সরকারগুলো যদিও
এফএসএসবির সুনির্দিষ্ট
পরিধি ও
গঠন কাঠামো
বেঁধে দেবে,
তবু আমরা
মনে করি
যে কয়েকটি
উপায়ে সহায়তামূলক
ভূমিকা পালন
করতে পারবে
সংস্থাটি। উদাহরণস্বরূপ,
খাদ্য সম্পর্কিত
বাণিজ্যনীতিগুলোর বিষয়ে
বিশ্ববাণিজ্য ও
জাতীয় সরকারগুলোকেও
পরামর্শ দিতে
পারবে প্রতিষ্ঠানটি।
আবার পরির্বতনশীল
বাজার গতিশীলতা
ও জলবায়ুর
উদ্বায়িতা মোকাবেলায়
দেশগুলোকেও সাহায্য
করতে পারবে
এটি।
এছাড়া এফএসএসবি
পাঁচ বছরের
খাদ্য ব্যবস্থার
ঝুঁকি মূল্যায়ন
ও স্থায়িত্বশীল
পরিকল্পনা বিষয়ে
একটি স্বেচ্ছামূলক
প্রতিবেদন তৈরিতে
দেশগুলোকে সহায়তা
করতে পারবে।
সংস্থাটি জলবায়ু
পরিবর্তন, সংঘাত,
শস্য বৈচিত্র্য
ঘাটতি, পরাগায়ণের
ক্ষতি ও
অন্য হুমকিসহ
বৈশ্বিক খাদ্যসংক্রান্ত
নাজুকতাগুলো সম্পর্কে
জ্ঞান আহরণ
এবং বিনিময়ও
করতে পারবে।
একই সঙ্গে
সেগুলোর সমাধানে
প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক,
তত্ত্বাবধানমূলক এবং
স্বেচ্ছাধীন পদক্ষেপ
চিহ্নিত ও
পর্যালোচনা করতে
পারবে।
এফএসএসবি আন্তঃসীমান্ত
সংকট ব্যবস্থাপনা,
বিশেষ করে
পদ্ধতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ
শস্য বা
সুনির্দিষ্টভাবে জলবায়ু
নাজুকতা, প্রাণবৈচিত্র্য
ধ্বংস বা
ভবিষ্যৎ মহামারী
দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত
হতে পারে
এমন এলাকাগুলোর
ব্যবস্থাপনা বিষয়ে
আকস্মিকতা পরিকল্পনায়
(কন্টিনজেন্সি প্ল্যানিং)
সহায়তা করতে
পারে। চার
ধারার অধীনে
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর
সঙ্গে আন্তর্জাতিক
মুদ্রা তহবিলের
হওয়া নিয়মিত
আলোচনা সভায়
প্রাণবৈচিত্র্য, খাদ্য
ও ভূমি
ব্যবহার ব্যবস্থা
সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো
অন্তর্ভুক্ত করতে
সংস্থাটি আইএমএফের
সঙ্গে যৌথভাবে
কাজ করতে
পারে।
এফএসএসবি কৃষি,
পল্লী উন্নয়ন,
ব্যবসা-বাণিজ্য,
স্বাস্থ্য, পরিবেশ
ও অর্থ
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট
জাতীয় প্রতিনিধি
এবং বৈশ্বিক
খাদ্য ব্যবস্থার
ঝুঁকি নিয়ে
কাজ করা
শীর্ষ বৈজ্ঞানিক
ও আন্তর্জাতিক
মানদণ্ড নির্ধারণকারী
ব্যক্তিদের নিয়ে
গঠিত হতে
পারে। এফএসবির
মতো নতুন
সংস্থাটির অভীষ্ট
গোষ্ঠী হবে
সরকারপ্রধান, অর্থনীতি
ও অন্য
পোর্টফোলিওসহ সদস্য
রাষ্ট্রগুলো।
সমতা ও
একুশ শতক
ও তত্পরবর্তী
বৈশ্বিক খাদ্য
ব্যবস্থার স্থায়িত্বশীলতা
টেকসই করতে
আন্তর্জাতিক সুশাসন
নকশায় বর্তমানে
উল্লেখযোগ্য ঘাটতি
হলো বর্তমানে
একটি এফএসএসবির
অনুপস্থিতি। জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের
বৈঠক এবং
ইউএন ফুড
সিস্টেমস সামিটে—উভয়ই
সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত
হচ্ছে—সরকারগুলো
এ ধরনের
একটি সংস্থা
গঠনে এক
বছরের আলোচনা
প্রক্রিয়া শুরু
করার ব্যাপারে
সম্মত হতে
পারে। এটা
করার মাধ্যমে
তারা কয়েকশ
মিলিয়ন নাজুক
জনগোষ্ঠীর জন্য
একটি অধিকতর
ভালো ভবিষ্যৎ
বিনির্মাণে অবদান
রাখতে পারে
এবং সবার
জন্য খাদ্য
ও নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে
পারে।
সান্দরিন ডিক্সসন ডিকলিভ:
ক্লাব অব
রোমের সহসভাপতি
হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো:
কলম্বিয়ার সাবেক
অর্থমন্ত্রী, কলাম্বিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
ফিলিয়া সেলিম: দ্য
পার্টনারশিপ ফর
গভর্ন্যান্স রিফর্ম
পর্ষদের প্রধান,
ফুড অ্যান্ড
ল্যান্ড ইউজ
কোয়ালিশনের দূত
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে ভাষান্তর










