কভিড অতিমারী ভারতের গরিবদের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বাড়তি নির্ভরশীল করে তুলেছে। যেমন পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের (পিডিএস) মধ্যে একটি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পিডিএসসহ অনেকগুলোই সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে না আধার কার্ড-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে।

আধার কার্ড সম্পর্কিত খাদ্যশস্যের রেশন বন্ধ করার কারণ অনুসন্ধানে কতগুলো ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ের লোকনীতি-সিএসডিএস জরিপের ওপর ভিত্তি করে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অল্প কদিন আগে প্রকাশ করেছেন শ্রেয়াস সার্দেশাই (দেখুন ১৭ এপ্রিল ২০২১ তারিখের দৈনিক দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন: ‘আধার কার্ড-সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলে রেশন ও এ-সংক্রান্ত সুবিধাদি বাতিল করা হচ্ছে)। সারা ভারতের ১২ হাজার ভোটারের ওপর পরিচালিত জরিপটি করা হয়েছিল ২০১৯ সালে। এ ভোটারদের পাঁচ ভাগের মধ্যে চার ভাগ রেশন কার্ডধারী ছিল, যাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে তারা আধার কার্ড না থাকা কিংবা এ-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে খাদ্যশস্যের রেশন থেকে বঞ্চিত হয়েছিল কিনা। যেমন বায়োমেট্রিক পদ্ধতির যাচাইকরণে ত্রুটি কিংবা আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ডের সংযোগে ব্যর্থতার কারণে তাদের খাদ্যশস্যের রেশন বন্ধ করা হয়েছিল কিনা। সর্বভারতে এর উত্তরদাতাদের মধ্যে শতকরা ২৮ ভাগই জানিয়েছেন যে তারা খাদ্য-রেশন পাচ্ছেন না। জরিপে নিম্ন আয়ের খানাগুলোর মধ্যে শতকরা ৩৯ ভাগই জানাচ্ছে, তারাও রেশন পাচ্ছেন না এবং বিহার, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশ—যাদের সংক্ষেপে বিআইএমএআরইউ বলা হয়ে থাকে—সেসব প্রদেশে কার্ডধারী হয়েও রেশন পাচ্ছেন না শতকরা ৪০ ভাগ ভোটার।

পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের (পিডিএস) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত লোকদের আধার কার্ড-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যে খাদ্য-রেশন দেয়া হয় না, এটি সর্বজনবিদিত। এটি একটু বিভ্রান্তিকরই শোনাবে, কারণ অধিকাংশ লোকেরই একটি আধার কার্ড আছে এবং বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাচাইকরণে ব্যর্থ হলে তা পিডিএস ব্যবহারকারীদের একটি ক্ষুদ্র অংশেরই হওয়ার কথা। এমন বিচলিত হওয়ার মতো সংখ্যাকে তাহলে আমরা ব্যাখ্যা করব কীভাবে?

আপাতদৃষ্টিতে এর একটি যুক্তিসংগত উত্তর হলো, সংখ্যাগুলো একথা বলছে যে আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ডের    সংযুক্তির বিষয়টি ‘চূড়ান্ত পদ্ধতি’ (আল্টিমেটাম মেথড) হিসেবে ব্যাপকভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে আধার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্তির একটি সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। এরপর লোকদের বলা হয়েছিল যে যদি তারা ওই সময়ের মধ্যে তাদের আধার কার্ডটিকে যুক্ত করতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের সুবিধাদি—এক্ষেত্রে খাদ্য-রেশন—সাময়িকভাবে অকার্যকর করা হবে। এ পদ্ধতি অনেক রাজ্যে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হলো, যেখানে শুধু আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ডের সংযুক্তির মধ্যেই সীমিত থাকেনি; বরং তা চাকরির কার্ড, অবসর ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা, ব্যাংক হিসাব নম্বর, আয়কর প্রদানকারী শনাক্তের নম্বর (পিএএন) ইত্যাদি। এটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য আছে নরম ব্যবস্থা।

এ ধরনের অসমদর্শী পদ্ধতি প্রয়োগের বিপদ সম্পর্কে আমাদের সজাগ করতে ঝাড়খণ্ডের অভিজ্ঞতা আলো ফেলবে। চূড়ান্ত পদ্ধতিটি ২০১৭ সালে বেশ জোরেশোরেই প্রয়োগ করা হয়, যেখানে আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ডের সংযোগ করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মুখ্য সচিব ২০১৭ সালের মার্চের ২৭ তারিখে ঘোষণা দেন, ‘রাজ্যের যেসব রেশন কার্ড আধার কার্ডের সঙ্গে ৫ এপ্রিলের মধ্যে যুক্ত হতে না পারবে, সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।’ একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ঝাড়খণ্ডের সরকার অত্যন্ত দাম্ভিকতার সঙ্গে ‘ভুয়া রেশন কার্ডে’র দাবি তুলে লাখ লাখ রেশন কার্ড বাতিল করে দেয়। যাই হোক, পরবর্তী সময়ে এটি প্রমাণিত হয়, বাতিলকৃত রেশন কার্ডধারীরা জীবিত আছেন এবং তারা রেশন পাওয়ার যোগ্য। এই বঞ্চিত পরিবারগুলোর মধ্যে সন্তোশি কুমারীর পরিবারও ছিল। ১১ বছর বয়সী এই দলিত মেয়ে দীর্ঘ সময় খেতে না পেয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর মারা যায়।

পুরো প্রক্রিয়াটিই নানা দিক দিয়ে আপত্তিকর। আধার কার্ডের সঙ্গে রেশন কার্ডের সংযোগ স্থাপন গরিব লোকদের জন্য সবসময় সহজ নয়, কারণ এজন্য কোথায় যেতে হবে, কী করতে হবে—এসব তারা না-ও জানতে পারেন। এমনকি আধার কার্ডের ভুল তথ্য সংশোধন কীভাবে করতে হবে, তাও না জানতে পারেন। এ ধরনের আরো অনেক সমস্যা আছে। তাদের সহযোগিতা ও সুরক্ষার বড়ই অভাব। রেশন কার্ড বাতিলের আগে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়নি এবং ভুক্তভোগীদের জানানোও হয়নি যে তাদের কার্ড বাতিল করে দেয়া হচ্ছে। এমনকি রেশন কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের আপিল করার কোনো অধিকারও দেয়া হয়নি। বাতিলকৃত কার্ডের তালিকা কোনো অবাধ বিষয় ক্ষেত্রের তথ্যভাণ্ডারেও দেয়া হয়নি। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বারবার দাবি সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের সরকার সে তালিকা প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডের এ পদ্ধতি খুব স্বাভাবিকভাবেই দেশের সর্বত্র ব্যবহূত হয়ে আসছে। কয়েক বছর ধরে আধারের সঙ্গে রেশন কার্ডের সংযুক্তির ক্রমাগত ব্যবহারে এটি প্রায় সর্বজনীনতায় পরিণত হয়েছে। মোদ্দাকথা হলো, গরিব লোকদের খাদ্য-রেশন না দেয়ার অথবা রেশন কার্ড বাতিলের হুমকি দেয়া হয় যদি তারা তাদের কার্ডকে আধারের সঙ্গে সময়মতো যুক্ত করতে না পারেন। সময় সময়ে এ হুমকি দাগানো হয় যেন লোকেরা এটিকে অবশ্য করণীয় হিসেবে বিশ্বাস করে। ফলে খাদ্য-রেশন বাতিলের সমস্যায় কেন এত বেশি লোক আধারসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে অভিযোগ করছে, তার কারণ হলো একটা সময়ে এটি লোকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য যুক্তি হয়ে উঠেছে। অধিকন্তু, অনেক মানুষ অবশ্য আধারসংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যায়ও পড়ছেন। যেমন বায়োমেট্রিক যাচাইকরণে ত্রুটি, নেটওয়ার্ক সংযোগের সমস্যা—এগুলোও মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেগুলো গত কয়েক বছরে আধারসংক্রান্ত বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের দুর্বলতার দিক।

খাদ্য-রেশন বাতিল গরিব লোকের জন্য সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করে কিন্তু খোদ রেশন কার্ডটিকেই বাতিল করে দেয়া তাদের জন্য তার চেয়ে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করে। আধার সংযোগের অভাবে এ পর্যন্ত কতগুলো রেশন কার্ড বাতিল হয়েছে? কেউই জানে না এ সংখ্যা কত? ঝাড়খণ্ডে বাতিলকৃত কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ, যা এ রাজ্যে প্রদত্ত মোট রেশন কার্ডের ৬ শতাংশ। এই বিশ্বাসযোগ্য অনুমানের ভিত্তি হলো সরকারি বিভিন্ন বিবৃতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে কার্তিক মুরালিধরন ও তার সহকর্মীদের পরিচালিত সমীক্ষায় যেসব তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজ্যসভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ভারতবর্ষে ২ কোটি ৬ হাজার রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এর ভেতর আধার সংযোগের অভাবের কারণে কতগুলো বাতিল হয়েছে, তা কোনো একজনের কল্পনাতেই ছেড়ে দেয়া হলো। আদালতে সন্তোশি কুমারীর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বর্তমানে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

এসবই আসলে পুরো গল্পের একটিমাত্র দিক। আগেই বলেছি, এ আল্টিমেটাম মেথড বা চূড়ান্ত পদ্ধতিটি সামাজিক সুরক্ষার অন্যান্য সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও ব্যবহূত হচ্ছে। ভারতের অনেক রাজ্যেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে জব কার্ড বা চাকরির কার্ড গণহারে বাতিল করা হচ্ছে, সুরক্ষার অধীন সচল অবসর ভাতা বন্ধ করা হচ্ছে অথবা ব্যাংক হিসাব স্থিতাবস্থায় রাখা হচ্ছে। এগুলো করারও যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু এ সবকিছুই করতে হবে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কোনো ধরনের যৌক্তিক পদ্ধতি (সুবিধা বাতিলের আগে সতর্কীকরণ বার্তা প্রদান, যাচাইকরণ, সৌহার্দপূর্ণ আচরণ, আপিল করার অধিকার, পূর্ণ তথ্য উন্মোচন ইত্যাদি) অনুসরণ না করে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা স্পষ্টতই অন্যায্য।

অনুবাদকের ব্যাখ্যা: রেশন কার্ড হলো ভারত সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত খানাপ্রতি কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে কিনতে পারে। ভারতের জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা আইনের অধীনে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম—পিডিএস বা গণবণ্টন ব্যবস্থার আওতাধীন খাদ্যসামগ্রী ভর্তুকি মূল্যে রেশন কার্ডধারীদের দেয়া হয়। 

পিডিএস বা গণবণ্টন ব্যবস্থা হলো ভারত সরকারের দরিদ্রদের জন্য ভর্তুকির মাধ্যমে কম দামে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত সামগ্রী বিতরণ ব্যবস্থা। এটি ভারত সরকারের খাদ্যনিরাপত্তা আইনের অধীনে খাদ্য, ভোক্তা ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত কার্যক্রম। সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে গম, চাল, চিনি, কেরোসিন তেল এবং অতিসম্প্রতি ডাল খাদ্যসামগ্রীর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এগুলো  ভারতজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে বিস্তৃত অসংখ্য ন্যায্যমূল্যের স্টোর বা রেশন দোকান—যেগুলো সরকারি মালিকানাধীন সমবায়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থাটিই পিডিএস। সমালোচনা রয়েছে যে এটি কিছুটা শহরকেন্দ্রিক এবং অনেক গরিব পরিবার পিডিএসের কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে। বাদ পড়ার একটি কারণ হলো, ভারত সরকার জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা আইনের অধীনে পিডিএস কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ধরেছে ২০১১ সালের প্রদেশওয়ারি জনমিতির ভিত্তিতে। প্রসঙ্গত, জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা আইন অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ ভারতীয় পরিবার খাদ্যসহায়তা পেয়ে আসছে। ফলে ২০১১ সালের সমীক্ষার পরিবর্তে ২০২০ সালের প্রক্ষেপিত জনমিতির হিসাবে দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা হিসাব করে প্রত্যেক রাজ্যের সরকার নতুন রেশন কার্ড ইস্যু করতে পারে। আর যদি তা করা হয়ও, তবু সেসব গরিব পরিবারগুলো খাদ্যসামগ্রীর রেশনের সঙ্গে নগদ অর্থ পাওয়ার ব্যাপারটিও যেন অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং তা বিবেচনায় রাখা জরুরি।    

বাংলাদেশে যাকে আমরা টিআইএন নম্বর বা ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর বলি, ভারতে তা পিএএন বা পার্মানেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর। ভারতের আয়কর বিভাগ কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড বা সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডিরেক্ট ট্যাক্সেসের তত্ত্বাবধানে প্রত্যেক আয়কর প্রদানকারীকে একটি ১০ সংখ্যার শনাক্তকরণ নম্বর প্রদান করে। আয়কর প্রদানকারী যে রাজ্যেই ঠিকানা পরিবর্তন করুন না কেন এ নম্বরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 

ভারতে জব কার্ড (জেসি) বা চাকরির কার্ড হলো মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের (এমজিএনআরইজিএ) অধীন পরিচালিত বেকারদের জন্য কাজের নিশ্চয়তার কার্ড। এ কার্ডধারী কর্মহীন কেউ কাজের জন্য আবেদন করার ১৫ দিনের ভেতর তাকে সবেতন ও অন্যান্য সুবিধাসমেত কাজের জন্য স্বত্বাধিকারী হবেন। ২০০৫ সালে ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট (এনআরইজিএ) তৈরি হয়, যেখানে একজন অদক্ষ গ্রামবাসী ১০০ দিনের জন্য কাজ পাওয়ার অধিকারী হবেন, যদি তিনি স্বেচ্ছায় কাজ করতে রাজি থাকেন। পরে আইনটি মহাত্মা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়। এর মাধ্যমে সরকার গ্রামে অব্যবহূত শ্রমশক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টিতে কাজে লাগায়। যেমন গ্রামে পুকুর, কূপ ও খাল খনন, রাস্তাঘাট তৈরি ইত্যাদি। তবে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের (এমজিএনআরইজিএ) কার্ডধারীদের তালিকাটার সুনাম ও বেশি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, কারণ এতে সত্যিকারভাবেই গ্রামীণ কর্মহীনদের তথ্য রয়েছে, যেখানে প্রধানত গরিব পরিবারগুলো অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জন-ধন যোজনা (পিএমজেডিওয়াই) প্রকল্পের তালিকার মধ্যে অনেক মধ্যমশ্রেণীর লোকজন ঢুকে পড়েছে এবং অনেক গরিব পরিবারকে বাদ দেয়া হয়েছে।   

জঁ দ্রেজ: লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও দিল্লি স্কুল ইকোনমিকসের সাবেক অধ্যাপক। ভারত সরকারের ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য ও প্ল্যানিং কমিশনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অতিথি অধ্যাপক

ভাষান্তর: আহমেদ জাভেদ, সভাপতি, বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন। বর্তমানে অর্থনীতির খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।