গেল শতকে
অর্থশাস্ত্রে
যারা
‘নোবেল’ পুরস্কার
পেয়েছিলেন,
তাদের
অবদান
ও
মূল্যায়নের
ওপর
প্রায়
দুই
দশক
আগে
আমি
একটি
বই
(Frontiers
of Economics: Nobel Laureates of the
Twentieth Century) সম্পাদনা
করেছিলাম।
২০০২
সালে
এটি
প্রকাশিত
হয়
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের
‘গ্রিনউড প্রেস’
থেকে।
বিপণনের
কাজ
মন্থরগতিতে
চলেছে
অনেক
বছর
ধরে—কে
জানে
হয়তোবা
আজও
জারি
আছে।
এখনো
মনে
পড়ে
সেই
দিনগুলোর
কথা,
বইটির
সম্পাদনার
কাজ
সম্পন্ন
করতে
আমার
১০টি
বছর
লেগেছিল!
জীবনে
এত
দীর্ঘমেয়াদি
গবেষণা
প্রকল্প
আমি
আর
কখনো
হাতে
নিইনি—আয়েন্দাও তেমন কোনো
সম্ভাবনা
নেই।
আজ
যে
সওয়াল
নিয়ে
আপনাদের
সামনে
হাজির
হয়েছি,
ওই
দশকজুড়ে
এমন
ভাবনা
ক্ষণিকের
জন্যও
আমার
মনের
কোণে
উদয়
হয়নি।
এতদিন
যে
প্রশ্ন
আমাকে
তাড়া
করেনি,
কিছু
লিখতে
তাগিদ
দেয়নি,
এখন
কেন
এমনটি
হলো?
তারও
একটি
জবাব
আছে
বটে,
কিন্তু
সেদিকে
আজ
আর
যেতে
চাই
না;
এর
বিপরীতে
বরং
শিরোনামের
অন্তর্নিহিত
প্রশ্নের
প্রতিই
আপনাদের
দৃষ্টি
কেন্দ্রীভূত
রাখতে
চাই।
শুরুতে
দেখা
যাক
এই
বিশেষ
‘নোবেল’ পুরস্কারটা
কী
এবং
এর
উত্পত্তিই-বা
কখন,
কোথায়,
কীভাবে
হলো।
মোটাদাগে
অর্থনীতিতে
নোবেল
বলতে
আমরা
তা-ই
বুঝি,
যা
কিনা
১৯৬৯
সাল
থেকে
প্রতি
অক্টোবরে
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেস
(আরএসএএস) এক
বা
একাধিক
অর্থশাস্ত্রে
নিবেদিতপ্রাণ
পণ্ডিতদের
দিয়ে
আসছে।
সুইডেনের
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’
১৯৬৮
সালে
এ
পুরস্কারের
গোড়াপত্তন
করে।
এর
পোশাকি
নাম
হলো
‘আলফ্রেড নোবেল
স্মরণে
অর্থনীতিতে
ব্যাংক
অব
সুইডেন
পুরস্কার’,
ইংরেজিতে
যাকে
বলে
Bank
of Sweden Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel অথবা
Nobel
Memorial Prize in Economic Sciences।
বলা
বাহুল্য,
এর
সঙ্গে
১৮৯৫
সালে
আলফ্রেড
নোবেল
যে
ঐতিহাসিক
ও
তাত্পর্যময়
অসিয়তনামা
সই
করে
গেছেন,
তার
কোনো
সরাসরি
সম্পর্ক
নেই
এবং
এ
কথাও
বলা
যায়,
১৯০১
সাল
থেকে
রসায়নশাস্ত্র,
প্রকৃতিবিজ্ঞান
(Physics),
চিকিৎসাশাস্ত্র,
সাহিত্য
ও
বিশ্বশান্তিতে
যে
সুপ্রসিদ্ধ
ও
আকর্ষণীয়
পুরস্কার
দেয়া
হয়,
অর্থশাস্ত্রে
প্রদত্ত
এ
পুরস্কারের
সঙ্গে
তারও
তেমন
কোনো
যোগসূত্র
নেই।
এর
টাকাটাও
‘নোবেল’ ফাউন্ডেশনের
মূল
পুঁজি
থেকে
আসে
না,
আসে
সুইডিশ
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের
দেয়া
একটি
বড়
অনুদান
থেকে।
এখন
প্রশ্ন
হলো,
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’-এর
সৌজন্যে
প্রতিষ্ঠিত
এ
পুরস্কারকে
কি
‘নোবেল’ পুরস্কার
বলা
যায়?
আজকের
এই
মূল
প্রশ্নে
যাওয়ার
আগে
বিতর্কিত
এবং
অভিনব
এ
পুরস্কারের
ইতিহাসটা
আরেকটু
ভালো
করে
জেনে
নিতে
চাই।
১৯৬৮
সালে
পৃথিবীর
সবচেয়ে
পুরনো
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’-এর
৩০০
বছর
পূর্তি
উপলক্ষে
সংস্থাটির
তদানীন্তন
গভর্নর
পার
অ্যাসব্রিংক
(Per
Asbrink)-এর
মগজ
থেকে
এ
পুরস্কারের
ধারণা
জন্ম
নেয়।
প্রথমে
তিনি
বিষয়টি
ঘরোয়াভাবে
উত্থাপন
করেন
তিনজন
বিশিষ্ট
সুইডিশ
অর্থনীতিবিদের
কাছে।
তারা
সবাই
এ
ব্যাংকের
৩০০
বছর
পূর্তি
কমিটির
অর্থনৈতিক
উপদেষ্টা
ছিলেন।
তাদের
নাম
অ্যাসার
লিন্ডবেক
(Assar
Lindbeck), এরিক
লুন্ডবার্গ
(Eric
Lundburg) ও
গুনার
মিরডেল
(Gunnar
Myrdal)। পুরস্কারের
ব্যাপারে
পার
অ্যাসব্রিংকের
প্রস্তাব
শোনার
সঙ্গে
সঙ্গে
তিনজনই
একযোগে
অভিভূত
ও
ইতিবাচক
প্রতিক্রিয়া
দেখান।
পরামর্শকদের
মৌখিক
অনুমোদনের
পর
ব্যাংকের
স্বাভাবিক
সিদ্ধান্ত
প্রক্রিয়া
অনুসরণ
করে
পার
অ্যাসব্রিংক
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেসের
কাছে
আনুষ্ঠানিকভাবে
প্রস্তাব
দেন,
তারা
যেন
সনাতনী
‘নোবেল’-এর
মান
বজায়
রেখে
অর্থশাস্ত্রের
জন্য
একটি
নতুন
পুরস্কার
চালু
করেন।
অন্য
কথায়,
তিনি
‘নোবেল’ পুরস্কারের
মূল
পাঁচটি
বিষয়ের
সঙ্গে
‘অর্থনীতিকে’ও
যোগ
করতে
চাইলেন।
প্রস্তাবটির
সঙ্গে
অ্যাসব্রিংক
নোবেল
ফাউন্ডেশনকে
একটি
বড়
অনুদান
দেয়ারও
ঘোষণা
দিলেন,
যার
ফি-বছর
মুনাফা
থেকে
নতুন
পুরস্কারের
টাকাটা
উঠে
আসার
কথা।
বিষয়টি
যখন
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেসের
পূর্ণাঙ্গ
সভার
আলোচ্যসূচিতে
উঠে
এল
তখন
অর্থনীতিবিদরা
ছাড়া
এর
বাকি
সদস্যরা
ঘোর
আপত্তি
জানালেন।
আপত্তিকারকদের
বক্তব্য
ছিল—বিজ্ঞানের
তিনটি
শাখায়
‘নোবেল’ পুরস্কার
চালু
করা
হয়েছে
বিশেষ
বিশেষ
বৈজ্ঞানিক
আবিষ্কারকে
মূল্যায়ন
ও
স্মরণীয়
করে
রাখার
জন্য,
আবিষ্কারককে
ব্যক্তিগতভাবে
মহিমান্বিত
করার
নিমিত্তে
নয়।
এ
বিবেচনায়
অর্থনীতি
কোনোক্রমেই
রসায়নশাস্ত্র,
প্রকৃতিবিজ্ঞান
কিংবা
চিকিৎসাশাস্ত্রের
মতো
একটি
নৈর্ব্যক্তিক,
সূক্ষ্ম
ও
সুব্যক্ত
বিজ্ঞান
নয়।
অর্থনীতির
সূত্র
ও
তত্ত্বাবলির
ধরন
ও
প্রকৃতি
এমন
যে
এদের
একটা
থেকে
আরেকটাকে
সুস্পষ্ট
ও
সূক্ষ্মভাবে
আলগা
করা
যায়
না।
তবে
একাডেমির
অর্থনীতিবিদ-সদস্যরা
জোরগলায়
এ
পুরস্কারের
সপক্ষে
যুক্তি
দেখালেন
এবং
এদের
মাঝে
গুনার
মিরডেল
ছিলেন
সবচেয়ে
বেশি
সরব
ও
উচ্চকণ্ঠ।
অনেক
বাদানুবাদ
ও
আলাপ-আলোচনার
পর
প্রধানত
মিরডেলের
যুক্তির
জোরেই
নাকি
অবশেষে
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেসের
সভায়
প্রস্তাবটি
গৃহীত
হয়
এবং
তারপর
আইনগত
সব
নিয়মকানুন
ধারাবাহিকভাবে
সম্পন্ন
করে
প্রতিশ্রুতি
অনুযায়ী
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’
টাকা-পয়সার
আঞ্জাম
দেয়
এবং
ঠিক
হয়
পরবর্তী
বছর
অর্থাৎ
১৯৬৯
সাল
থেকে
পুরস্কারটি
চালু
হবে
এবং
হয়েছেও
তা-ই।
তাজ্জবের
বিষয়,
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেসের
অতি
গুরুত্বপূর্ণ
ওই
সভায়
অর্থনীতিবিদদের,
বিশেষ
করে
মিরডেলের
যুক্তিটি
কী
ছিল
বিভিন্ন
সূত্র
তালাশ
করেও
আমি
তার
কোনো
হদিস
পাইনি।
মজার
ব্যাপার
হলো,
চালু
হওয়ার
আগে
এ
পুরস্কারকে
কেন্দ্র
করে
বিতর্ক
ছিল
অর্থনীতিবিদ
ও
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেসের
অন্যান্য
পেশাজীবী
সদস্যের
মধ্যে।
পুরস্কার
চালু
হওয়ার
পর
মতান্তরের
অবসান
তো
হলোই
না,
বরং
বাইরের
বাদানুবাদ
ঘরে
চলে
এল।
এবার
অর্থনীতিবিদরা
নিজেরাই
দুই
ভাগে
বিভক্ত
হয়ে
আরো
তীব্র
ঝগড়া-ফ্যাসাদে
জড়িয়ে
পড়লেন।
এক
ভাগ
দাঁড়িয়ে
গেলেন
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’
পুরস্কারের
পক্ষে,
আরেক
ভাগ
বিরুদ্ধে।
যারা
পুরস্কারটি
মেনে
নিতে
পারলেন
না,
তাদের
বয়ান—অর্থনীতি
এমন
একটি
আত্মনিষ্ঠ
ও
আত্মমাত্রিক
(Subjective)
প্রসঙ্গ
বা
অনুষঙ্গ
যে
এর
তত্ত্বগুলোকে
বস্তুনিষ্ঠভাবে
(Objectively)
বিবেচনা
করা
যায়
না
এবং
মূল্যায়নও
করা
যায়
না।
তাই
‘নোবেল’ পুরস্কারের
জন্য
এটি
মোটেও
জুতসই
একটি
বিষয়
নয়।
যারা
এ
বিশ্বাস
ধারণ
করেন,
তারা
শুরুতেই
সর্বকালের
অন্যতম
শ্রেষ্ঠ
অর্থনীতিবিদ
জন
ম্যানার্ড
কেইনসের
(John Maynard
Keynes) একটি
উক্তির
মোক্ষম
সদ্ব্যবহার
করতে
কসুর
করেননি,
‘অর্থনীতি যতটা
বৈজ্ঞানিক
প্রক্রিয়ার
ওপর
নির্ভর
করে,
ততটাই
করে
মূল্যবোধ,
অনুমান,
নীতি-নৈতিকতা
এবং
অন্তরোবলোকনের
ওপর।’
আরো
মজার
ব্যাপার
হলো,
যে
মিরডেলের
যুক্তির
জোরে
পুরস্কারটি
প্রতিষ্ঠিত
হলো,
তিনি
নিজেই
এ
পুরস্কার
পাওয়ামাত্র
একেবারে
৩৬০
ডিগ্রি
ঘুরে
গেলেন।
বিতর্কে
যোগ
দিয়েই
মিরডেল
দৃঢ়কণ্ঠে
ঘোষণা
দিলেন,
“অর্থনীতি একটি
সংবেদনশীল
বিজ্ঞান
(Soft Science), যার
না
আছে
কোনো
‘ধ্রুব সংখ্যা’
(Constant) না
আছে
কোনো
‘প্রাকৃতিক বিধিবিধান’
(Laws
of Nature) এবং
ক্রমাগত
বিজ্ঞান
ও
রাজনীতির
(Science
& Politics) মাখামাখির
কারণে
সুস্পষ্ট
ও
সুনির্দিষ্টভাবে
এর
কোনো
উপসংহারও
টানা
যায়
না।”
শুধু
তাই
নয়,
তিনি
রীতিমতো
এক
বিস্ফোরক
মন্তব্য
করে
বসলেন।
তার
ভাষায়,
১৯৭৪
সালে
ফ্রিডরিক
হায়েকের
মতো
একজন
‘প্রতিক্রিয়াশীল’-এর
সঙ্গে
তাকে
এ
পুরস্কার
দিয়ে
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেস
নাকি
রাজনীতির
এক
নোংরা
খেলা
খেলেছে!
মিরডেলের
এই
ধারালো
নেতিবাচক
মন্তব্য
থেকে
বোঝা
যায়,
তিনি
বিষয়টিকে
যতটা
না
জ্ঞানজাগতিকতার
সঙ্গে
দেখেছেন,
তার
চেয়ে
অনেক
বেশি
বিবেচনা
করেছেন
ব্যক্তিগত
আক্রোশের
বশবর্তী
হয়ে।
তিনি
মনে
করেন,
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেস
হায়েকের
সঙ্গে
এ
পুরস্কার
দিয়ে
তাকে
সম্মানিত
তো
করেইনি,
বরং
অপমানিত
করেছে!
বিষয়টি
মিরডেলকে
এতটাই
ক্ষুব্ধ
করেছিল
যে
একসময়
তিনি
এ
পুরস্কার
বাতিলের
জন্য
রীতিমতো
আদাজল
খেয়ে
মাঠে
নেমেছিলেন।
এবার
শুনুন
অন্য
‘নোবেল’ বিজয়ী
ফ্রিডরিক
হায়েক
কী
বলছেন।
তিনি
অবশ্য
মিরডেলের
প্রতি
পাল্টা
নিন্দাবাণ
ছুড়ে
দেননি।
তিনি
তার
নোবেল
ব্যাংকোয়েট
বক্তৃতায়
নোবেলেরই
এক
নাতিদীর্ঘ
সমালোচনা
উপস্থাপন
করে
বসলেন।
তার
কথায়,
‘নোবেল প্রাইজ
ব্যক্তির
ওপর
এমন
এক
কর্তৃত্ব
আরোপ
করে,
যা
কিনা
অর্থনীতির
ক্ষেত্রে
একেবারেই
অপ্রত্যাশিত
ও
বেমানান।’
তিনি
এ
নিয়ে
অতি
গুরুত্ব
সহকারে
গভীর
শঙ্কা
প্রকাশ
করেন।
তার
ভয়—অর্থনীতির
এই
‘নোবেল’ পুরস্কার
সাংবাদিক
ও
রাজনীতিবিদদের
ওপর
এমনভাবে
প্রভাব
বিস্তার
করবে
যে
তারা
একটি
তত্ত্বকে
বেদবাক্যের
পর্যায়ে
নিয়ে
যাবেন।
তারা
ভুলে
যাবেন
যে
অর্থনীতির
প্রতিটি
তত্ত্ব
নিশ্চিতভাবে
অনিশ্চয়তা
ও
ঝুঁকিতে
পরিপূর্ণ।
হায়েক
আরো
বলেছিলেন,
পুরস্কার
চালু
করার
আগে
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেস
তার
মতামত
জানতে
চাইলে
তিনি
অবশ্যই
এর
সপক্ষে
না
বলে
বিরুদ্ধেই
মত
দিতেন।
নোবেল
নিয়ে
নোবেল
বিজয়ীদের
এমন
কঠিন
ও
কঠোর
মূল্যায়ন
বিপরীত
পক্ষকে
একটুও
টলাতে
পারেনি।
যারা
এ
পুরস্কারের
পক্ষে
দাঁড়ালেন
তাদের
দাবি—আধুনিক
অর্থশাস্ত্রের
গুরুত্ব,
তাত্পর্য
ও
ব্যবহারিক
উপযোগিতা
এবং
এর
গাণিতিক
ও
বৈজ্ঞানিক
ভিত্তি
একটি
‘নোবেল’
পুরস্কারের
উপযুক্ততার
জন্য
যথেষ্ট
মজবুত।
তারা
আরো
বললেন,
আজ
অবধি
যেসব
গুণীজন
এ
পুরস্কার
পেয়েছেন
তাদের
অনেকে
নিজেরাই
প্রকৃতিবিজ্ঞানী
(ন্যাচারাল সায়েন্টিস্ট) যেমন
ইয়ান
টিনবারজেন,
জালিং
কুপম্যানস,
লিওনিড
ক্যান্টোরোভিচ,
জেরার্ড
ডেব্রু
ও
আরো
অনেকে।
এছাড়া
অধিকাংশ
‘নোবেল’
বিজয়ী
অর্থনীতিবিদ
তাদের
গবেষণায়
ও
বিশ্লেষণে
সুনির্দিষ্ট
ও
সুস্পষ্ট
বৈজ্ঞানিক
পদ্ধতি
সঠিকভাবে
ব্যবহার
করে
প্রাপ্ত
ফলাফলের
ভিত্তিতে
যৌক্তিকভাবে
উপসংহারে
পৌঁছেছেন।
এসব
গবেষণা
পদ্ধতিতে
গবেষকরা
উঁচুস্তরের
গণিত,
গাণিতিক
সূত্র,
অর্থনৈতিক
তত্ত্ব
ও
ইকোনমেট্রিক
মডেলের
সফল
প্রয়োগ
করেছেন।
তবে ১৯৭৮
সালে
যখন
হারবার্ট
সাইমনকে
পুরস্কারটি
দেয়া
হয়
তখন
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেসের
চূড়ান্ত
নির্বাচনে
এক
ধরনের
ব্যত্যয়
স্পষ্ট
হয়ে
ফুটে
ওঠে।
লেখাপড়ায়
সাইমন
কখনো
অর্থনীতিবিদ
ছিলেন
না,
তিনি
ছিলেন
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
ছাত্র
এবং
যে
অবদানের
জন্য
তাকে
পুরস্কারটি
দেয়া
হয়
তা
অর্থনীতির
যতটা
না
কাছাকাছি
তার
চেয়ে
অনেক
বেশি
কাছাকাছি
ব্যবসা
প্রশাসনের।
আরেক
বিজয়ীর
বেলাও
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেস
একই
ভুল
করেছে
বলে
মনে
হয়।
তিনি
প্রিন্সটন
বিশ্ববিদ্যালয়ের
মনোবিজ্ঞানের
অধ্যাপক
ড্যানিয়েল
কাহনম্যান,
যিনি
২০০২
সালে
এ
পুরস্কারে
ভূষিত
হন।
এছাড়া
জোয়ান
রবিনসন
ও
পিয়েরো
স্রাফার
মতো
কৃতী
পণ্ডিতদের
পুরস্কারটি
না
দেয়ার
কারণেও
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেসকে
অনেক
সমালোচনা
শুনতে
হয়েছে।
এ
বিতর্ক
যত
তিক্ত
ও
ঝগড়াটে
হোক
না
কেন,
এর
অবসান
হয়েছে।
অর্থশাস্ত্রের
জন্য
‘ব্যাংক
অব
সুইডেন’
পুরস্কার
প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে
এবং
চালু
রয়েছে
প্রায়
৫০
বছর
ধরে।
অবস্থাদৃষ্টে
মনে
হচ্ছে
এটা
ছিল,
আছে
এবং
থাকবে।
এখন
আসি
আজকের
অলোচনার
কেন্দ্রবিন্দুতে
কিংবা
মূল
প্রশ্নে।
প্রশ্নটি
হলো,
অর্থনীতিতে
প্রদত্ত
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’
পুরস্কারটি
কি
আদৌ
‘নোবেল’ পদবাচ্য?
যারা
এটাকে
‘নোবেল’-এর
মর্তবা
দিতে
চান
না,
তাদের
সাফ
কথা—এ
পুরস্কারের
নাম-গন্ধও
আলফ্রেড
নোবেলের
অসিয়তনামায়
পাওয়া
যায়
না।
এর
টাকা
নোবেল
ফাউন্ডেশনের
মূল
পুঁজি
থেকে
আসে
না
এবং
এটি
শুরু
হয়েছে
আসল
‘নোবেল’-এর
৬৮
বছর
পর।
সুতরাং
এটাকে
কোনোক্রমেই
‘নোবেল’ পুরস্কারের
সমমর্যাদা
দেয়া
যায়
না।
আমার
জানামতে,
যারা
এ
দলে
আছেন
তাদের
মধ্যে
অন্যতম
সোচ্চার
হলেন
ম্যাগি
কোয়ার্থ।
ইন্টারনেটে
‘The Economics Nobel Isn’t Really A Nobel’
শিরোনামে
তার
একটি
লেখা
পাওয়া
যায়।
এখানে
তিনি
ফিলিপ
মিরোস্কি
নামের
এক
ঐতিহাসিকের
উদ্ধৃতি
দিয়ে
বলছেন,
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’
পুরস্কার
সুইডেনের
অভ্যন্তরীণ
রাজনীতির
এক
প্রায়োগিক
প্রতিফলন।
মিরোস্কি
বলছেন,
‘১৯৬০-এর
দশকে
সুইডেনের
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
সরকারি
নজরদারির
বাইরে
এসে
স্বাধীন
হতে
চেয়েছিল।
এজন্য
অর্থনীতিকে
রাজনীতির
বাইরে
এনে
একটি
বিশুদ্ধ
গাণিতিক
ও
তাত্ত্বিক
কাঠামোর
ওপর
দাঁড়
করানো
খুব
জরুরি
হয়ে
পড়ে।
এ
কঠিন
কাজটি
সহজ
ও
সম্ভব
করে
তুলতে
অর্থনীতিবিদদের
জন্য
‘নোবেল’ সমমানের
এ
পুরস্কার
প্রণোদনা
ছিল
অপরিহার্য।’
ম্যাগি
কোয়ার্থ
মিরোস্কির
এ
যুক্তিকে
কোন
বিবেচনায়
ইকোনমিকস
‘নোবেল’ পুরস্কারের
বিরুদ্ধে
ব্যবহার
করলেন,
তা
আমার
মাথায়
এল
না।
আমি
তো
মনে
করি,
এ
বক্তব্য
আলোচ্য
পুরস্কারের
যৌক্তিকতাই
প্রমাণ
করে।
এ
পুরস্কার
নিয়ে
উইকিপিডিয়া
সূত্রে
আরো
অভিযোগ
পাওয়া
যায়,
যেমন
অর্থনীতিবিদরা
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’
পুরস্কারের
সঙ্গে
‘নোবেল’ নাম
লাগিয়ে
তাদের
পেশাকে
নাকি
জাতে
তুলতে
চেয়েছিলেন
এবং
এ
কাজে
তারা
সফলও
হয়েছেন।
কিন্তু
আমার
মতে,
‘মিরডেল-হায়েক
বিতর্ক’
এ
যুক্তির
অসারতা
প্রমাণের
জন্য
এককভাবেই
যথেষ্ট।
একই
জায়গায়
অন্য
এক
সমালোচনা
পড়তে
গিয়ে
আমি
কৌতূহলের
সঙ্গে
লক্ষ
করলাম,
বিতর্কের
এক
পর্যায়ে
সাম্প্রতিক
কালে
‘নোবেল’ পরিবারের
এক
সদস্য,
যার
নাম
পিটার
নোবেল,
তিনিও
এসে
যুক্ত
হয়েছেন।
নবপ্রজন্মের
এ
নোবেল
একজন
সুইডিশ
উকিল
ও
মানবাধিকার
কর্মী।
তিনি
দাবি
করছেন,
তার
পরিবার
নাকি
কোনো
কালেই
অর্থনীতিকে
নোবেলের
আওতায়
আনতে
চায়নি,
কারণ
আলফ্রেড
নোবেল
সেসব
লোকদের
পছন্দ
করতেন
না,
যারা
মুনাফাকে
মানবকল্যাণের
ওপর
অগ্রাধিকার
দেয়।
পিটার
নোবেল
কতটা
অর্থনীতি
জানেন,
আমি
জানি
না;
তবে
তিনি
এখানে
একটি
ভুল
করেছেন।
অর্থনীতি
কোনোক্রমেই
মুনাফাকে
মানবকল্যাণের
ওপর
অগ্রাধিকার
দেয়
না,
আবার
অবমূল্যায়নও
করে
না।
পুঁজিবাদী
সমাজে
স্বাভাবিক
মুনাফা
ও
মানবকল্যাণ
হাত
ধরাধরি
করে
চলে।
বাজারে
যদি
সুষ্ঠু
প্রতিযোগিতার
অভাব
এবং/কিংবা
একচেটিয়া
প্রভাব
থাকে
তাহলে
মুনাফা
অস্বাভাবিক
আকার
ধারণ
করে
ভোক্তাদের
ভোগান্তির
কারণ
হয়ে
দাঁড়ায়।
এ
অবস্থায়
মুনাফা
ও
মানবকল্যাণের
মধ্যে
ভারসাম্য
বজায়
রাখার
জন্য
রাষ্ট্রের
হাতে
একাধিক
শক্তিশালী
ও
কার্যকর
রক্ষাকবচ
রয়েছে।
তথাপি
আজ
দুনিয়ার
প্রায়
সব
জায়গায়
দেখা
যায়,
মুনাফার
কাছে
মানবকল্যাণ
দারুণভাবে
মার
খাচ্ছে।
অবশ্য
এজন্য
অর্থনীতিবিদরা
দায়ী
নন,
দায়ী
রাষ্ট্রের
হর্তাকর্তা—কথিত
রাজনীতিবিদ
ও
ব্যবসায়ীদের
মাঝে
গড়ে
ওঠা
শক্তিশালী
‘অশুভ আঁতাত’!
সব
শেষে
উইকিপিডিয়ায়
পাওয়া
সমালোচকদের
শেষ
যুক্তির
ওপর
একটু
আলোকপাত
করে
আমি
চলে
যাব
আমার
শেষ
কথায়।
আরো
কিছু
বিদগ্ধ
ব্যক্তি
এ
পুরস্কারের
বিরোধিতা
করতে
গিয়ে
মিল্টন
ফ্রিডম্যান,
জন
ন্যাশ
ও
রবার্ট
অ্যাউম্যানের কাজ
ও
অবদানের
প্রতি
নজর
না
দিয়ে
তাদের
জীবনের
ব্যক্তিগত
কিছু
বিষয়
সামনে
এনে
পুরস্কারটিকে
বিতর্কিত
করার
কোশেশ
করেছেন।
আমি
তাদের
যুক্তির
মধ্যে
এখানে
লেখার
মতো
সারবস্তু
কিছুই
পাইনি।
এবার
আসি
শেষ
কথায়।
পার
অ্যাসব্রিংক
ও
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’-এর
অনুরোধে
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেস
অর্থনীতির
জন্য
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’-এর
পুরস্কার
প্রতিস্থাপন
ও
চালু
করতে
রাজি
হয়েছে
১৯৬০-এর
দশকের
শেষ
দিকে।
‘নোবেল’ ফাউন্ডেশন
‘ব্যাংক অব
সুইডেন’-এর
অনুদান
গ্রহণ
করেছে।
তার
মানে
নোবেলের
১৮৯৫
সালের
অসিয়তে
নিশ্চয়ই
এমন
কোনো
ধারা-উপধারা
ছিল
না,
যা
কিনা
তাদের
এ
কাজে
বাধা
দিতে
পারে।
রয়্যাল
সুইডিশ
একাডেমি
অব
সায়েন্সেস
রসায়নশাস্ত্র
ও
প্রকৃতিবিজ্ঞানের
মতো
একই
মানদণ্ডে
অর্থনীতি
পুরস্কারের
পুরো
দায়িত্ব
নিয়েছে
এবং
একই
নিয়ম
মেনে
নিষ্ঠার
সঙ্গে
প্রতি
বছর
প্রার্থীদের
মনোনয়ন,
যাচাই-বাছাই,
চূড়ান্ত
নির্বাচন
ও
নাম
ঘোষণা
করছে।
অন্যান্য
‘নোবেল’ পুরস্কারের
মতো
এ
পুরস্কারপ্রাপ্তদেরও
একটি
করে
মেডেল,
ডিপ্লোমা
এবং
প্রায়
সমপরিমাণ
টাকা
দেয়া
হয়।
অন্য
পুরস্কারের
মতো
এ
পুরস্কারপ্রাপ্তদের
নামও
প্রতি
বছর
নোবেলপ্রাইজ
ওয়েবসাইটে
দেয়া
হয়।
তামাম
দুনিয়ার
মিডিয়া
এটাকে
‘নোবেল’ পুরস্কারের
মর্যাদা
দেয়,
গোটা
বিশ্বে
অর্থনীতি
পেশাও
এটাকে
নোবেল
হিসাবেই
দেখে।
নাম
যা-ই
হোক,
এর
সুনাম
‘নোবেল’-এর
মতোই,
তাই
একে
‘নোবেল’ পুরস্কার
বলা
হয়।
আবু এন.
এম. ওয়াহিদ: অধ্যাপক,
টেনেসি
স্টেট
ইউনিভার্সিটি
এডিটর,
জার্নাল
অব
ডেভেলপিং
এরিয়াজ
wahid2569@gmail.com










