তীব্র গোলাবারুদ সংকটে রয়েছে ইউক্রেন। গোলাবারুদের অভাবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বিধ্বস্ত শহর আভদিভকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল ভোরে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি।
সম্প্রতি ২০২৩ সালের মে মাসের পর থেকে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে রুশ বাহিনী। তার মধ্যেই গোলাবারুদ সংকটে পিছু হটার কথা জানাল ইউক্রেন।
সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে ওলেক্সান্ডার সিরস্কি বলেছেন, ‘আমি শহরটি থেকে আমাদের ইউনিটগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সঙ্গে চারদিক থেকে ঘেরাও হওয়ার আগেই সেনাদের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় আরো অনুকূল লাইন থেকে প্রতিরক্ষামূলক স্থানে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কংগ্রেসে কয়েক মাস ধরে মার্কিন সামরিক সহায়তা বিলম্বিত হওয়ায় ইউক্রেনে গোলাবারুদের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে। তাই রুশ বাহিনী আভদিভকা শহরের চারপাশ ঘিরে ফেলবে এমন আশঙ্কার মধ্যে ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রত্যাহার করেছে দেশটি।
প্রসঙ্গত, ডনবাস অঞ্চলের দুটি প্রদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় আভদিভকা শহরটি দখল করা রাশিয়ার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া আগামী মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রণক্ষেত্রের এ বিজয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আভদিভকা যে রাশিয়া দখল করে নিতে পারে সে সতর্কতা দুদিন আগেই দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি ইউক্রেনের গোলাবারুদের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘আভদিভকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’
সামরিক সহায়তার বিষয়ে জন কিরবি বলেন, ‘ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদানের কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু সে বিল এখনো পাস হয়নি। এ সময় রুশ আক্রমণ প্রতিহত করতে অস্ত্রগুলো প্রয়োজন ছিল।’
এদিকে যুদ্ধকালীন সহায়তা নিশ্চিত করতে বার্লিন ও প্যারিস সফরে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজের সঙ্গে চুক্তি সই হতে পারে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইউক্রেন অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তা এলেও এখন ইউক্রেনকে নতুন করে সহায়তা দেয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মার্কিন সহায়তা ছাড়া যুদ্ধে বেশ বেকায়দায় পড়েছে জেলেনস্কি বাহিনী। কয়েক মাস দেনদরবার শেষে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইউক্রেনের জন্য ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারসহ ৯৫ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। এখন সেটি অনুমোদনের জন্য বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে এ সহায়তা বিল পাসের সম্ভাবনা খুব কম।










