দীর্ঘ কয়েক বছরের দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি কাটিয়ে ভেনিজুয়েলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথে ফিরে এসেছেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি একটি বড় পরিবর্তন। সম্প্রতি কারাকাসের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব ভেনিজুয়েলার শত শত শিক্ষার্থী কারাবন্দী সহযোদ্ধাদের মুক্তি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। খবর রয়টার্স।
ভেনিজুয়েলার ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাজনীতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মারধর বা নির্যাতনের ভয়ে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম সাধারণত ক্যাম্পাসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকত। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এর আগে জানিয়েছিল, ভেনিজুয়েলার বন্দীদের ওপর ইলেকট্রিক শক ও শ্বাসরোধ করার মতো ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো। তবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীরা সেই ভয় কাটিয়ে রাজপথে নেমে আসে।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাদুরো সরকারের সময় বন্দী হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরাও যোগ দেন। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা জানান, সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন তারা কথা বলতে বেশি নিরাপদ বোধ করছেন। তারা কেবল বন্দীদের মুক্তিই চান না, বরং দমনমূলক সব আইন বাতিল এবং মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান। ২২ বছর বয়সী ছাত্রনেত্রী পাওলা কারিল্লো বলেন, ‘জন্মের পর থেকে আমি শুধু ভয়ই দেখে এসেছি। এখন আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছি।’
বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশই ২৩-২৭ বছর বয়সী তরুণ, যারা ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হওয়া সমাজতান্ত্রিক ‘চাভিসমো’ শাসনের বাইরে অন্য কিছু দেখেননি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বাড়ানো এবং শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিও তুলেছেন। বর্তমানে দেশটিতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসে মাত্র ৪ ডলার বেতন পান। মাদুরোর পতনে শিক্ষার্থীরা খুশি হলেও বিদেশী সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আসায় অনেকের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তারা চেয়েছিলেন এ পরিবর্তন যেন গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভেনিজুয়েলার জনগণের মাধ্যমেই আসত। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী ভোটার রয়েছেন, যারা আগামী দিনের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।










