যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সংঘাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হোয়াইট হাউজকে যুদ্ধের জন্য আর কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে না। খবর এপি।
দাবিটি গত বুধবার সিনেটে দেয়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেয়া যুক্তিকে আরো জোরালো করে। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত যুদ্ধকে স্থগিত করেছে। এ যুক্তির ভিত্তিতে প্রশাসন মনে করছে, ১৯৭৩ সালের আইনে নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা এখনো তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তা এখন শেষ হয়েছে। ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গোলাগুলি হয়নি।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ পরে বাড়ানো হলেও মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরে অবরোধ বজায় রেখেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে তেহরান।
ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলুশন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শুক্রবারের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়ার বা যুদ্ধ বন্ধ করার কথা ছিল। এ আইন প্রশাসনকে আরো ৩০ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগও দেয়।
ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই বলে আসছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে হলে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। ৬০ দিনের সময়সীমা এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারত, যখন অনেক রিপাবলিকানও কংগ্রেসের অনুমোদনের পক্ষে দাঁড়াতেন—যদিও তারা শুরুতে সীমিত সামরিক পদক্ষেপে সমর্থন দিয়েছিলেন।
রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স বলেন, ‘এই সময়সীমা কোনো পরামর্শ নয়। এটি একটি বাধ্যবাধকতা।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য, অর্জনযোগ্য উদ্দেশ্য এবং সংঘাত শেষ করার সুস্পষ্ট কৌশল থাকতে হবে।’
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের প্রস্তাবের পক্ষে তিনি ভোট দিয়েছেন।
সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে পিট হেগসেথ বলেন, যুদ্ধবিরতি চলার কারণে ৬০ দিনের সময় গণনা থেমে আছে—এটাই সরকারের ব্যাখ্যা। কিন্তু ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, এটা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের যুক্তি এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
ব্রেনান সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন ইয়ন ইব্রাইট বলেন, এই ব্যাখ্যা ১৯৭৩ সালের আইনের কৌশলী ব্যাখ্যা। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলুশনের কোথাও বলা নেই যুদ্ধবিরতি হলে ৬০ দিনের সময়সীমা থামানো বা বাতিল করা যাবে।
অতীতে অন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টরা যুক্তি দিয়েছিলেন, তাদের সামরিক অভিযান এতটা তীব্র বা ধারাবাহিক নয় যে এ আইনের আওতায় পড়বে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ তেমন নয় বলে মনে করেন ইব্রাইট। তিনি বলেন, এ ধরনের যুক্তির বিরুদ্ধে আইনপ্রণেতাদের প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।










