দলের নাম ও প্রতীক হারালেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল মমতা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দলের নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মমতা শিবিরের প্রার্থীরা লড়বেন ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে। ‘খাম’ প্রতীকে লড়বেন ঋতব্রতের প্রার্থীরা। খবর আনন্দবাজার ও এনডিটিভি।
এর আগে বৃহস্পতিবার ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার পর দুই শিবিরকেই নতুন নাম এবং প্রতীক বেছে নিতে বলেছিল কমিশন। সেই অনুযায়ী একাধিক নাম-প্রতীকের বিকল্প প্রস্তাব দুই তরফ থেকে কমিশনে পাঠানো হয়। তার ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল তারা একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছে, মমতার শিবির লড়বে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। তাদের প্রতীক হবে ফুটবল খেলোয়াড়। ঋতব্রতদের শিবিরের নাম হচ্ছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তারা লড়বে খাম প্রতীকে।
মমতা তার দলের তিনটি বিকল্প নাম এবং দুটি প্রতীক কমিশনের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত নামগুলো ছিল—সর্বভারতীয় তৃণমূল মমতা কংগ্রেস, সর্বভারতীয় মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতীক হিসেবে মমতা বেছে নিয়েছিলেন ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ এবং ‘ক্রিকেট ব্যাট’। প্রথমটিতেই সায় দিয়েছে কমিশন।
ঋতব্রতদের তরফে তিনটি নাম এবং তিনটি প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনে পাঠানো হয়। নামগুলো ছিল—জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয় নামটি তাদের দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতীক হিসেবে খাম, ব্ল্যাকবোর্ড এবং টর্চের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ঋতব্রতেরা। খাম প্রতীকে তাদের প্রার্থীদের লড়তে হবে। মমতা শিবিরের প্রস্তাবিত নামে ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঋত-শিবির তাকে কটাক্ষ করেছে।
আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে। সব পক্ষই তার জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের দুই শিবির কোনো প্রতীক বা নামে লড়বে তা স্পষ্ট ছিল না। কমিশনের নির্দেশ সেই জল্পনায় সিলমোহর দিল।
কমিশনের নির্দেশিকার পর ঋতব্রত জানান, প্রতীকের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ নাম তাদের পছন্দের তালিকায় তৃতীয় ছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল “জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস”। দ্বিতীয় পছন্দ ছিল “পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস”। কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দুটো নাম কোনো কারণে দেয়া সম্ভব নয়। প্রতীকের ক্ষেত্রে যা চেয়েছিলাম। তা-ই দেয়া হয়েছে। কমিশনের যোগ্যতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। তাদের নির্দেশকে সম্মান জানাই।’
মমতা শিবিরের নামকরণকে কটাক্ষ করে ঋতব্রত আরো বলেন, ‘আমাদের দলের নামে কিন্তু কোনো ব্যক্তির নাম নেই। আমাদের আলোচনার মধ্যেই ছিল না কোনো ব্যক্তির নাম। গণতন্ত্রে আমরা জোর দিচ্ছি। এটা কোনো ব্যক্তিগত মালিকানার দল নয়। তা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।’










