লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী অনশনরত কর্মীদের সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন সুইডিশ জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। ব্রিটিশ সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ‘ফিলিস্তিন অ্যাকশন’ সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত গ্রেফতারের ঘটনা। খবর ফার্স্টপোস্ট।

আজ মঙ্গলবার লন্ডনের বাণিজ্যিক এলাকায় ‘প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন’ আয়োজিত কর্মসূচি চলাকালীন গ্রেটা থুনবার্গকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। বিক্ষোভটি মূলত কারাগারে অনশনরত ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের প্রতি সংহতি জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে গ্রেটা থুনবার্গ উপস্থিত হলে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিক্ষোভ চলাকালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় গ্রেটা থুনবার্গকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তার হাতে ছিল একটি প্ল্যাকার্ড, যেখানে ফিলিস্তিন অ্যাকশন সংশ্লিষ্ট বন্দিদের প্রতি সমর্থন ও গণহত্যা সম্পর্কিত স্লোগান ছিল।

পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের পক্ষে বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিটি অব লন্ডন পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ওই এলাকায় একটি ভবনে হাতুড়ি ও লাল রঙ ব্যবহার করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রথমে তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ ঘটনাস্থলের কাছেই নিজেদের আটকে রাখেন। পরে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেন।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, এসব ঘটনার পর গ্রেটা থুনবার্গ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকে আলাদাভাবে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর আগে সংগঠনটির কয়েকজন কর্মী একটি বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে আনুমানিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতি করে। ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটজন বর্তমানে অনশন কর্মসূচিতে রয়েছেন। তাদের সবার বয়স ২০ থেকে ৩১ বছরের মধ্যে। তারা ভাঙচুর ও অনধিকার প্রবেশের মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

সমর্থকদের দাবি, এসব কর্মী নভেম্বরের শুরু থেকে জামিনে মুক্তির দাবিতে অনশন শুরু করেন। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে সংসদে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

বিক্ষোভ আয়োজকদের একটি জোটের দাবি, নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে। লন্ডনের মহানগর পুলিশের হিসাবে, নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত আটক হওয়া ২৫৪ জনের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে লঘু অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সাজা হতে পারে।