তহবিল সংকটের কারণে আগামী মাস থেকে মিয়ানমারের ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেয়া সম্ভব হবে না বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। শুক্রবার (১৪ মার্চ) নিজেদের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত বিবৃতি দেয় সংস্থাটি। এই কাটছাঁট এমন সময়ে করা হল যখন বাড়তে থাকা সংঘাত, স্থানচ্যুতি এবং প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা খাদ্য সহায়তার চাহিদাকে তীব্রভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।
কোনো সহায়তা ছাড়া এপ্রিল মাস থেকে মাত্র ৩৫ হাজার মানুষকে সহায়তা দিতে পারবে ডব্লিউএফপি। এই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ, শারীরিক প্রতিবন্ধী, নবজাতকের মায়ের মতো জরুরি চাহিদাসম্পন্ন মানুষ রয়েছেন।
মিয়ানমারে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশেল ডানফোর্ড বলেন, তহবিলের কাটছাঁট দেশটির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। কেননা তাদের মধ্যে অনেকেই পুরোপুরি খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ডব্লিউএফপি মিয়ানমারের জনগণকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিতে অবিচল, তবে চাহিদাসম্পন্নদের কাছে পৌঁছানোর জন্য আরো তাৎক্ষণিক তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্থাটি বলছে, এই সহায়তা হ্রাসের ফলে মধ্য রাখাইনের প্রায় এক লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যাদের সহায়তা ছাড়া খাদ্যের কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ও রয়েছে। আর চলতি বছর মিয়ানমারের জনগণের জন্য জীবন রক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা বজায় রাখতে তাদের জরুরিভাবে ৬০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
মিয়ানমারে ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসে দেশটির সামরিক বাহিনী। ফলে দেশব্যাপী বিদ্রোহ দেখা দেয়। তখন থেকেই জান্তা সরকার ও বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে দেশটির মারাত্মক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটির প্রায় দুই কোটি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এবং প্রায় দেড় কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটে আছে।















