বিশ্বখ্যাত লাক্সারি ডিপার্টমেন্ট স্টোর হ্যারডস সম্প্রতি গ্রাহকদের জানিয়েছে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য একটি তৃতীয় পক্ষের সিস্টেম থেকে চুরি হতে পারে। স্টোরটির মতে, অনলাইন কাস্টমারদের নাম ও যোগাযোগের তথ্য এই ঘটনায় প্রভাবিত হয়েছে। তবে কোম্পানিটি নিশ্চিত করেছে, কোনো পেমেন্টের তথ্য বা পাসওয়ার্ড চুরি হয়নি। খবর বিবিসি।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হ্যারডস গ্রাহকদের পাঠানো ইমেইলে এটিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোম্পানি তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছে। এ ছাড়া তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছে।
স্টোরটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, হ্যারডসের নিজস্ব সিস্টেমে কোনো আক্রমণ হয়নি। এ তথ্য চুরি মে মাসের সাইবার হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তখন সংস্থাটি নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়িয়ে সব সাইটে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সীমিত করেছিল। ওই হামলার জন্য ‘লুজলি লিংকড’ নামক হ্যাকার গ্রুপ দায় স্বীকার করেছে। যারা একই বছর মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার এবং দ্য কো-অপেও হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
গত মে মাসে সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছিল জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ)। তাদের মধ্যে স্টাফোর্ডশায়ারের একজন ২০ বছর বয়সী নারী এবং লন্ডন ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ১৭-১৯ বছর বয়সী তিনজন কিশোর। পরে সবাই জামিনে মুক্তি পান। এ ছাড়া আরেক গ্রুপ জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের (জেএলআর) বৈশ্বিক উৎপাদন লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ার দায় স্বীকার করেছিল।
জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের (এনসিএসসি) প্রধান রিচার্ড হর্ন বলেন, সাইবার হামলা শোনার পর অনেক সময় মনে হয় এটি তাত্ত্বিক বা প্রযুক্তিগত বিষয়। তবে বাস্তবে এটির প্রভাব মানুষের ওপরও পড়তে পারে।
তিনি সব প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, হ্যাকাররা দিন দিন আরো দক্ষ হয়ে উঠছে এবং ক্রমশ তাদের কৌশল উন্নত করছে। তাই ছোট-বড় নির্বিশেষে যেকোনো সংস্থাকে নিজেদের সিস্টেম সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।










