পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাট পুলিশ লাইনসে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য, ছয়জন বেসামরিক নাগরিক ও ছয়জন সন্দেহভাজন হামলাকারী। আহত হয়েছেন ৮০ জনের বেশি, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল কোহাট পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদের কাছে জুমার নামাজের সময় এ হামলা হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. নাসির হাসান আফ্রিদি হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি ভবনের ধসে পড়া দেয়ালের পাশে মানুষজন জড়ো হয়েছে, তারা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে এবং আহতদের সাহায্য করছে। ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ ডনকে বলেন, ‘বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ লাইনস ভবনের ফটকে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে এগিয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে তাদের প্রতিহত করে। আরো প্রায় তিনজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে।’
হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। সিটিডি জানায়, হামলার পর তাদের অতিরিক্ত আইজি ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনায় সরাসরি অংশ নেন। হামলাকারীদের সঙ্গে সিটিডি সদস্যদের গোলাগুলিও হয়।
প্রাথমিকভাবে আইজি জুলফিকার হামিদের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, কোহাট পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ভবনে আঘাত করেছে। পরে পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি শুরু হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর সাত জঙ্গি পুলিশ লাইনসে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিরপরাধ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আহতদের দ্রুততম সময়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের এমন কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড দিয়ে জাতির মনোবল ভেঙে দেয়া যাবে না।’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি হামলার নিন্দা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি দ্রুত এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
কোহাট পুলিশ লাইনস এলাকায় এর আগেও বড় ধরনের হামলা হয়েছে। ২০১০ সালে পুলিশ লাইনসের পেছনের একটি পুলিশ কলোনিতে দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন পুলিশ সদস্যদের স্বজন।










