চার বছরে গড়িয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধবন্ধে তৎপরতা চালাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যস্ততায় গেল সপ্তাহে প্রথমবারের মতো আলোচনার টেবিলে বসেছে বিবদমান দুইদেশ। তিন বছর পর এই প্রথমবারের মতো ইস্তানবুলে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। কিন্তু মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই আলোচনার ইতি ঘটে, কেবল যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের একটি চুক্তি ছাড়া তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এই অচলাবস্থার মাঝে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এরপর ফোনালাপ করবেন ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফোনালাপ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নয়। বরং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান, রাশিয়ার কৌশলগত হিসাব এবং ইউক্রেনের সম্ভাব্য সমঝোতা—সব কিছুই এ ফোনালাপের মধ্যে প্রতিফলিত হতে পারে। ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক পুঁজি ও 'শান্তি আনার প্রতিশ্রুতি' সামনে রেখে মধ্যস্থতার সুযোগ নিচ্ছেন।
এদিকে, ইস্তানবুল বৈঠকে ট্রাম্প ও জেলনেস্কির অংশগ্রহণের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পুতিনের অনুপস্থিতিই বলে দেয় তাকে টেবিলে নেয়া কঠিন। আলোচনায় বসতে রাশিয়া এখনো ‘সঠিক মুহূর্ত’ খুঁজছে। ইউক্রেনে নিয়ন্ত্রণে নেয়া চার অঞ্চলের কিছু অংশ দখলে রাখার প্রতিশ্রুতি পেলেই তারা আলোচনায় বসবে। রাশিয়ার সেই ‘সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত’ তৈরি করতে পারে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা।
জেলেনস্কির জন্য এটি এক ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তিনি অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর সহানুভূতি ও অস্ত্র সহায়তা এখন আর আগের মতো জোরালো নয়। ট্রাম্প প্রশাসনও বারবার 'যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ আগে' তত্ত্বে জোর দিচ্ছে। ফলে জেলেনস্কির হাতে বিকল্প কমে এসেছে। হয়তো ভূখণ্ড ছেড়ে শান্তি বেছে নিতে হবে ইউক্রেনকে।
ট্রাম্পের ফোনালাপ তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতির পথে একটি দরজা খুলে দিতে পারে। আবার এটিও হতে পারে একটি রাজনৈতিক প্রদর্শনী, যেখানে শান্তির চেয়ে প্রভাব ও ইমেজের লড়াই বেশি মুখ্য।









