সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ছবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাণহানির হুমকি সৃষ্টি করেছিল, এই অভিযোগ ওঠায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি। খবর বিবিসি।
২০২৫ সালে কোমির ওই ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পরই মামলাটি করা হয়। ওই পোস্টে সমুদ্রসৈকতে শামুকের খোলস সাজিয়ে ইংরেজিতে ‘৮৬ ৪৭’ লেখা একটি ছবি ছিল। ইংরেজিতে ‘ছিয়াশি’ একটি স্ল্যাং, এর আরেকটি মানে দাঁড়ায় যার অর্থ ‘সরিয়ে ফেলা’।
রাষ্ট্রপক্ষোর আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই ছবি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উৎসাহিত করেছে।
কোমি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সংখ্যাগুলোর অর্থ তিনি জানতেন না। একইসঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়ার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিচার বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনেছে।
গতকাল বিকেলে ভার্জিনিয়ার একটি আদালতে সংক্ষিপ্ত হাজিরার সময় কোমি নিজের পক্ষে কোনো আবেদন করেননি বা কথা বলেননি। তার আইনজীবী প্যাট্রিক ফিটজজেরাল্ড বলেছেন, নির্বাচনী ও প্রতিহিংসাপরায়ণ বিচারের অভিযোগ তুলে কোমি মামলাটি খারিজের আবেদন করবেন। তার দাবি, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বিচারক ফিটজপ্যাট্রিক কোমির মুক্তির শর্ত নির্ধারণের জন্য বিচার বিভাগের প্রচেষ্টা নাকচ করে জানিয়েছেন— এগুলোর প্রয়োজন নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ এনেছেন, কোমি জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রেসিডেন্টের প্রাণহানি ও শারীরিক ক্ষতির হুমকি দিয়েছেন। একইসঙ্গে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের মাধ্যমে জেনেশুনেই তাকে হত্যার হুমকি পাঠিয়েছেন।
প্রতিটি অভিযোগের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
মঙ্গলবার এক ভিডিও বিবৃতিতে কোমি বলেছেন, তিনি এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
‘এখানেই এর শেষ না—কিন্তু আমি এখনো নির্দোষ, আমি এখনো ভীত নই, আর আমি এখনো স্বাধীন ফেডারেল বিচারব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখি।’

আলোচিত সেই ইনস্টাগ্রাম পোস্ট
২০২৫ সালের মে মাসের মূল পোস্টে সমুদ্রসৈকতে শামুকের খোলস দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ লেখা একটি ছবি দিয়ে কোমি লিখেছিলেন, ‘সৈকতে হাঁটার সময় দেখা চমৎকার সাজানো শামুকের খোলস।’
অবশ্য তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর কোমি ছবিটি সরিয়ে ইনস্টাগ্রামে আরেকটি পোস্ট করেন।
সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজ সৈকত ধরে হাঁটার সময় দেখা কিছু শামুকের ছবি আমি কিছুক্ষণ আগে পোস্ট করেছিলাম, যেটা মনে হচ্ছে রাজনৈতিক কোনো বার্তা ছিল।’
‘আমি বুঝতে পারিনি যে কিছু মানুষ এই সংখ্যাগুলোর সঙ্গে সহিংসতার সম্পর্ক দেখেন। এটা আমার মাথায় আসেনি, কিন্তু আমি যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরোধী, তাই আমি পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছি।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প গতকাল কোমিকে ‘একজন অসৎ মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। ‘অপরাধ সম্পর্কে কেউ যদি কিছু জানে, সে অবশ্যই ৮৬ শব্দটির অর্থ জানে,’ বলেন ট্রাম্প।
এটি ‘তাকে মেরে ফেলো’ বোঝাতে ব্যবহৃত একটি মাফিয়া শব্দ দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা যখন কাউকে হত্যা করতে চায়, তখন তারা বলে “ওই লোকটাকে ৮৬ করো”।’
কোমির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটি তিনি নিজের প্রতি হুমকি বলে মনে করেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সম্ভবত’।
২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত শুরু করার পর ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কোমিকে বরখাস্ত করেন।
এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার কোমির বিরুদ্ধে মামলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবারের অভিযোগগুলো এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রথমবার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি কোমির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে মিথ্যা বলার এবং কংগ্রেসীয় কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনে। নভেম্বরে মামলাটি খারিজ হয়। এর আগে অক্টোবরেই কোমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।










