ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস স ইউরোপের ১৩টি দেশে টাইগার মশা নামে নতুন প্রজাতির মশার আবির্ভাব ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তারে ভূমিকা রয়েছে এই প্রজাতির মশার। 

জলবায়ু পরিবর্তন টাইগার মশার বিস্তারের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি)। বুধবার (১২ জুন) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 

এদিকে  জুলাইয়ের শেষে  প্যারিসের উত্তরে   অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সময় এই প্রজাতির মশার আক্রমণ চিন্তিত করে তুলেছে কর্তৃপক্ষকে। কর্তৃপক্ষ টাইগার মশার আবির্ভাব  পর্যবেক্ষণ ও এর বিস্তার আটকে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। 

ইসিডিসি সতর্ক করেছে যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ  ইউরোপীয় প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলবে। ইসিডিসি টাইগার মশার বংশ বিস্তারে অনুকূল  বাগান বা বারান্দা থেকে স্থির পানি অপসারণ করার পরামর্শ দিয়েছে।  এবং রাতেমশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। 

গত দুই দশক ধরে ইউরোপে মশা ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে উঠেছে। এশিয়ান টাইগার মশা, এডিস অ্যালবোপিকটাসকে বিশ্বের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রজাতির মশা বলে মনে করা হয়। সম্প্রতি দক্ষিণ ইউরোপীয় বেস ক্যাম্প থেকে পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে এ মশা।

ইসিডিসির তত্য অনুসারে, অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, ইতালি, মাল্টা, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া এবং স্পেনে টাইগার মশা বিস্তার লাভ করেছে।  এছাড়া, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, চেকিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং স্লোভাকিয়াতেও এর উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে।

টাইগার মশা ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া এবং জিকা ভাইরাসের মতো রোগ ছড়ায়। কিছুদিন আগে পর্যন্তও শুধুমাত্র আফ্রিকা, এশিয়া এবং আমেরিকার কিছু অংশে এর উপস্থিতি ছিল। 

এরকম আরেকটি মশা এডিস ইজিপ্টি। এটি  হলুদ জ্বরসহ অন্যান্য রোগ ছড়ায়। সম্প্রতি সাইপ্রাসে বংশ বিস্তার করেছে এডিস ইজিপ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এটি ইউরোপের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

ইসিডিসির পরিচালক আন্দ্রেয়া অ্যামন বলেন, ইউরোপ ইতিমধ্যেই দেখছে যে কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন রোগ বিস্তারকারী মশার জন্য আরো অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে । ডেঙ্গুর মতো রোগে আরো বেশি লোক রসংক্রামিত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 

তিনি লোকেদের ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ডেঙ্গু জ্বর বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি দেশে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, গত বছর ৬০ লাখের বেশি আক্রান্ত এবং ৭ হাজার জন  মারা গেছে।

এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিস্থিতি এমন হলে ভবিষ্যতে এশিয়া মহাদেশে  পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়ার ঘটনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। অ্যানোফিলিস নামক সংক্রামিত মহিলা মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।  ইউরোপেও এর অস্ত্বিত্ব পাওয়া গেছে।