ইসরায়েলে বোমাসহ অন্যান্য সামরিক অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। গাজায় যুদ্ধবিরতি আহ্বানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তেল আবিবে অস্ত্র পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলে সামরিক অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সামরিক সহায়তায় থাকবে এমকে-৮২ বোমা ও কেএমইউ-৫৭২ জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক যুদ্ধাস্ত্র। এ অস্ত্রসহায়তা ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখছে বাইডেন প্রশাসন। তবে কংগ্রেস কমিটির নেতাদের এ বিষয়ে প্রস্তাবের পর কিছু পরিবর্তনও আসতে পারে। কারণ কংগ্রেস কমিটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেবে।

ইসরায়েলকে অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলকে অস্ত্র দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা বিভাগ, ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের কাছে দুবার অস্ত্র বিক্রি করেছে বাইডেন প্রশাসন। কিন্তু সে সময় কংগ্রেস কমিটিকে এড়িয়ে গেছেন বাইডেন।

ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে বাইডেন প্রশাসনকে। ইসরায়েলের জন্য অস্ত্রসহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাবেক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রধান কেনেথ রথ। ১৭ ফেব্রুয়ারি তুর্কি গণমাধ্যম আনাদোলু এজন্সির সাক্ষাৎকারে এ দাবি জানান সংস্থাটির সাবেক প্রধান।

আনাদোলু জনিয়েছে, গাজায় চলমান ইসরায়লি গণহত্যার দায়ে দেশটির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বয়কটের আহ্বান জানিয়ে রথ বলেছেন, ‘মিসর সীমান্তের কাছে রাফায় অবিলম্বে তেল আবিবের হামলা বন্ধ করা উচিত।’

তিনি ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে হাজির হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। গাজায় আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ তুলে দেশটিকে আদালতে হাজির হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক এ প্রধান।

এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েলকে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান ইইউর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল।

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা (ওসিএইচএ) বলছে, ইসরায়েলি অবরোধে তীব্র খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছে ওই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। ১৭ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে এমন তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। 

ওসিএইচএ বলেছে, রাফায় অবিলম্বে ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেয়া উচিত। এখানের মানুষের খদ্যের প্রয়োজন। কারণ রাফাবাসী প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। এক্ষেত্রে মিসর সীমান্ত রাফায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সরবরাহ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

যেহেতু পুরো গাজায় খাদ্য সরবরাহের প্রধান রুট হচ্ছে রাফা, তাই সেখানে অবরোধ মানে পুরো গাজা অঞ্চলে খাবারের সংকট তৈরি হওয়া। এক্ষেত্রে খাদ্য সরবরাহ ট্রাকগুলোকে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেয়া উচিত বলে মনে করে জাতিসংঘের ওই মানবাধিকার সংস্থা।

রাফায় এমন তীব্র সংকটের মধ্যেও আশদোদ বন্দরে আটার একটি বড় চালান আটকে দিয়েছে তেল আবিব। এতে খাদ্য সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। অন্যদিকে গাজার বড় চিকিৎসা কেন্দ্র নাসের হাসপাতালে অবরোধের ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।