ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা সত্ত্বেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে। খবর আল জাজিরা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি চ্যানেল খোলা আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে বার্তা আদান–প্রদান হচ্ছে। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের মতো ঐতিহ্যগত মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমেও যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

তবে বাঘায়ি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা বার্তাগুলো পরস্পরবিরোধী। এতে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতার অভাব স্পষ্ট।

এদিকে, তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র কখনোই আলোচনার টেবিল ছেড়ে যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ হাজার ৬০০–এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং বৃহস্পতিবার থেকে চলমান ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তিনি জানান, ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছেন এবং একটি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈঠকের আগেই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদের অভিযোগ তুলে সোমবার দেশব্যাপী সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে এসব সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিরাপত্তা বাহিনীর নিহত সদস্যদের জানাজা এবং কেরমান, জাহেদান ও বিরজান্দসহ বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী বিক্ষোভের সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি দাবি করেন, পরিস্থিতি এখন ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’। তিনি বলেন, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি তথাকথিত সন্ত্রাসীদের উসকানি দিয়েছে, যাতে তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করতে পারে। খুব শিগগিরই ইন্টারনেট পরিষেবা পুণরুদ্ধার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এটি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট জানিয়েছে, গত রোববার থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভের মাত্রা কমতে শুরু করেছে। সংস্থাটির মতে, সরকারের দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ এবং স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের ফলে আন্দোলনের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে।