মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথি লুকানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন হিলারি ক্লিনটন। বার্লিনে বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ফোরামে যোগ দেয়ার সময় বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ তোলেন। সেইসঙ্গে দ্রুত নথি প্রকাশের জন্যে আহ্বান জানান তিনি। খবর বিবিসি।
এদিকে হোয়াইট হাউস জোর দিয়ে বলছে, এ নথি প্রকাশের মাধ্যমে তারা ভুক্তভোগীদের জন্য ডেমোক্র্যাটদের চেয়েও বেশি কিছু করেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) চলতি বছরের জানুয়ারিতে এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩৫ লাখ নতুন নথি প্রকাশ করে। সে সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসার তথ্য, শিশু নির্যাতনের বীভৎস বর্ণনা কিংবা তদন্ত বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে বিবেচনায় আরো প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশ করা হয়নি।
বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রিন্স এন্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে কংগ্রেসনাল কমিটির সামনে হাজির করা উচিত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হিলারি ক্লিনটন বলেন, যাদের সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে, তাদের সবার সাক্ষ্য দেয়া উচিত।
কিন্তু কমিটির হাতে এন্ড্রুকে হাজির হতে বাধ্য করার ক্ষমতা নেই। তবে কমিটির চাপের মুখে ক্লিনটন দম্পতি কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং হিলারি ক্লিনটন ২৬ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য দেবেন।
শুরুতে সাক্ষ্য হতে অস্বীকৃতি জানানোয় কংগ্রেসকে অবমাননা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ভোটের পরিকল্পনা করা হয়। পরে সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। এ জবানবন্দি নেয়া হবে গোপন কক্ষে। তবে বিবিসিকে হিলারি বলেন, জনসমক্ষে সাক্ষ্য নিলে ভালো হতো।
এদিকে রিপাবলিকান কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারের অভিযোগ, ক্লিনটন দম্পতি অবমাননার ভোটের মুখে তারা নতি স্বীকার করেছেন।
এর জবাবে হিলারি বলেন, এখানে লুকানোর কিছু নেই। মূলত স্বচ্ছতাই সর্বোত্তম প্রতিষেধক। ট্রাম্পের দিক থেকে দৃষ্টি সরাতে তাকে এবং তার স্বামীকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তিনি কখনো এপস্টেইনের সঙ্গে দেখাই করেনি। কিন্তু এপস্টেইনের বান্ধবী ও দণ্ডপ্রাপ্ত সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তিনি কয়েকবার দেখা করেছিলেন বলে জানান তিনি।
প্রকাশিত নথিতে বেশ কয়েকবার নাম থাকা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেন, তিনি এপস্টেইনকে চিনতেন, তবে দুই দশক আগেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন।
পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অসংখ্যবার নথিতে থাকা সত্ত্বেও অপরাধে জড়িত থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলেন, কয়েক দশক আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তার লুকানোর কিছু নেই। তিনি নির্দোষ।
হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে ট্রাম্প বিবিসিকে বলেন, এখানে ক্লিনটনদের টেনে আনা হচ্ছে। আর এটা তাদেরই সমস্যা। ক্লিনটনসহ অনেক ডেমোক্র্যাট ফেঁসে যাচ্ছেন।










