হরমুজ প্রণালিতে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের বিনিময়ে ইরানকে কোনো ধরনের ‘টোল’ বা অর্থ দিলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কোম্পানিগুলোকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এক সতর্কবার্তায় জানায়, ইরান সরকারের কোনো সংস্থাকে অর্থ প্রদান করা মার্কিন ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলোর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি অ-মার্কিন কোম্পানিগুলোও অর্থ পরিশোধ করলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। খবর বিবিসি।
ওএফএসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের বন্দর বা জাহাজ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো পক্ষকে অর্থ প্রদান করা হলে তা বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করবে। শুধু নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল কারেন্সি বা কোনো ধরনের বিনিময় কিংবা দূতাবাসের মাধ্যমে অনুদান দিলেও তা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এ অঞ্চলে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ‘টোল’ আদায় শুরু করেছে। গত সপ্তাহে ইরানের সংসদ সদস্য হামিদ্রজা হাজি বাবাবেই দাবি করেন, সংগৃহীত টোলের প্রথম অংশ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে। তবে কোন কোম্পানি এ অর্থ দিয়েছে বা এর পরিমাণ কত, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।
অন্যদিকে, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের বন্দরে যাওয়ার পথে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ এ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও বর্তমানে তা দিনে হাতেগোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে।








