মাত্র তিন বছর বয়সে মৃত্যু আর ধ্বংসের ভয়াবহতা দেখছে গাজার ছোট্ট আমর আল-হামস। একসময় যে শিশু মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ত, হাসিমুখে খেলায় মেতে উঠত, আজ সে মুখে কেবল ব্যথার কান্না, খিঁচুনির যন্ত্রণা। এমনকি ঘুমোনোর জন্যও প্রয়োজন হয় ওষুধের সান্ত্বনা। আমরের নিশ্বাসে এখন পুরো গাজার কান্নার সুর। এক প্রতিবেদনে এপি নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় তার মস্তিষ্কে শার্পনেল ঢুকে গেছে। গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর পরও ছোট্ট চোখজোড়া এখনো তার অপেক্ষায়। বাবা মোহাম্মদ স্ত্রীর শোকে বাকরুদ্ধ, ছেলের কাছে যাওয়ার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন।
যুদ্ধের দুই বছরের কাছাকাছি সময়ে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। অর্ধেকের বেশি হাসপাতাল বন্ধ। যেসব হাসপাতাল চালু আছে সেগুলোতেও নেই প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম বা শিশুদের পুষ্টিকর খাবার। এমনকি আইসিইউ থেকেও রোগীদের সরিয়ে দিতে হচ্ছে হামলার ভয়ে।
আমরের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল উত্তর গাজার ইন্দোনেশিয়া হাসপাতালে। সেখানে হামলার পর তাকে নেয়া হয় শিফা হাসপাতালে। সেখানেও জায়গার অভাবে, কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা অক্সিজেন ছাড়াই তাকে ২৫ কিলোমিটার দূরের নাসের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় মোটরচালিত রিকশায়। পথে শ্বাসকষ্টে জ্ঞান হারানো আমরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য খালা নূর পুরোটা সময় কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। অবশেষে এক অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছে দেয় নাসের হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও সংকট শেষ হয়নি। প্রয়োজনীয় ফর্মুলা দুধ ও পুষ্টিকর খাবার না থাকায় দিনদিন ওজন হারাচ্ছে আমর। চাল-ডাল বেটে সিরিঞ্জের মাধ্যমে তার পেটে খাবার দিতে হয়।
জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার যুদ্ধে অন্তত ৩৩ হাজার শিশু আহত হয়েছে। এর মধ্যে বহু শিশুর প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন। কিন্তু টানা অবরোধ আর সীমিত চিকিৎসার কারণে তাদের ভাগ্য ঝুলছে অনিশ্চয়তার বেড়াজালে।
ইউনিসেফের মুখপাত্র টেস ইনগ্রাম এ বিষয়ে বলেন, ‘গাজায় বেঁচে থাকা শিশুদের একমাত্র আশার আলো হলো বিদেশে চিকিৎসা। অন্যান্য দেশগুলোর উচিত সীমানা ও হাসপাতালের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া।’















