মানুষ কতদূর যেতে পারে? আদিম এ কৌতূহলের উত্তর নতুন করে লিখলেন চার মহাকাশচারী। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার কিলোমিটার দূরে পাড়ি দিয়ে মানব ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তারা।

চাঁদের অন্ধকার অংশ বা ‘ফার সাইড’ প্রদক্ষিণ করার সময় তারা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এর আগে ৫৬ বছর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-১৩ যে সীমা ছুঁয়েছিল, সেটাকে পেছনে ফেলল এবারের যাত্রা।

মহাকাশযান ওরিয়নে চড়ে রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেন এখন পৃথিবীর পথে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের অবতরণ হবে নির্দিষ্ট সময়ে। এরপর হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে নেয়া হবে, যেখানে শুরু হবে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

চাঁদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মহাকাশচারীরা এমন সব দৃশ্য দেখেছেন যা আগে কোনো মানুষের চোখে পড়েনি। ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে তারা সরাসরি উল্কাপাতের ফলে চাঁদের বুকে আলোর ঝিলিক প্রত্যক্ষ করেছেন। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘ইমপ্যাক্ট ফ্ল্যাশ’। এমনকি পৃথিবী যখন চাঁদের দিগন্তে এক ছোট বিন্দুর মতো অস্ত যাচ্ছিল এবং পরক্ষণেই উদিত হচ্ছিল, সেই দুর্লভ মুহূর্তগুলোও ফ্রেমবন্দি করা হয়েছে।

এ অভিযানে মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন চাঁদের একটি উজ্জ্বল গহ্বরের নাম তার সহকর্মীর প্রয়াত স্ত্রীর নামে রাখার প্রস্তাব দেন। সেই মুহূর্ত যেন মহাকাশের নির্জনতায়ও মানুষের সম্পর্কের উষ্ণতা তুলে ধরে।

২০২৮ সালে চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার যে স্বপ্ন বিশ্ব দেখছে, আর্তেমিস-২ সেই স্বপ্নের প্রথম সফল মহড়া। এখন শুধু অপেক্ষার পালা, কখন পৃথিবীর সাহসী বিজ্ঞানীরা নিরাপদে মাটি স্পর্শ করবেন। ঐতিহাসিক এ প্রত্যাবর্তন দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে সারা বিশ্ব।

—বিবিসি ও রয়টার্স থেকে নেয়া