জাতিসংঘে উত্থাপিত জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। খবর এপি।
চলতি সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে পাঠানো এক নির্দেশনায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আলোচিত এই প্রস্তাবটির কঠোর বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই প্রস্তাবটি গৃহীত হলে তা মার্কিন শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বার্তা সংস্থা এপির হাতে আসা একটি গোপন নথিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের মতে জাতিসংঘ ও বিশ্বের অনেক দেশ জলবায়ু পরিবর্তনকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বের প্রধানতম হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে, যা সঠিক নয়।
ভানুয়াতু এই খসড়া প্রস্তাবটি মূলত গত জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেয়া একটি ঐতিহাসিক মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। ওই রায়ে আদালত বলেছিলেন, জলবায়ু রক্ষায় ব্যর্থ হলে দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হতে পারে। যদিও আদালতের এই রায় বাধ্যতামূলক নয়, তবুও এটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু আইনের ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভানুয়াতুর প্রস্তাবিত এই খসড়ায় বলা হয়েছে, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে প্রতিটি দেশকে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বন্ধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ‘দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ’ দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে এতে। ভানুয়াতুর জাতিসংঘ দূত ওডো তেভি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী মার্চের শেষ নাগাদ সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের কূটনীতিকদের নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা অন্যান্য দেশগুলোকে ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে রাজি করায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন, সৌদি আরব ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোও এই প্রস্তাবের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনের মতে, এই প্রস্তাবটি মূলত জাতিসংঘের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এর মাধ্যমে এমন কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে যা দেশগুলো আগে মেনে নেয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের সমালোচনা করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক সত্যকে অস্বীকার করে বড় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এমন ‘চাপ প্রয়োগ’ কাম্য নয়। তাদের মতে, পরিবেশ রক্ষায় প্রতিটি সরকারের নিজস্ব দায়বদ্ধতা পালন করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ পরিষদের এই প্রস্তাব আইনিভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও এর একটি বড় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লড়াইকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে।










