সৌদি আরবের সুরক্ষায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ‘যেকোনো পর্যায়’ পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র বলেছেন, ‘রিয়াদের নিরাপত্তার খাতিরে ইসলামাবাদের এ অঙ্গীকার পুরোপুরি “‍শর্তহীন”।’

বৃহস্পতিবার ‘আরব নিউজ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান কূটনৈতিক ও সামরিক—দুদিক থেকেই সৌদি আরবের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’

পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বে তেল সরবরাহে তৈরি হওয়া নতুন হুমকির মধ্যে সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি এ কথা বলেন। আইএসপিআর প্রধান সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘এর মধ্যে মক্কা ও মদিনার সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় নিয়োজিত আছি। এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকা উচিত না। সৌদি আরবের ওপর যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান অব্যাহত রাখবে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান নিঃশর্তভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের এ মেলবন্ধন খুবই আবেগপূর্ণ, গভীর, ঐতিহাসিক ও অটুট।’

আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও পশ্চিম এশিয়ায় পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে সামরিক বাহিনীর এ মুখপাত্র জানান, আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রাখছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পশ্চিম এশিয়া সংকটে পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী একটি দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও সহায়তাতেই দীর্ঘ আলোচনার পর জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর হয়।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তায়েফের আকাশে একটি ড্রোন ধ্বংস করার পর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে লড়াই তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবে পরপর চালানো হুথি হামলায় এটিই প্রথম নিহতের ঘটনা। সৌদি আরব এসব হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।