বেশ কিছুদিন ধরেই তাপপ্রবাহের কবলে মেক্সিকো। স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের কারণে হ্রদ ও জলাশয়ও শুকিয়ে গেছে। মানুষের পাশাপাশি পশুও কষ্ট পাচ্ছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে বাঁদরের দল গাছ থেকে পড়ে মারা যাচ্ছে। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত বেঁচে থাকা বানরগুলোকে উদ্ধার করছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। রাষ্ট্রীয় চিড়িয়াখানায় হিট ওয়েভে ক্ষতিগ্রস্ত পাখির জন্য করা হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সিংহকে দেয়া হচ্ছে হিমায়িত মাংসের পপসিকল।
মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য চিয়াপাস ও তাবাসকোয় অনেক বানরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ৩১ মে পর্যন্ত মেক্সিকোয় ২০৪টি বানর মারা গেছে। এর মধ্যে ১৫৭টি তাবাসকো অঞ্চলে।
মেক্সিকোর সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে, তাপপ্রবাহের পাশাপাশি পশুর খাওয়ার পানির উৎস কমে এসেছে। যেসব এলাকায় এসব বানর বসবাস করে সেখানকার হ্রদগুলো শুকিয়ে গেছে।
তাবাসকোভিত্তিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গ্রুপ সিওবিআইইউএস এ ঘটনাকে বানরের ‘গণমৃত্যু’ বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সম্ভবত জলবায়ুগত কারণে এ মৃত্যু ঘটেছে। তবে আমরা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণকে অস্বীকার করতে পারি না।’
বন্যপ্রাণী বিজ্ঞানী গিলবার্তো পোজো বলেন, ‘গতকালই তিনটি বানর মারা গেছে। আমরা গাড়িতে করে তাবাসকোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেছি। যে বানরগুলোকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাওয়া গেছে সেগুলোর অবস্থা এখনো স্বাভাবিক করা যায়নি।’
বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা অর্থাভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা সেলভা টেনেক নামে একটি সংগঠনের নেতা বলেন, ‘পাখি ও বানরগুলো টুপটাপ মারা পড়ছে। বনের শতভাগ প্রাণী ডিহাইড্রেশনে ভুগছে। আমরা তাদের পানি দিতে পারছি না। উড়তে উড়তে মাটিতে পড়ে মারা যাচ্ছে পানিশূন্যতায় ভোগা পাখি। আমরা আসলে আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি।’
মেক্সিকো সিটির চ্যাপুলটেপেক চিড়িয়াখানায় সিংহগুলোকে বরফ মিশ্রিত মাংস দেয়া হচ্ছে। রাজধানীর চিড়িয়াখানাটির প্রধান আলবার্তো ওলাসকোগা বলেছেন, প্রাণীরা এগুলো পছন্দ করছে। হিমায়িত মাংসের পপসিকল খেয়ে তারা সতেজ হয়ে ওঠে।










