বেসরকারি গণনা অনুসারে , প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রাবোও সুবিয়ান্ত ইন্দোনেশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন। সেই সূত্র ধরে প্রায় ৬০% ভোট পেয়ে ইতোমধ্যে সমর্থকদের সামনে  নিজেকে জয়ী ঘোষণা করেছেন দেশটির সাবেক এই স্পেশাল ফোর্স কমান্ডার। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের সামনে তিনি নিজেকে বিজয়ী দাবি করে বলেন,  এই জয় সমস্ত ইন্দোনেশিয়ানদের জয়। খবর রয়টার্স। 

অন্যদিকে বিতর্কিত সামরিক অতীতের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনে সুবিয়ান্তর প্রতিপক্ষ হয়ে লড়েছেন- জাকার্তার সাবেক গভর্নর অ্যানিস বাসওয়েদান ও মধ্য জাভার সাবেক গভর্নর গাঞ্জার প্রানোও।

৪০ শতাংশ ভোট গণনায় তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ এগিয়ে ছিলেন প্রাবোও ।  

প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানিস এবং গাঞ্জা কারচুপির প্রবোওর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করলেও তা প্রমাণ করতে পারেন নি। এছাড়া নির্বাচনী পর‌্যবেক্ষকরাও দাবি করেছেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

দেশটির জাতীয় নির্বাচনী সংস্থা আগামী ২০ মার্চ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল জানাবে। সেই ফলাফল অনুযায়ী নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অক্টোবর থেকে তার দায়িত্ব পালন করবে।

বেসরকারি ফলাফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাকার্তার প্রাক্তন গভর্নর অ্যানিস  বলেন, তার দল আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবে এবং জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রাবোও সুবিয়ান্তর জয়ের পেছনে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর সমর্থন ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। যদিও উইডোডো প্রত্যক্ষভাবে কাউকেই সমর্থন জানাননি। তবে তার বড় ছেলে জিব্রান রাকাবুমিং রাকার সমর্থনকেই উইডোডোর পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন অনেকে।

এদিকে সুবিয়ান্তর মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে উদ্বেগ আছে। একারণে, তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। এক প্রজন্ম আগে সুহার্তোর স্বৈরশাসনের সময় সামরিক বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ছিলেন সুবিয়ান্ত।

ওই সময়ে তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৯০ এর দশকে এক পর্যায়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

১৯৯৮ সালে ২০ জনের বেশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনকর্মী শিক্ষার্থী (যাদের মধ্যে ১৩ জনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি) অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে তাকে অসম্মানজনকভাবে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ফলে সুবিয়ান্তর আগমনে ইন্দোনেশিয়া আবারও অতীতের একনায়কত্বে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার সব মানুষের সমৃদ্ধির জন্য লড়াই করার অঙ্গীকার নিয়েই এবারের নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন সুবিয়ান্ত।