গাজার উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০০ জনের মরদেহ দাফন শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৬০ জন শিশু। আজ রোববার গাজা সিটির জেইতুন এলাকা থেকে এসব মরদেহের দেহাবশেষ কেন্দ্রীয় গাজা সিটির আল-মামাদানি কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়। খবর আল জাজিরা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে কয়েক সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিলেন বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও স্বজনরা। উদ্ধার হওয়া নিহতদের অনেকেই মালাকা পরিবারের সদস্য। ওই পরিবারেরই ৫৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদক গাজি আল-আলৌল জানান, স্বজনরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন প্রিয়জনদের যথাযথ কবরস্থানে দাফনের জন্য। তবে গাজার সব পরিবারের এ সুযোগ হয়নি। যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকায় কবরস্থান ধ্বংস ও খুঁড়ে ফেলার কারণে অনেক পরিবার স্বজনদের দাফন করতে পারেনি।
তিনি আরো জানান, কাফনে মোড়ানো দেহাবশেষগুলো দেখতে অক্ষত মরদেহের মতো হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো ছিল শুধু দেহের বিভিন্ন অংশ। এর মধ্যে হাড় ও নিহতদের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্রের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সম্পূর্ণ মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রধান রায়েদ আল-দাহশান বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ থাকা আরো হাজারো মানুষের মরদেহ উদ্ধারে তার সংস্থা পরিকল্পনা করেছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতির সংকটে এ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা উপকরণও তাদের কাছে নেই। যথাযথ সরঞ্জাম পাওয়া গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা আনুমানিক ৮ হাজার মরদেহ প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব। তবে এসব সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করতে না দেয়া হলে উদ্ধারকাজ আরো কয়েক বছর ধরে চলতে পারে।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের একটি বিস্তারিত তালিকা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে দেয়া হয়েছে জানিয়ে আল-দাহশান বলেন, উদ্ধারকাজের জন্য বড় আকারের খননযন্ত্র, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও দেহাবশেষ শনাক্তের সরঞ্জাম প্রয়োজন। এসব যন্ত্রপাতি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার কাছে না রেখে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও তারা রাজি।
দেহাবশেষ শনাক্তের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো ভবনে হামলার সময় সেখানে কারা ছিলেন এবং তারা কোথায় ছিলেন তা জানতে জীবিত স্বজন ও আশপাশের পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। প্রকৌশলীদের একটি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামত বাছাই ও নথিভুক্ত করছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।









