কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। ঘূর্ণিঝর দিতওয়ার প্রভাবে ভারী বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দেশটিতে কমপক্ষে ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো দুই শতাধিক মানুষ।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। অন্তত ১ লাখ ৮ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শ্রীলংকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা। পুরোপুরি বন্ধ সুপেয় পানির সরবরাহ।
ভারী বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাতিল করা হয়েছে অন্তত ৪৭টি ফ্লাইট। আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি ত্রাণ তৎপরতায় আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে শ্রীলংকা সরকার।
একইভাবে বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ। দ্বীপের মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় সেনিয়ার প্রভাবে গত সপ্তাহ থেকে অঞ্চলটিতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে সুমাত্রা দ্বীপের প্রাণহানি ৪১৭ জনে ঠেকেছে। নিরাপদ সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে। এখনো নিখোঁজ ২৭৯ জন। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে জরুরি সহায়তা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে তিনশ’ বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে ডুবে আছে থাইল্যান্ডের সঙ্খলা প্রদেশ। শহরের কোথাও কোথাও আট ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছিল বৃষ্টির পানি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৩৫ লাখ মানুষ, নিহত ১৬২ জন। অকস্মাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় হাটইয়াই শহরের বাসিন্দারা ৪৮ ঘণ্টা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকা টেবিল, ওয়াশিং মেশিন ও জানালার ফ্রেমের ওপর আশ্রয় নিয়েছিলেন।
উড়োজাহাজ দিয়ে শহরের হাসপাতালে থাকা রোগী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চলমান জরুরি অবস্থার মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পুরো শহর। বর্তমানে কিছু এলাকায় পানি নেমে গেলেও পুরোপুরি বিধ্বস্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এছাড়া বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মালয়েশিয়ায় ২ জনের প্রাণহানী হয়েছে। জলমগ্ন অন্তত ৩৫ হাজার বাসিন্দা।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ ঝড়কে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে অঞ্চলটিতে বছরজুড়েই চরম তাপমাত্রা বিরাজ করেছে। যা পরবর্তীতে সমুদ্রে নিম্নচাপের জন্ম দিচ্ছে। যার প্রভাবে বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সংকট মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশগুলোর সামনে আরো বড় ঝুঁকি রয়েছে বলেও আশংকা বিজ্ঞানীদের।










