তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে। এমনটা দাবি করেছেন আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। জেনেভায় গতকাল শেষ হওয়া আলোচনায় কোনো চুক্তি না হলেও শিগগিরই আবার বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর এফটি।
মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বদর আলবুসাইদি গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘উভয় দেশে পরামর্শের পর শিগগিরই পুনরায় আলোচনা শুরু হবে।’
তিনি এক্স পোস্টে লেখেন, ‘আমরা দিন শেষে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে আলোচনা শেষ করেছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেশ কয়েকবার ইরানে হামলার হুমকি দেন। তিনি বলেন, তেহরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে চুক্তি না করে, তাহলে সামরিক হামলা চালানো হবে।
আলোচনা শেষে ‘ভালো অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অবস্থান পারস্পরিক বোঝাপড়ার দিকে এসেছে। আমরা পারমাণবিক ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি করেছি।
বর্তমান অচলাবস্থায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াকে স্থায়ী ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য চুক্তির জন্য অপরিহার্য মনে করে তেহরান।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টান্যাশনাল এটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিরিও জেনেভায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
আরাঘচি আরো জানান, আগামী সোমবার টেকনিক্যাল টিম ভিয়েনায় আলোচনা শুরু করবে। এরপর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আরেক দফা আলোচনা হবে।
অবশ্য গতকাল শেষ হওয়া আলোচনা নিয়ে হোয়াইট হাউজ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে, চুক্তির অগ্রগতিতে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে রয়ে গেছে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের লক্ষ্য। উইটকফ গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ‘রেডজোন’ হলো ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’। ইরান বরাবরই এ শর্ত মানবে অস্বীকার করে আসছে। তাদের মতে, বেসামরিক ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রাখে তেহরান, যেহেতু তারাও পরমাণু বিস্তার রোধ চুক্তির স্বাক্ষরকারী।
এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন নিয়ে আলোচনা করতে চায়নি তেহরান। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার বলেছেন, আলোচনা হবে প্রধানত পারমাণবিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করায় তেহরানের সমালোচনা করেন তিনি।
রুবিও আরো বলেন, ইরানের কাছে হাজার হাজার স্বল্প-পরিসরের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা মার্কিন বাহিনী, ঘাঁটি ও মিত্রদের জন্য হুমকি। জাহাজ চলাচল ও মার্কিন নৌবাহিবীর জন্য হুমকির অস্ত্রও রয়েছে। দেশটির কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করার জন্য নকশাকৃত।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর থেকে সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঠিক পরিমাণ মূল্যায়ন করতে সমস্যায় পড়েছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের দিকে পাঁচ শতাধিক মধ্য ও দীর্ঘ-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। এছাড়া ইসরায়েলি হামলায় অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়।
তাদের মতে, ইরানে সম্ভবত স্বল্প-পরিসরের কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে। কারণ যুদ্ধের সময় এ ধাঁচের খুব কম ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে এ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না।















