ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় নিনেভেহ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় রাষ্ট্রস্বীকৃত সশস্ত্র জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) -এর আট সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরো বাড়বে বলে সতর্ক করে দিয়েছে গোষ্ঠীটি। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ঘিরে ওমানকে নতুন শর্ত দিয়েছে ইরান। খবর আল জাজিরা।
আট সদস্য নিহতের খবর আজ সকালে এক বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে পিএমএফ।
এর আগে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি বাহিনী ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় তাদের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন হতাহত হয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে’ এবং এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও দেশটির সরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি লঙ্ঘন।
পিএমএফ আরো জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো করা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় হোয়াইট হাউজ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি, যেখানে সম্প্রতি এক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছিলেন।
এদিকে সেন্টকম পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ইরাকে কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব স্থাপনা এমন ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যাদের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর হয়ে কাজ করছে এমন সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, এসব স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইরাকে চালানো হামলাগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব ছিল, নাকি উল্টো ইরানের হামলাটি ইরাকে চালানো অভিযানের প্রতিক্রিয়া—এটি এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। শান্তি আলোচনা শুরুর সুযোগ দিতে গত পাঁচ দিন ধরে কার্যত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো হামলা হয়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সঙ্গে নৌপথটির আংশিক নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে দেশটি।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নৌপথ দুই দেশের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করার ওমানের প্রস্তাব তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। এর বদলে ইরান প্রস্তাব দিয়েছে, প্রণালির নিজেদের অংশের পাশাপাশি ওমানের জলসীমার ভেতরের বিপরীতমুখী নৌপথেরও একটি অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
গারিবাবাদি বলেন, ‘ওমান আমাদের কাছে হরমুজ প্রণালিতে একটি নৌপথ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল, যার ৫০ শতাংশ থাকবে আমাদের আঞ্চলিক জলসীমায় এবং বাকি ৫০ শতাংশ ওমানের জলসীমায়। এ ব্যবস্থায় জাহাজগুলো আমাদের জলসীমা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং ওমানের জলসীমা দিয়ে বের হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব হলো, হরমুজ প্রণালির ট্রানজিট রুটের একটি অংশ আমাদের জলসীমায় থাকবে এবং ওমানের জলসীমার ভেতর দিয়ে যাওয়া অংশেরও আংশিক নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকবে।’
গারিবাবাদি সতর্ক করে বলেন, ওমান যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তাহলে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।










