ওমানের মধ্যস্থতায় আজ (১১ মে) ফের মুখোমুখি বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উদ্দেশ্য, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে একটি নতুন চুক্তির সম্ভাব্য পথ খোঁজা। তবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ফেরার আগেই উভয় পক্ষ একাধিক ‘রেড লাইন’ বা অনমনীয় শর্ত টেনে এনেছে। এতে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। খবর রয়টার্স।

চতুর্থ দফার এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। ওমানের রাজধানী মাসকটে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষ।

এর আগেই ব্রেইটবার্ট নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ তাদের শর্ত জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের শর্ত—কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নয়। এর মানে, সবকিছু গুটিয়ে নিতে হবে, অস্ত্রায়নের সম্ভাবনা একেবারে বন্ধ করতে হবে।‘ তার দাবি অনুযায়ী, ইরানের নাতানজ, ফরদো এবং ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

উল্টোদিকে, ইরান জানিয়ে দিয়েছে তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের পারমাণবিক ‘অধিকার’ থেকে এক চুলও পিছু হটবে না। ‘আমরা আলোচনায় সদিচ্ছা নিয়ে বসছি। কিন্তু যদি লক্ষ্য থাকে আমাদের অধিকার সীমিত করা, তাহলে স্পষ্টভাবে বলে রাখি—ইরান তার অধিকার থেকে এক ইঞ্চিও সরবে না,’ বলেন আরাকচি।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কার্যক্রমে কিছু নিয়ন্ত্রণ মানতে রাজি। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা বা মজুদ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের কোনো প্রশ্নই আসে না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যেসব কথা প্রকাশ্যে বলছে, বাস্তব আলোচনায় তা অনেকটাই আলাদা। আলোচনায় প্রকৃত দিকনির্দেশনা রোববারই স্পষ্ট হবে বলে ধারণা তার। উল্লেখ্য, এই আলোচনার শুরু হওয়ার কথা ছিল ৩ মে রোমে, কিন্তু ওমান ‘লজিস্টিক জটিলতা’ দেখিয়ে তা পিছিয়ে দেয়।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হলে বিকল্প পথ বেছে নিতে তারা প্রস্তুত। এরইমধ্যে ইরানের ওপর আবারো ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ নীতি চালু করেছে ওয়াশিংটন। আগামী ১৩–১৬ মে ট্রাম্পের সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের আগে আলোচনার ফলাফল তাই কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।