ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘের সদর দফতরের নিচে হামাসের কমান্ড টানেল খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এটিকে হামাসের শোষণের নতুন প্রমাণ বলেও অভিহিত করেছে। খবর রয়টার্স।

সামরিক বাহিনী বলছে, টানেলটি ৭০০ মিটার দীর্ঘ এবং ভূপৃষ্ঠের ১৮ মিটার গভীরে অবস্থিত। সেখানে অফিস স্পেস আছে। যদিও সেখানে থাকা স্টিলের সেফগুলো খোলা এবং খালি অবস্থায় রয়েছে। সেখানে টয়লেটও ছিল। এছাড়া একটি বড় চেম্বার কম্পিউটার সার্ভার দিয়ে পরিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

সাংবাদিকদের এ টানেলে নিয়ে যাওয়ার কাজে নেতৃত্ব দেন ইডো নামের ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট-কর্নেল। তিনি বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর গরম, সরু এবং মাঝে মাঝে কিছুটা ঝোপ-ঝাড়ের মধ্য দিয়ে বিশ মিনিট হাঁটার পর তারা ইউএনআরডব্লিউএ সদর দপ্তরের নিচে পৌঁছান। এ স্থানটি হামাসের গোয়েন্দা ইউনিটগুলোর মধ্যে একটি, যেখান থেকে তারা বেশিরভাগ সময়ই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও অগ্রগতির মুখে হামাস এখান থেকে সরে এবং যোগাযোগের সক্ষমতা কেটে দিয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পাঁচ দিন পরে তারা গত বছরের ১২ অক্টোবর সদর দপ্তর খালি করে দেয় এবং এ কারণে ইসরায়েলি অনুসন্ধানের বিষয়টি ‘নিশ্চিত করতে বা কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অক্ষম’ তারা।

ইসরায়েলের দাবির প্রেক্ষিতে দেয়া ওই বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএ আরো জানায়, ‘দপ্তরের প্রাঙ্গণে কি আছে বা কি থাকতে পারে সে বিষয়ে সামরিকভাবে পরিদর্শন করার সামরিক ও নিরাপত্তা দক্ষতা বা সক্ষমতা নেই ইউএনআরডব্লিউএ-এর।’ 

অবশ্য হামাস বেসামরিক অবকাঠামোগুলোতে কাজ করার কথা অস্বীকার করেছে। তবে ইডো সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানি যে তাদের (হামাসের) লোকজন ইউএনআরডব্লিউএ-তে কাজ করছে। আমরা চাই প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজায় কাজ করুক। এটা কোনো সমস্যা নয়। আমাদের সমস্যা হামাস।’