বয়স দুজনেরই সত্তর পেরিয়েছে, বাড়িও নিউ জার্সিতে এবং আমেরিকান মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে দুজনেরই আলাদা জনপ্রিয়তা। একজন রক সংগীতের ‘দ্য বস’, আরেকজন এখন মার্কিন রাজনীতির ‘বস’ হিসেবেই আছেন। কিন্তু এখানেই শেষ সব মিল।
কিংবদন্তি রক শিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন সম্প্রতি ম্যানচেস্টারের এক কনসার্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য ও বেঈমান’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজকের যুক্তরাষ্ট্র এক দখলদার সরকারের হাতে বন্দি। যারা জানেই না প্রকৃত আমেরিকান হওয়া কাকে বলে।‘ তিনি দর্শকদের ‘স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ তোলার’ আহ্বান জানান।
প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প স্প্রিংস্টিনকে বলেন ‘ওভাররেটেড’, ‘অশ্রাব্য’ এবং ‘বুড়ো রকার’। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘আমি তাকে কখনই পছন্দ করিনি। না তার গান, না তার উগ্র বামপন্থা। ওর মুখ বন্ধ রাখা উচিত, যতক্ষণ না সে দেশে ফিরে আসছে।‘
এতেই থেমে থাকেননি ট্রাম্প। তিনি দাবি তোলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে স্প্রিংস্টিন ও বিয়ন্সের প্রচারণামূলক উপস্থিতি অবৈধ অনুদান কি না, তা তদন্ত করা উচিত।
স্প্রিংস্টিন অবশ্য থেমে নেই। পরের রাতেই আবার ম্যানচেস্টারে একই ভাষায় প্রশাসনকে তিরস্কার করেন তিনি। গানের বাইরে প্রতিবাদ করাও তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। রিগ্যান প্রশাসনের আমলে আমাদু দিয়ালো হত্যার প্রতিবাদে লেখা ‘অ্যামেরিকান স্কিন (৪১ শটস)’ গানটি, কিংবা ৯০-এর দশকে শরণার্থীদের জীবন নিয়ে করা ‘দ্য ঘোস্ট অব টম জোড’ অ্যালবাম— বারবারই স্প্রিংস্টিন বলেছেন নিপীড়িতদের পক্ষে।
এমনকি ২০২০ সালেও স্প্রিংস্টিন ট্রাম্পকে ‘কুইন্স থেকে আসা এক প্রতারক’ বলে অভিহিত করেন। নিউ জার্সির দুই বাসিন্দার এই লড়াই এখন রীতিমতো সাংস্কৃতিক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
এদিকে, কানাডিয়ান-আমেরিকান রকার নিল ইয়াংও স্প্রিংস্টিনের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে একহাত নিয়েছেন। তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, ‘ব্রুস ও হাজারো সংগীতশিল্পী বিশ্বাস করেন তুমি আমেরিকাকে ধ্বংস করছো। গাজায় মরছে শিশুরা, সেটা নিয়ে ভাবো।‘
ব্রুস স্প্রিংস্টিনের রাজনৈতিক অবস্থান নতুন নয়। অনেক কনজারভেটিভ ভক্ত তার গান ভালোবাসলেও তার রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ৪০ বছর পরেও কেউ যদি ভাবেন স্প্রিংস্টিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন, তাহলে সেটা অবাস্তব আশা।
বর্তমানে ইউরোপে ট্যুরে থাকা স্প্রিংস্টিন ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট করেননি। তবে তার ভাষণ দেখিয়ে দিচ্ছে, সংগীতশিল্পী হলেও ‘দ্য বস’ রাজনৈতিক লড়াই থেকেও পিছপা নন।
সূত্র: এপি















