রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় বৈঠকের পর রোববার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ইউক্রেনেও ‘ফলপ্রসূ বৈঠক’ হবে বলে আশা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। খবর বিবিসি।

রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মস্কোয় পুতিনের সরকারি বাসভবনে তার সঙ্গে তিন ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন উইটকফ ও কুশনার। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এদিন পুতিনের সঙ্গে তারা ‘পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় ঠিক কী পরিকল্পনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে উভয় পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পরস্পরের রাজধানীতে তিনদিনের জন্য হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছেন।

বৈঠককে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে উল্লেখ করেছেন পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। তিনি বলেন, ইউক্রেন সংকটের সমাধান নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয় এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিক লাভজনক প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

রুশ সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বৈঠকে এ বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানান উশাকভ। একই সঙ্গে সংঘাতের মূল কারণগুলো নিয়েও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্রেমলিনে উইটকফ ও কুশনারের আলোচনার সময় জেলেনস্কি বলেন, তিনি ও তার দল আলোচনার জন্য প্রস্তুত। যুদ্ধের অবসানকে এগিয়ে নিতে তারা আগ্রহী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সমন্বিত, অর্থবহ ও বাস্তবসম্মতভাবে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এর মধ্যেই শনিবার রাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বাহিনী পরস্পরের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা একটি তেল শোধনাগার, একটি বিমানঘাঁটি ও দুটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ সেনাবাহিনীকে জ্বালানি সরবরাহকারী রিয়াজান তেল শোধনাগার এবং রোস্তভ-অন-ডনের একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ১১টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে।