কারাদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সাজাপ্রাপ্ত তিনটি মামলার ক্ষেত্রে তিনি এ আপিল করেন বলে এক আইনজীবী জানান। খবর এপি।

ইমরান খান দুর্নীতি, সরকারি তথ্য ফাঁস এবং বিবাহ আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৩১ বছরের সাজা পেয়েছেন। তার সাজাপ্রাপ্তির দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এ আপিল করা হলো। ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিণ্ডির গ্যারিসন শহরে কারাবন্দি রয়েছেন। তার আইনজীবী লতিফ খোসা এ তথ্য জানান।

তবে এটি অস্পষ্ট যে কেন ইমরান খানের আইনজীবীরা আপিল করার জন্য দুই সপ্তাহেরও অধিক সময় ব্যয় করেছেন।

৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দেশটির জাতীয় নির্বাচনের আগে ইমরানের খানের কারাদণ্ডাদেশের ঘোষণা আসে। নির্বাচনে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীরা অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করেছেন।

যাই হোক, দেশটিতে নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠন ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ইমরান খান তার দণ্ডাদেশের জন্য নির্বাচনেই অংশ নিতে পারেননি।

৩০ জানুয়ারি সরকারি তথ্য ফাঁসের জন্য ইমরান খানের দশ বছরের জেল হয়। তার কিছুদিন পর ঘুস গ্রহণের মামলায় ১৪ বছর এবং বিবাহ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ বছরের সাজা পান।

আইনজীবী খোসা জানান, সরকারি তথ্য ফাঁস ও দুর্নীতির মামলায় ইসলামাবাদ হাই কোর্টে আপিল করা হয়েছে। ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিবাহ আইন লঙ্ঘন মামলায় অন্য কোর্টে আপিল করা হয়।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১৭০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে আটকের পর জনগণকে সহিংসতায় উসকানি দেয়ার মামলাও আছে। তার সমর্থকরা মে মাসে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালায়। রাওয়ালপিণ্ডিতে সেনাবাহিনীর হেড কোয়ার্টারে হামলা, পূর্ব পাঞ্জাব প্রদেশে বিমান ঘাঁটি ও রেডিও পাকিস্তান ভবনে হামলা হয়।

শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে জামিন দেয়ার সময় দেশটিতে সহিংসতা কমে আসে।

লতিফ খোসা বলেন, আইনজীবীরা ইমরান খান ও তার স্ত্রীর তিনটি দণ্ডাদেশ স্থগিত করার উপায় খুঁজছেন।      

পাকিস্তানে পিটিআইসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে সমাবেশ করেছে। পিটিআই আজ শনিবারও দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।