প্রিন্সেস ডায়ানার স্মৃতিকথা এবং রাজপরিবারের নানা গোপন খবর নিয়ে বই প্রকাশ হতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের ডায়ানার ভাই আর্ল স্পেন্সার তার নতুন বই ‘সোয়ান সং: ডায়ানা, মাই সিস্টার’-এ একের পর এক বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরেছেন। কিন্তু বই প্রকাশের প্রথম দিনেই এক মারাত্মক ভুল তথ্যের কারণে বিখ্যাত সাংবাদিক ও উপস্থাপক পিয়ার্স মরগানের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত আর্ল স্পেন্সারের বইয়ের একটি অংশকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে জিমনেসিয়ামে ডায়ানার শরীরচর্চার কিছু গোপন ও ব্যক্তিগত ছবি ছাপানোর পেছনে পিয়ার্স মরগানের হাত ছিল। কিন্তু বই প্রকাশের দিনই পিয়ার্স মরগান নিজের ইউটিউব শো ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’-এ এসে তথ্যপ্রমাণসহ সেই দাবি ভুল বলে প্রমাণ করেন।

পিয়ার্স মরগান জানান, ১৯৯৩ সালের ৭ নভেম্বর ‘সানডে মিরর’ পত্রিকায় ওই বিতর্কিত ছবিগুলো ছাপা হয়েছিল। আর তিনি ‘ডেইলি মিরর’-এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে। ছবিগুলো যখন ছাপা হয়, তখন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকা ‘দ্য সান’-এ বিনোদনভিত্তিক কলাম লিখতেন। ফলে এই সংবাদের সঙ্গে তার কোনো সংযোগ ছিল না। ভুল তথ্য দিয়ে চরিত্রহনন করার অপরাধে বই তুলে নেয়া এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মরগানের এমন মারমুখী অবস্থানের পর পিছু হটেন গবেষক ও ঐতিহাসিক হিসেবে নিজেকে দাবি করা আর্ল স্পেন্সার। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পিয়ার্স মরগান সেই সময় মিররের সম্পাদক ছিলেন বলে তিনি ভুল ধারণা করেছিলেন। ঐতিহাসিক হিসেবে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা তার দায়িত্ব উল্লেখ করে স্পেন্সার তার এই ভুলের জন্য পিয়ার্স মরগানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখও প্রকাশ করেন সে সময়।

তবে ক্ষমা চাইলেও বিরোধ থামেনি। মরগান পাল্টা দাবি করেন, তিনি মোটেও কোনো রূঢ় বা বিরক্ত আচরণ করেননি। বরং স্পেন্সর ও তার পরিবারের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছিলেন। এমনকি নিজের ডায়েরি ‘দ্য ইনসাইডার’-এও এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মর্গান আরো জানান, তিনি স্পেন্সর ও তার প্রকাশক পেঙ্গুইনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যাবেন। তার দাবি, বইয়ে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বই থেকে এসব বক্তব্য সরানো এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা বলেছেন।

প্রিন্সেস ডায়ানাকে নিয়ে লেখা আর্ল স্পেন্সারের ২৮ পাউন্ড মূল্যের এই বইটি প্রকাশের প্রথম দিনেই লন্ডনের বইয়ের দোকানগুলোতে বেশ কম দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এমনকি অনেক নামি দোকানেও বইটি অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজপরিবার নিয়ে নানা বিতর্কের জেরে বইটি বিক্রি বাড়াতে এমন ছাড় দেয়া হচ্ছে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

—দ্য গার্ডিয়ান