লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। পরে সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ট্যাংকারগুলোর একটিতে আগুন লেগেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
হুথিরা জানিয়েছে, তারা এনসেলিয়া ও লায়লা নামের দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের আরোপ করা নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করেছিল জাহাজ দুটি। হামলায় একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
সৌদি সংবাদমাধ্যম এসপিএ জানায়, হামলায় এনসেলিয়ার সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন। হামলার জন্য প্রতিবেদনে কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।
একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আজ ভোরে এনসেলিয়া ভিএইচএফ রেডিওর মাধ্যমে জরুরি সংকেত পাঠিয়ে জানায়, সৌদি আরবের জিজান বন্দরের বাইরের জলসীমায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন লেগেছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডও জানিয়েছে, সৌদি পতাকাবাহী ট্যাংকার এনসেলিয়া দেশটির আল শুকাইক থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১৩০ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একই এলাকায় আক্রান্ত হওয়ার একটি ঘটনার খবর তারা পেয়েছে। একটি ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, একটি অজ্ঞাত বস্তু জাহাজে আঘাত করলে আগুন ধরে যায়।
ইউকেএমটিওর প্রতিবেদনে এনসেলিয়ার নাম উল্লেখ না করলেও ঘটনার বিবরণ ভ্যানগার্ডের তথ্যের সঙ্গে মিলে যায়।
দুই ট্যাংকারে হামলার ঘোষণা দিয়ে হুথিরা আরো দাবি করেছে, তাদের অভিযানের ফলে প্রায় ১০টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল লোহিত সাগরে পাঁচটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার রুট পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে দুটি হুথিদের সৌদি বন্দর এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তার পর সুয়েজ খালের দিকে গন্তব্য পরিবর্তনের সংকেত দেয়।
গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
লোহিত সাগরে উত্তেজনা বাড়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। এর জবাব দেয়ার কথা জানিয়েছিল ইরান।
এরই মধ্যে টানা ১২তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ হামলা পশ্চিম ও মধ্য ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার হামলায় ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু, সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আঘাত হানা হয়।
ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আজ দেশটির একমাত্র চালু বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী বুশেহর এলাকায় একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে দুবার হামলা চালিয়েছে। গত দুই দিনে সেখানে এটি ছিল তৃতীয় হামলা।
খুজেস্তান প্রদেশের এক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বলে উল্লেখ করে জানান, শালামচেহ সীমান্ত ক্রসিংয়ে দুজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত মাসের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত ৫৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প ডোভার বিমানঘাঁটিতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় নিহত চার মার্কিন সেনাসদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সেখানে যাওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, ‘একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। কিন্তু এটি করতেই হয়।’










