মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর আবারও দেশটির ‘শাসন পরিবর্তন’ নিয়ে নতুন করে কথা বলেছেন। রোববার ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লেখেন, ‘শাসন পরিবর্তন বলা রাজনৈতিকভাবে সঠিক না হলেও, যদি বর্তমান ইরানি শাসন ইরানকে মহৎ দেশ বানাতে না পারে তাহলে কেন শাসন পরিবর্তন হবে না?’ তিনি সেখানে ‘মেইক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ বলেও মন্তব্য করেছেন। খবর রয়টার্স।
তবে তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এর বিরোধিতা করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সরকার পরিবর্তন নয়।
পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘এটি একটি নিখুঁত অভিযান ছিল। আমরা সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কিছু করিনি।‘ ভ্যান্স এনবিসিতে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ইতি চাই। তার পর আলোচনায় বসতে চাই।‘
‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে পরিচিত গোপন অভিযানটিতে সাতটি বি-২ বোমারু বিমান ১৮ ঘণ্টা উড়ে ইরানে প্রবেশ করে ১৪টি শক্তিশালী বাংকার বিধ্বংসী বোমা ফেলে। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ৭৫টি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র, ২৪টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৫টির বেশি সামরিক বিমান ব্যবহার করেছে।
ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলার পর ক্ষতি এতটাই বড় যে তা মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান বলে জানিয়েছেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন। তিনটি স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংস হয়েছে। তবে এখনো নির্ধারণ করা যায়নি, ইরানের সব পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে কি না।
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রসি বলেন, ফোরদোতে হামলার সত্যতা নিশ্চিত হলেও মাটির নিচে কী ক্ষতি হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফোরদোতে ৬০% পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এই হামলাকে ‘বিশাল ক্ষতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একদিন আগেই তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করেছি।‘
ইরান এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে বহু মানুষ আহত হন ও ভবন ধ্বংস হয়। এখনো তারা মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা না চালালেও হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ৪০ হাজার সৈন্য মোতায়েন রেখেছে। এই হামলার পর ইরাক ও সিরিয়াসহ অন্যান্য ঘাঁটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে কিছু জাহাজ ও বিমান সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে, যেগুলো সম্ভাব্য ইরানি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনা না করে ইরানে হামলা চালানোয় সমালোচনার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ইস্যুতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেগসেথ জানান, বিমানগুলো হামলা সেরে ইরান ত্যাগ করার সময় হামলার বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের অবহিত করা হয়েছে। এদিকে, একই দিন নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে বিক্ষিপ্তভাবে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, ইরান চাইলে কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে। তবে প্রশাসনের অভ্যন্তরে এই মতের বিরোধিতা করেছেন অনেকে।















