ট্র্যাকার বন্ধ করে সম্প্রতি একাধিকবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার। পরে উপসাগরের বাইরে সেই তেল ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিল্প সূত্র ও জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে উপসাগরে আটকে থাকা জ্বালানি তেল বাজারে আনার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, পরিমাণ হিসেবে ইউএইর সরবরাহ করা জ্বালানি তেল স্বাভাবিক রফতানির তুলনায় খুবই কম। তবে এটি দেখায় যে উত্তোলনকারী ও ক্রেতারা কতটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও বিক্রি সচল রাখতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে ইরাক, কুয়েত ও কাতারের মতো দেশগুলো রফতানি কার্যত বন্ধ রেখেছে, দাম কমিয়ে ক্রেতা টানার চেষ্টা করছে। তবে সৌদি আরব লোহিত সাগর পথে অল্প পরিমাণ রফতানি সচল রেখেছে।

তিনটি সূত্র, জাহাজ ট্র্যাকিং ডাটা কোম্পানি কেপলার ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ সংস্থা সিনম্যাক্স জানিয়েছে, গত মাসে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) অন্তত ৪০ লাখ ব্যারেল আল্ট্রা জাকুম এবং ২০ লাখ ব্যারেল দাস ক্রুড চারটি ট্যাংকারে করে উপসাগরের ভেতরের টার্মিনাল থেকে রফতানি করেছে।

এ চালানগুলোর একটি অংশ জাহাজ থেকে জাহাজ (এসটিএস) স্থানান্তরের মাধ্যমে অন্য জাহাজে সরানো হয়। কিছু ওমানের স্টোরেজে নামানো হয়। আর কিছু সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার পরিশোধনাগারে গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অ্যাডনক।

কেপলারের তথ্যানুযায়ী, অ্যাডনকে ভিএলসিসি হাফেট ৭ এপ্রিল হরমুজের ভেতরে ২০ লাখ ব্যারেল আল্ট্রা জাকুম লোড করে এবং ১৫ এপ্রিল প্রণালি অতিক্রম করে। এরপর ১৭-১৮ এপ্রিল জাহাজটি গ্রিসের পতাকাবাহী ভিএলসিসি অলিম্পিক লাকের জ্বালানি তেল স্থানান্তর করে।

এ কার্গো পরে মালয়েশিয়ার পেঙ্গেরাং পরিশোধনাগারে যায়। ওই পরিশোধনাগারটি মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পেট্রনাস ও সৌদি আরামকোর যৌথ উদ্যোগ স্থাপিত হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের রফতানি ব্যতীত কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ আটকে যায়। ওই পরিস্থিতি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের রফতানি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠে যায়।

অ্যাডনক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দৈনিক রফতানি ১০ লাখ ব্যারেলেরও কমিয়েছে। এর আগে তাদের রফতানির আকার ছিল প্রায় ৩১ লাখ ব্যারেল। অ্যাডনক বেশিরভাগ রফতানি মারবান গ্রেডের, যা পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থলভাগ থেকে ফুজাইরাহ বন্দরে পাঠানো হয়।

অ্যাডনকের জাহাজগুলো ইরানের আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। গত সোমবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ইরানি ড্রোনের আক্রমণের মুখে পড়ে কোম্পানিটির খালি ট্যাংকার বারাকা।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাহাজগুলো স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রেখে চলাচল করছে, যাতে ইরানি বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে। একই কৌশল ইরানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রফতানিতে ব্যবহার করে থাকে।

এর ফলে মোট রফতানির প্রকৃত পরিমাণ হিসাব করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই এপ্রিলে রফতানীকৃত জ্বালানি তেলের প্রকৃত পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে।