পশ্চিমা প্রস্তাবিত ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্যারিসে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানান, ইউক্রেনের ২৬ মিত্র দেশ যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গেই স্থল, নৌ ও আকাশপথে সেনা পাঠানোর অঙ্গীকার করেছে। এ পরিকল্পনা প্রকাশের পরপরই এটি নাকচ করল মস্কো। খবর বিবিসি।
এ বিষয়ে সতর্ক করে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে মোতায়েন করা বিদেশী সেনারা রাশিয়ার ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’তে পরিণত হবে। এমনকি এখনই সেনা দেখা দিলে রাশিয়ার টার্গেটে পড়বে।
যদিও মাখোঁ জোর দিয়ে বলেছেন, এসব সেনা ফ্রন্টলাইনে নয়, বরং নতুন আক্রমণ ঠেকাতে কাজ করবে। ফ্রান্সে আয়োজিত ৩৫ দেশের ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ শীর্ষ সম্মেলনের পর তিনি আরো জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সমর্থন ঘোষণা করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে অংশ নেবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন সহায়তা সম্ভবত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আসবে। তার পুতিনের সঙ্গে ‘খুব ভালো সংলাপ’ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শিগগিরই তিনি আবার পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন।
আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুতিন বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য যদি কোনো সমাধান হয়, তাহলে বিদেশি সেনার উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন নেই। সেইসঙ্গে মস্কোয় শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। যদিও জেলেনস্কি একে রসিকতা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নিরপেক্ষ কোনো রাজধানীতে বৈঠক চান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেন ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েন ইস্যুতে বরাবরই আপত্তি ছিল রাশিয়ার। সে অবস্থানে এখনো অনড়ই রয়েছে তাদের অবস্থান। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রচেষ্টাকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার উসকানি হিসেবে দেখছেন ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। মস্কো সাফ জানিয়েছে দিয়েছে, ইউক্রেনে পশ্চিমা সেনা মোতায়েন কোনোভাবেই মেনে নেবে না তারা। প্রয়োজন হলে মস্কোই কিয়েভের নিরাপত্তা রক্ষাকারী হবে—এমন দাবিও তুলেছে তারা!
স্বাভাবিকভাবেই কিয়েভ ও তার মিত্ররা সরাসরি এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার এ অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট। এ ইস্যুতে রাশিয়ার মতামত অগুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
ইউরোপীয় মিত্ররা বলছে, চুক্তি হলে সেনা পাঠাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। যদিও অনেক দেশ প্রকাশ্যে সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ইউক্রেন ও তার মিত্ররা মনে করে, যেকোনো বৃহত্তর শান্তি চুক্তি কার্যকর করার আগে যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করা উচিত, যদিও রাশিয়া এতে একমত নয়। মস্কো বলছে, পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি ছাড়া শুধু যুদ্ধবিরতি কোনো সমাধান নয়।










