ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর কারণে গতবারের মতো এবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউ ইয়র্কে যেতে পারবেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। খবর আল জাজিরা।

স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেয়া সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করে চলা কর্মকাণ্ডের কারণে পিএলওর সদস্য ও পিএর কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হবে।

এতে দাবি করা হয়েছে, সরাসরি আলোচনার বাইরে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ, ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অর্থ দিয়ে মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেছে পিএ।

তবে জাতিসংঘ সদর দফতর চুক্তির আওতায় পিএর জাতিসংঘ মিশনের জন্য বিদ্যমান ছাড় বহাল থাকবে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারলেও মিশনের নিয়মিত কর্মীরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মাহমুদ আব্বাসের ভাষণে ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়ার দাবি এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

চলতি মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার পর এ বিষয়ে নতুন অগ্রগতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়েও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের কথা ছিল।

এদিকে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তার ওপর একই ধরনের মার্কিন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই।

গত বছর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউ ইয়র্কের সদর দফতরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতার অংশ। ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরায়েলি নেতাদের ছাড় দেয়ায় আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওয়াশিংটনের ঘোষিত অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।