দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলোতে চলছে চরম আবহাওয়া। চরম তাপমাত্রায় ভারতের দক্ষিণে হিটস্ট্রোকে মারা গেছে নয় জন। একই সঙ্গে ভারত এবং বাংলোদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়। দুই একদিনের মধ্যেই আঘাত হানবে এটি। 

একদল আন্তর্জাতিক গবেষকের দাবি, মানবসৃষ্ট কারণে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটের কারণে গত মাসে এশিয়ায় চরম তাপমাত্রা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

সাধারণত মে মাসে ভারতের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে। তবে বিজ্ঞানীদের অনুমান অনুযায়ী, এ বছর ভারতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। এছাড়া, এ বছর ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও অন্যান্য বছরের তুলনায় কম । তাপপ্রবাহ বৃদ্ধিতে দূর্বল হয়ে আসলেও সক্রিয় থাকা এল নিনোর প্রভাবকেই দায়ি করছেন তারা। 

স্থানীয় গণমাধ্যমের দেয়া তথ্য মতে, ভারতের রাজস্থানে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন নয় জন, রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। 

তবে রাজ্যটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, মেডিকেল পরীক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়ায় তারা এখনো মুত্যুর  কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি।

দেশটির আবহাওয়া কর্মকর্তারা রাজ্যের অনেক অংশের পাশাপাশি পাঞ্জাব ও হরিয়ানার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে তাপপ্রবাহ থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ পর্যন্ত পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

উল্লেখ্য, ভারতীয় আবহাওয়া কর্মকর্তারা সমতল ভূমিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থেকে কমপক্ষে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহের সীমা নির্ধারণ করে।

দক্ষিণ ভারতের কেরালায় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ ভারী বৃষ্টিপাতে এই সপ্তাহে কমপক্ষে সাত জন মারা গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে দেশটিতে বন্যা পরিস্থিতি চলছে।  কিছু এলাকায় ফ্লাইট সময়সূচী ব্যাহত হয়েছে।

রাজ্যটির আবহাওয়া দপ্তর রেড এলার্ট জারি করেছে যে কেরালায় শুক্রবারও খুব ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের  জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানায়,  বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের প্রায় ২৬টি জেলায়  তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল। এই তাপমাত্রা ৩০ মে  পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশের অন্তত দুটি শহরে  শুক্রবার (২৪ মে) তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কায় স্কুলগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। 

এদিকে আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রেমাল  আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।রোববার (২৬ মে) নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে।  

শুক্রবার (২৪ মে)  বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সতর্কবার্তার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিম্নচাপটি  শুক্রবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।