শুক্রবার সাইবার হামলার পর ইউরোপের কয়েকটি বড় বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন ও বোর্ডিং ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এতে লন্ডনের হিথ্রো, জার্মানির বার্লিন ব্র্যান্ডেনবুর্গ ও বেলজিয়ামের ব্রাসেলস বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সোমবার অর্ধেক ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাসেলস বিমানবন্দর। খবর রয়টার্স।

এদিকে, ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্তে শনিবার যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। দীর্ঘ লাইন, ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে অনেকে সমস্যায় পড়েন। রোববার বার্লিন ও হিথ্রোতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ব্রাসেলসে এ সমস্যা চলমান ছিল।

ব্রাসেলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববারের ২৫৭ ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি বাতিল হয়। আগের দিন ২৩৪ ফ্লাইটের মধ্যে ২৫টি বাতিল হয়েছিল।

সোমবার ভোরে আরটিএক্সের মালিকানাধীন কলিন্স অ্যারোস্পেস জানায়, তারা চারটি বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে তারা পুরো কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার জন্য সফটওয়্যার আপডেটের শেষ ধাপে আছে। তবে ব্রাসেলস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপদ আপডেটেড সংস্করণ এখনো সরবরাহ করা হয়নি। তাই সোমবারের নির্ধারিত উড্ডয়নের অর্ধেক বাতিল করতে হয়েছে।

ব্রাসেলস বিমানবন্দর জানায়, রোববারের ২৫৭টি নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি বাতিল করা হয়। আগের দিন ২৩৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ২৫টি বাতিল হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আরটিএক্স জানিয়েছে, সমস্যার সমাধান দ্রুত করার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে ম্যানুয়াল চেক-ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও বিকল্প ব্যবস্থা চালানো সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, তাদের এমইউএসই সফটওয়্যার আক্রান্ত হয়েছে, যা কয়েকটি এয়ারলাইনের ব্যবহৃত।

অ্যাভিয়েশনের তথ্য সংক্রান্ত সংস্থা সিরিয়াম জানায়, হিথ্রোতে বিলম্ব ছিল সীমিত। বার্লিনে মাঝারি ও ব্রাসেলসে উল্লেখযোগ্য।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বলছে, হামলার উৎস তদন্ত করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য, গাড়ি নির্মাণ ও খুচরা ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় এবং মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার শত শত মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির মুখে পড়ে।