পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আগের দুজন স্ত্রীর তুলনায় বুশরা মানেকা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্রিটিশ সমাজকর্মী জেমিমা গোল্ডস্মিথ ও সাংবাদিক রেহাম খান উভয়েই ছিলেন গ্ল্যামারাস। বিভিন্ন সাময়িকী ও টেলিভিশন পর্দায় তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। কিন্তু বুশরা সবসময় পর্দার আড়ালেই থেকেছেন। খবর বিবিসি।

বস্তুত ইমরান খান ২০১৮ সালে ডেইলি মেইলকে গর্ব করে বলেছেন, বিয়ের আগে আমার স্ত্রীর মুখ দেখিনি। এটি এমন একটি কথা যা গত শতাব্দীর আশির দশকে অকল্পনীয় ছিল। সে সময় তিনি লন্ডনের নৈশক্লাবগুলোয় নিয়মিত যেতেন।

তিনি বলেছিলেন, বুশরার বুদ্ধিমত্তা এবং চরিত্র তার প্রতি তাকে আকৃষ্ট করে তোলে। কিন্তু এসব নিয়ে মানুষ আসলে কথা বলে না, বরং তার রহস্যময় ভূমিকার প্রতিই সবার আগ্রহ।    

বর্তমানে তিনি বুশরা বিবি নামে পরিচিত। ইমরান খান তাকে আধ্যাত্মিক উপদেষ্টার মতো সম্মান করেন।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) এ দম্পতি একটি দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ড পেয়েছেন এবং উভয়কে ২০ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করা হয়েছে। এ সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে পাঠকরা বুশরা বিবির নাম গুগলে অনুসন্ধান করে তার সম্পর্কে আরো জানতে চাইছেন।

বুশরা বিবি সুফি ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অনেকেই দাবি করেন। কিন্তু এটি নিয়ে কেউ কেউ আপত্তি জানিয়েছেন।  

ইমরান খান ১৯৯৫ সালে ৪৩ বছর বয়সে ২১ বছর বয়সী জেমিমা গোল্ডস্মিথকে বিয়ে করেন। এ বিয়ে ৯ বছর টিকেছিল এবং তাদের ঘরে দুজন পুত্র রয়েছে।

২০১৫ সালে ইমরান খান দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পাত্রী ছিলেন সাংবাদিক রেহাম খান। এ বিয়ে এক বছরেরও কম সময় টেকে।

২০১৮ সালে সাদামাটাভাবে তিনি বুশরা বিবিকে বিয়ে করেন।

গুঞ্জন রয়েছে ১৩ শতকে নির্মিত একটি সুফি মসজিদে পাঁচ সন্তানের জননী বুশরার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। সে সময় তিনি তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।

এটিও গুঞ্জন রটে যে বুশরা বিবি স্বপ্ন দেখেন যদি তারা বিয়ে করেন, তাহলে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। এ জন্য তারা বিয়ে করেন।

৪০ বছর বয়সী বুশরা বিবি ২০১৮ সালের অক্টোবরে এক টিভি সাক্ষাৎকারে এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দেন।