রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির মৃত্যুর জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দোষারোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল করবেন না, নাভালনির মৃত্যুর জন্য পুতিন দায়ী।’ একই সঙ্গে এ ঘটনার ‘অবিলম্বে তদন্ত’ দাবি করেছেন। খবর বিবিসি ও আনাদোলু এজেন্সি।
রাশিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ইয়ামালো-নেনেটসের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা গেছেন পুতিনের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনি। জালিয়াতি, চরমপন্থীদের সমর্থন দেয়াসহ একাধিক মামলায় ২০ বছরেরও বেশি সাজা ভোগ করছিলেন তিনি।
নাভালনির মৃত্যু নিয়ে বাইডেন বলেন, ‘নাভালনির সঙ্গে যা ঘটেছে তা পুতিনের বর্বরতার প্রমাণ। নিজের লোকদের ওপরই ভয়ানক অপরাধ ঘটাচ্ছেন পুতিন। প্রতিবেদনে নাভালনির মৃত্যুর যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন বাইডেন। তিনি বলেন, ‘(নাভালনির সঙ্গে) ঠিক কী ঘটেছে তা জানি না। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পুতিন ও তাঁর কিছু গুন্ডার বর্বরতার কারণেই নাভালনির মৃত্যু হয়েছে।’
এ সময় নাভালনিকে ‘সাহসী ও নীতিবান’ হিসেবে আখ্যা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আইনের শাসন রয়েছে এমন এক রাশিয়া গড়ে তোলার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন নাভালনি।
এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নাভালনির মৃত্যুর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যখন কেউ কোনো রাষ্ট্রে কারাবন্দী অবস্থায় মারা যান, তখন সেটার ঝুঁকি কিংবা দায়ভার রাষ্ট্রকে নিতে হয়।
অন্যদিকে নাভালনির মৃত্যুর ঘটনায় রুশ সরকারকে দায়ী করেছে যুক্তরাজ্য। গতকাল যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাসের কূটনীতিকদের তলব করা হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ দায়ভারের বিষয়টি তাদের জানিয়ে দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচক ছিলেন ৪৭ বছর বয়সী নাভালনি। গত এক দশকে রাশিয়ায় বিরোধী নেতা হিসেবে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ২০২১ সাল থেকে কারাগারে বন্দী ছিলেন নাভালনি। গত বছরের শেষ দিকে উত্তর সাইবেরিয়ার ইয়ামালো-নেনেটস অঞ্চলের কারা কলোনিতে নেয়া হয় তাকে। গতকাল সেখানেই নাভালনির মৃত্যু হয়।










