ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সহিংসতায় মধ্য ইরানের ইসফাহান প্রদেশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০ সদস্য এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহ প্রদেশে আরো ছয়জন নিহত হয়েছেন। আর আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত মোট ১০৯ জন নিরাপত্তা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। খবর আল জাজিরা।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশের রাজধানী গোরগানে তাদের একটি ত্রাণ ভবনে হামলার ঘটনায় সংস্থাটির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরো জানায়, শনিবার রাতে পূর্ব ইরানের মাশহাদে একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা জোরদারের মধ্যেই হতাহতের এসব তথ্য প্রকাশ করা হলো। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তথাকথিত ‘দাঙ্গা’ ধীরে ধীরে স্তিমিত হচ্ছে।

শনিবার শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি অভিযোগ করেন, কিছু বিক্ষোভকারী হত্যা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত। এসব ঘটনাকে তিনি আইএসের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেন।

এদিকে চলমান এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’। তারা বলছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহতের বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ। ফলে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ থাকায় প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। বাস্তবে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান (সিএইচআরআই) জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন থেকে তারা ইরানজুড়ে শত শত বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছেন। সংস্থাটি বলেছে, ইরানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। আরো প্রাণহানি ঠেকাতে বিশ্বকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

সিএইচআরআই জানায়, হাসপাতালগুলো মানুষে ভর্তি। রক্তের মজুত কমে যাচ্ছে। অনেক বিক্ষোভকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে চোখে গুলি করা হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ থেকে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এক বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।