জীবন বদলে দেয়া সেই ছুরি হামলার দুই বছর পর প্রকাশ্যে ফিরে এসে বললেন তিনি এখন সেই অধ্যায় পেরিয়ে এসেছেন— এমনই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের নতুন কথাসাহিত্যের আগমনী ঘোষণা দিলেন বুকারজয়ী ঔপন্যাসিক স্যার সালমান রুশদি। খবর বিবিসি।
২০২২ সালে নিউ ইয়র্কে এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে মঞ্চেই ছুরি হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারী হাদি মাতারকে গত মাসে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কিন্তু রুশদি এখন আর সেই ট্র্যাজেডির ভার বহন করছেন না। সেই ঘটনাকে পেছনে ফেলে এসেছেন তিনি।
হে ফেস্টিভ্যালে তার নতুন উপন্যাস নিয়ে আয়োজিত এক আড্ডায় সালমান রুশদি বলেন, ‘ছুরি হামলা নিয়ে সবাই শুধু সেই কথাটাই বলতে চায় যে, ওই ট্র্যাজেডি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি কিনা। কিন্তু আমি সেটা পেরিয়ে এসেছি। আবার কল্পনার জগতে ফিরে যাওয়াটা স্বস্তির।‘
রুশদি আরো জানান, তার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল যখন তিনি ও তার স্ত্রী এলাইজা হামলার স্থানে ফিরে যান। ‘আমি দেখতে চেয়েছি যেখানে একদিন লুটিয়ে পড়েছিলাম সেখানে দাঁড়াতে পারি কি না। নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম।‘
হামলায় সালমান রুশদির এক চোখের দৃষ্টিশক্তি চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লিভার এবং স্নায়বিক ক্ষতির কারণে তার এক হাত আংশিক পঙ্গু হয়ে গেছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমি ভালো আছি। যদিও ডান চোখ না থাকাটা বিরক্তিকর, কিন্তু মোটের ওপর ভাগ্যবানই মনে করি নিজেকে।‘
গত বছর রুশদি প্রকাশ করেন তার আত্মজৈবনিক বই ‘নাইফ’। সেই ভয়াল দিনের স্মৃতি ও প্রতিক্রিয়ার বিবরণ দিয়েছেন সেখানে। বইটিকে তিনি বলেছেন, ‘আমার প্রতিরোধের ভাষা’।
চলতি বছরের নভেম্বরে তার নতুন গল্পসংকলন ‘দ্য ইলাভেন্থ আওয়ার’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এটাই হবে হামলার পর তার লেখা প্রথম কথাসাহিত্য।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘আমেরিকার অবস্থা খুব একটা ভালো না।‘ ওবামা যুগের কথা স্মরণ করে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনের মলে ওবামা ও মিশেলকে ঘিরে মানুষ যেভাবে নেচেছিল, সেই মুহূর্ত থেকে এখনকার এই সময়ে চলে আসাটা হতাশাজনক।‘ তবু ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী— ‘আমার মধ্যে একটা রোগ আছে, আশাবাদের রোগ। আমি ভাবতেই পারি না যে সবকিছু খারাপই হবে।‘
বাকস্বাধীনতা নিয়ে রুশদি বলেন, ‘এর মানে হল এমন কথাও সহ্য করা, যেটা আপনার পছন্দ নয়।‘ একটি চলচ্চিত্রের ঘটনা তুলে ধরেন রুশদি, যেখানে তাকে খলনায়ক হিসেবে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজেই মুভিটির মুক্তির অনুমোদন চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ছবিটা এতই বাজে ছিল যে, কেউ দেখেনি। এতে আমি শিখলাম—ব্যাকুল হয়ে নিষিদ্ধ করতে যাওয়ার বদলে মুক্তি দিন, দর্শকদের ওপর ভরসা রাখুন।‘










